মুঘল সাম্রাজ্য ও উপমহাদেশে বিদআতের আমদানি পর্ব-৪

0
109

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ ফলাফল হল হুমায়ুন পারস্যের শাহের কতৃত্বকে অবজ্ঞা করলেও শিয়া মতবাদের শৃঙ্খল ভেদ করতে পারেন নি৷ শুরু হয়ে যায় আমীর ওমরাহদের পৃষ্ঠপোষকতায় শির্ক ও বিদআতের চর্চা৷ যদিও শিহাবউদ্দীন ঘুরীর পরবর্তী শাসকরা হানাফী ছিলেন এবং তাঁদের অনেকের মধ্যে বিদআত ছিল কিন্তু তা এত প্রকট আকার পায় নি৷ শির্ক পর্যন্ত গড়ায় নি৷ যা শিয়া আমীর ও বাদশাহ হুমায়ুন কর্তৃক হয়েছে৷

সুফীবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়৷ সুফীদের খানকা ও কবর ঘিরে নানা মতবাদ সৃষ্টি হতে থাকে৷ ক্বুরআন- সুন্নাহ বাদ দিয়ে মানুষ নানা সুফী তরীকার পাবন্দ হয়ে ওঠে৷ ইবাদতের নামও পার্সী স্টাইলে পরিবর্তন করা হয়৷ স্বালাত হয়ে যায় নামাজ, স্বওম হয়ে যায় রোজা(অথচ ক্বুরআনের প্রতি বর্ণে ১০ নেকী, স্বালাত বললেই ৩০ নেকী এভাবে)৷

মানুষ মরার পরের বিদআতী অনুষ্ঠান চেহলাম, চল্লিশা, মৃত্যু বার্ষিকী, মহরমের বাড়াবাড়ি ফজিলত(মূসা আ এর বিজয় উপলক্ষে আশুরার ফজিলত রয়েছে), পীর মুরিদী তরীকা সব এ সময়েই উপমহাদেশের সুন্নীদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে৷

হুমায়ুন শব্দের অর্থ সৌভাগ্যবান হলেও বাদশাহ হিসেবে হুমায়ুনের ভাগ্য তেমন প্রসন্ন ছিল না৷ তাই এবারেও বেশীদিন রাজত্ব ভোগ করার আগেই লাইব্রেরীর সিঁড়িতে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন৷ এরপর সিংহাসন লাভ করে তাঁর শিশুপুত্র আকবর৷ আকবরের অভিবাবক নির্বাচিত হন বৈরাম খান৷ যিনি ছিলেন শিয়া৷ আকবর বয়োঃপ্রাপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আকবরের পক্ষে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেন৷ তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শিয়া মতবাদের আচার সমূহ সুন্নীদের মধ্যে আরও ব্যপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে৷

(চলবে)

লেখক -আবু রুমাইসাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here