মোহনপুরে মাদক নির্মূলে ওসি মোসতাক ও এএসআই সিদ্দিকের অভাবনীয় সাফল্য

0
1485
ওসি মোসতাক আহমেদ ও এএসআই সিদ্দিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-

রাজশাহী: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা যখন মাদকের করাল গ্রাসে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে তখন ত্রাতা হিসেবে যুবসমাজকে বাঁচাতে অন্যন্য ভূমিকা পালন করেছে মোহনপুর থানার ওসি মোসতাক ও সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) সিদ্দিক। ফলে রাজশাহীর মোহনপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এক আতংকের নাম ওসি মোসতাক ও এএসআই সিদ্দিক।

মোহনপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোসতাক ও এএসআই সিদ্দিক উপজেলার শতাধিক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছেন। আর এই অভিযানে চিহ্নিত মাদক সম্রাট ল্যাংড়া হাবিব ও বেলাল প্রিন্সিপালের মত গডফাদারদের আটক করেছেন। সেই সাথে জব্দ করেছেন বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য। শুধু তাই নয়, মোহনপুর থানায় ওসি মোসতাক আহমেদ ও এএসআই সিদ্দিক যোগদানের পর উপজেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ মাদক নির্মূল হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মোহনপুর উপজেলা। উপজেলার ঝালপুকুর ও কেশরহাট শাওতাল পল্লির আদিবাসী সাওতাল সম্প্রদায়ের চুলাই মদ তৈরি বন্ধে নিজ অর্থায়নে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করেছেন ওসি মোসতাক। এছাড়া অফিসার ইনচার্জ মোসতাক ও এএসআই সিদ্দিক মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকায় মাত্র কয়েক মাসের ব্যাবধানে উপজেলার শতাধীক স্থানে চুলাই মদ, ফেন্সিডিল, গাজা, ইয়াবা, হেরোইনসহ সকল মাদকের আখড়া শেকড়-বাকড় সহ উপড়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। পরে মাদক সম্পৃক্তদের বুঝিয়ে আলোর পথে ফিরে আসতে পথ দেখিয়েছেন। যা মানবতার এক দৃষ্টান্ত উদাহরণ বলে মনে করছেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গত পাঁচ মাসে মোহনপুর থানায় ১২০ থেকে ১২৫টি নিয়মিত মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট বড় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন মাদক ব্যাবসায়ীকে আলামতসহ আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর মাদক সেবনের দায়ে আটক হয়েছে প্রায় দুইশত মাদকসেবী।

অন্যদিকে ইতিপূর্বে এই উপজেলার অধিকাংশ তরুণ যুবকেরা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে এক এএসআই সিদ্দিকের গ্রেফতার আতংকে হাতে গুনা ২/৪ টি ছাড়া সকলেই মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। তবে উপজেলার চিহ্নিত অধিকাংশ মাদক ব্যাবসায়ী পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এসে এএসআই সিদ্দিকের নজরে থাকায় আতংকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে ঢাকা গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, কেউ ভ্যান রিস্কা চালাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

উপজেলার সাধারন জনগণ জানায়, রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় মাদক সেবীদের কারণে উপজেলার শান্তি প্রায় উঠে গিয়েছিল। মাদক সেবীদের মাদকের টাকা যোগাতে প্রায় প্রতিদিন এলাোয় চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই লেগেই থাকতো। নতুন ওসি ও এএসআই সিদ্দিকের ব্যাপক তৎপরতায় উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে। এছাড়া এএসআই সিদ্দিক মোহনপুর থানায় যোগদানের পূর্বে মাদক ব্যাবসায়ীরা প্রকাশ্যেই তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালাত। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এখন এক আতংকের নাম এএসআই সিদ্দিক।

এ বিষয়ে এএসআই সিদ্দিক বলেন, মাদক নিমূলে আমি ওসি স্যার ও জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করার চেষ্টা করছি। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি স্যারদের নির্দেশনা মেনে কাজ করতে। আর সেই নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করায় এই সাফল্য। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোসতাক বলেন, জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এ থানাকে সব ধরণের অপরাধমুক্ত একটি আদর্শ থানা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগীতায় অল্প সময়ের ভেতরে এই উপজেলাকে মাদক মুক্ত করে গড়ে তুলবো। আগামীতে মাদক বিরোধী সকল অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সাথে কেই সম্পৃক্ত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here