মুঘল সাম্রাজ্য ও উপমহাদেশে বিদআতের আমদানীপর্ব-১

0
172

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ সুলতান শিহাবউদ্দীন ঘুরি ভারতে মুসলিম শাসনের পত্তন করলেও তার সুফল ভোগ করতে পারেন নি৷ অচিরেই তিনি খোক্কার বিদ্রোহী দ্বারা নিহত হন এবং এর কিছুদিন পরে তাঁর নিযুক্ত শাসক ও ক্রীতদাস কুতুবউদ্দিন আইবেক মামলুক শাসন শুরু করেন৷ মামলুক, খিলজি, লোদী বংশ শাসন করে৷ ১৫২৬ সালে পানিপথের ১ম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্যের সুচনা করেন জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুর৷

বাবুর ১৪৮৩ খ্রীস্টাব্দে রুশ তুর্কিস্তানের ফরগনায় জন্মগ্রহণ করেন৷ তাঁর পিতা ওমর মির্জা ছিলেন ক্ষুদ্র এ রাজ্যের শাসক৷ পিতা মারা যাওয়ার পর ১৪৯৪ সনে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি ফরগনার শাসক হন৷ তিনি সমরকন্দ দখল করে নেন৷ কিন্তু সমরকন্দ অভিযানকালে তিনি চাচা শাইবানী খান কর্তৃক ফরগনার অধিকার হারান৷ ফরগনা পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে তিনি সমরকন্দও হারান৷ ভাগ্যবিড়ম্বিত অবস্থায় তিনি ঘুরতে ঘুরতে ১৫০৪ সালে কাবুলের সিংহাসনের দূর্বলতার সুযোগে কাবুল ও গজনী জয় করেন৷ তিনি পারস্যের শিয়া সাফাভী শাসক শাহ ইসমাঈল এর সহায়তায় পুনরায় সমরকন্দ ও বোখারা দখল করলেও আবারও শাইবানী খান কর্তৃক শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বিতাড়িত হন৷

তিনি ১৫২৬ সালে পানিপথের ১ম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে এবং ১৫২৭ সালে রানা সংগ্রাম সিংহের রাজপুত জোটকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল শাসন পত্তন করেন৷ বাবুর মায়ের দিকে চেংগিজ খান ও বাবার দিকে তৈমুর লং এর বংশদ্ভুত ছিলেন৷ কিন্তু তিনি নিজ জীবদ্দশায় মুঘল বা মোংগল পরিচয় দিতেন না৷ বরং চাগতাই তুর্কী হিসেবে পরিচয় দিতেন৷

ফরগনা হস্তচ্যুত হওয়ার সময় খানজাদে বেগম নামে তাঁর এক বোন শাইবানী খান কর্তৃক বন্দী হন৷ শাইবনী খান খুব উচ্চাভিলাষী শাসক ছিলেন৷ তিনি বিনা প্ররোচনায় সাফাভী সাম্রাজ্যের এলাকায় হামলা করলে ইরানের সাফাভী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শিয়া শাসক ও শিয়া মতবাদের প্রচারক শাহ ইসমাঈলের সাথে তাঁর সংঘাত শুরু হয়৷ যুদ্ধে বেশী সৈন্য নিয়েও শাইবানী খান শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত হন৷ তাঁর চামড়া নগন্য বস্তুতে বেঁধে অটোমান সুলতান বায়েজিদের দরবারে পাঠানো হয়, তাঁর মাথার খুলি শাহ ইসমাঈল এর পানপাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অন্যান্য অংগ প্রত্যংগ বিভিন্ন শত্রু রাজ দরবারে পাঠিয়ে শাহ ইসমাঈল নিজের ক্ষমতা জাহির করেন৷

খানজাদে বেগমকে উদ্ধার করে বাদশাহ বাবুরের নিকট প্রেরণ করেন শাহ ইসমাঈল৷ বাবুরনামায় এ প্রসঙ্গে শাহের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে ও সম্রাট বাবুর শাহের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন৷ কিন্তু শাহ ইসমাঈল এর জীবনীতে লেখা হয়েছে এ ঘটনার পর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বাবুর শিয়া মতবাদ গ্রহণ করে শাহকে চিঠি দিয়েছিলেন৷ যদিও তা প্রমাণিত নয়৷

(চলবে )

সংগ্রহ – আবু রুমাইসা

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here