মুঘল সাম্রাজ্য ও উপমহাদেশে বিদআতের আমদানি পর্ব ৫

0
79

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ হুমায়ুন পুত্র জালালউদ্দীন আকবর বয়োপ্রাপ্ত হলে বৈরামের কর্তৃত্ববাদীতার অবসান ঘটান৷ নিজেই দীর্ঘদিন রাজ্য পরিচালনা করেন৷ সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৫০ বছর রাজত্ব করেন৷ ইউরপীয় ঐতিহাসিকদের কাছে তিনি আকবর দ্যা গ্রেট নামে পরিচিত৷ পশ্চিমবংগের বিখ্যাত সালাফী আলেম আইনুল বারী আলিয়াভীর ভাষায় “লুইচ্চা দ্যা গ্রেট”৷

তিনি প্রথমে সুন্নী মুসলিম বলে পরিচয় দিলেও তিনি মা ও অভিভাবক বৈরামের কারণে শিয়া মতবাদের দিকে আকৃষ্ট ছিলেন৷ পরে রাজপুত রানাদের সংস্পর্শে হিন্দু ধর্মসহ অন্যান্য মূর্তিপূজক ধর্ম বিষয়ে আকৃষ্ট হন৷

এছাড়াও তিনি নিজে নিরক্ষর হলেও ধূর্ত ছিলেন৷ রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করতে তিনি আগ্রহী হয়ে পড়েন৷

তিনি নিজ পাশবিকতা ও উচ্ছৃঙ্খল যৌনতাকে ধর্মীয়ভাবে বৈধতা দানের জন্যেও তিনি ইচ্ছুক ছিলেন৷

তিনি ফতেহপুর সিক্রিতে বিভিন্ন ধর্মের পন্ডিতদের সভা আয়োজন করতে থাকেন৷ অবশেষে তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যান এবং “দ্বীন-ই-ইলাহী” নামে এক জঘন্য ধর্মমত প্রতিষ্ঠা করেন৷ তিনি এ মত গ্রহণ সাম্রাজ্যে বাধ্যতামূলক করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু নানা ঘটনা প্রবাহে একে ঐচ্ছিক করতে বাধ্য হন৷ লোভী সভাসদ বীরবলসহ মাত্র ১৮ জন এ মত গ্রহণ করেন৷

এ ধর্মের সমালোচনা করায় মুসলিম ওলামাদের নির্মম নির্যাতন করা হয়৷ মুজাদ্দিদ আলফে সানী খ্যাত আহমদ হিন্দিকেও নির্যাতন করা হয়৷
(চলবে)

লেখক- আবু রুমাইসা

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here