ম্যাজিকাল ফ্রিকিক এর রহস্য

0
223

মেহেদী হাসান বাপ্পী

সময় সংবাদ বিডি ঢাকাঃ এমনভাবে বাঁক খায় কি করে।ফুটবল বাতাসে?

এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোর সেই ফ্রি কিক, আর সুইডেনের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে টোনি ক্রুসের ফ্রি কিকটি?

কিভাবে বলটা বাতাসে এতখানি বাঁক খেয়ে বিপক্ষের খেলোয়াড়দের কে বোকা বানিয়ে গোলে ঢুকে যেতে পারে?

এই ‘সোয়ার্ভিং ফ্রি কিকের’ ব্যাপারটা প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন ১৯৫০এর দশকের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ডিডি। তিনিই প্রথম ব্যাপারটা খেয়াল করেন যে যদি এমনভাবে শট নেয়া যায় যে বলটা ঘুরতে ঘুরতে যাবে – তাহলে বাতাসে তার গতিপথ অনেকখানি বেঁকে যায়।

তখনকার দিনের যে চামড়া দিয়ে ফুটবল বানানো হতো তা খুব পানি শুষে নিতো, ভিজলেই বলটা ভারি হয়ে যেতো। তাই ইউরোপে – যেখানে শীতকালে অনেক বৃষ্টি হয় – সেখানে বল বাতাসে তেমন ঘুরতো না। কিন্তু ব্রাজিলের মত ল্যাটিন আমেরিকান দেশে গরম এবং শুকনো আবহা্ওয়ায় সে রকম সমস্যা ছিল না। তাই এই টেকনিক দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলেই আবিষ্কৃত হয়েছিল।

১৯৬০এর দশকে এক বিরাট পরিবর্তন আসে ফুটবল বানানোর ক্ষেত্রে। এমন সিনথেটিক সামগ্রী দিয়ে বল তৈরি হতে থাকে যা ভিজলেও পানি শুষবে না। তাই কিছুদিনের মধ্যেই ইউরোপের খেলোয়াড়রাও শিখে গেলেন কিভাবে ডিডির মতো বাঁকানো ফ্রিকিক নিতে হয়।

ব্যাপারটার পেছনে আছে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র। একটা ফুটবল যখন বাতাসে ঘুরতে ঘুরতে যায়, তখন তা পেছনের অংশে বাতাসের আলোড়ন তৈরি হয়, আর সামনে ও দু’পাশে বাতাসের চাপের একটা পার্থক্য তৈরি হয় – যা বলের গতিপথকে বাঁকা করে দেয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here