রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

0
289
সময় সংবাদ বিডি-ঢাকাঃ আকাশের এক কোণে বাঁকা চাঁদের হাসি ঈদের জানান দিয়ে যায় সবাইকে। সাথে সাথে বেজে ওঠে বাজি, পটকা সবাই সমস্বরে গেয়ে ওঠে,রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ বা উদযাপন। আর মোবারক শব্দের অর্থ কল্যাণময়। সুতরাং ঈদ মোবারক অর্থ হলো ঈদ বা আনন্দ উদযাপন কল্যাণময় হোক। তাই সবাইকে ঈদ মোবারক। ঈদ মানে আত্মার পরিশুদ্ধি, ধনী-গরিব,উঁচু-নিচু সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সৌহার্দ্য ও সহিংশিতো প্রকাশের এক উদার উৎসব।
এদিনে সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাদের অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করেন। রমজানের রোজা শুরুর দিন থেকেই সিয়াম সাধনার এ মাসে মানুষ তার লোভ লালসা পরিত্যাগ করে দীর্ঘ একমাসব্যাপী রোজা রেখে নিজের আত্মা পরিশুদ্ধ করেন আর এ পরিশুদ্ধি শেষে রমজানের শেষ দিনে সবার চোখে মুখে খুশি ও আনন্দের এক অদ্ভুত তৃপ্তি ভরা হাসি ছড়িয়ে পড়ে।
যে আনন্দ নির্মল, যে আনন্দ টাকা দিয়ে কেনা যায় না, অন্যের খুশি বা আনন্দে নিজের মনের গহীন কোণে শুভ্র শান্তির শীতল স্পর্শ অনুভূত হওয়া এটাইতো ঈদ । এই ঈদকে ঘিরে অনেক আগে থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন জল্পনা,কল্পনা ও প্রস্তুতিপর্ব। রোজার প্রথম দিন থেকেই শপিং সেন্টারগুলোতে ভিড় করে সব বয়সের মানুষ ।দরকষাকষির পর্ব সেরে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, আত্মীয়স্বজনের জন্য অথবা যাকাতের জন্য কিনে নেয় অনেক ধরনের জামাকাপড় অথবা রকমারি উপহার । হয়তো কোনো এক গ্রামের মেহেজাবীন নামের ছোট্ট শিশুটি অপেক্ষা করে থাকে তার বাবার কাছ থেকে সেরা জামাটি পাবার জন্য। আবার মেহেজাবীনের মা অপেক্ষায় থাকে তার বছরের সেরা শাড়িটি পাবার জন্য,আবার অনেক মা-বাবা তার ছেলেমেয়েকে হালুয়া, ফিন্নি, কোরমা রেজালা খাওয়ানোর অপেক্ষায় থাকে। এই টুকরো টুকরো সফেদ অনুভূতির রঙিন প্রস্ফুরণই ঈদ। কেউ কেউ ভিড় এড়ানোর জন্য অনেক আগেই কেনাকাটার পর্ব সেরে ফেলে।আবার কেউ অপেক্ষায় থাকে চাঁদরাতের, যখন চাহিদার তুলনায় জোগান থাকে বেশি এবং অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে মানুষ তার শপিংটুকু সেরে ফেলতে পারে।ইতি মধ্যে অনেকের কেনাকাটা শেষ এখন বাড়ীর পথে ।
এই ঈদকে কেন্দ্র করে যে বাণিজ্য তা পুরো বছরের বাণিজ্যিক মুনাফার থেকে অনেক বেশি । ঈদ মানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক তাকে ঝেড়ে ফেলে, যান্ত্রিকতার শিকল ছিঁড়ে কিছুদিনের জন্য হলেও শেকড়ের টানে ফিরে যাওয়া প্রিয়জনের কাছে। সামাজিক মেলা বন্ধনের অবারিত উৎসবে মেতে থাকার সময় এই ঈদ । ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই হয়তো আমার মতোই বেঁচে থাকার তাগিদেই বা সময়ের প্রয়োজনেই কচুরিপানার মতো অন্য ভুবনে ভেসে বেড়ানো মানুষগুলো প্রস্তুতি নেয় শেকড়ে ফিরে যাওয়ার জন্য। ঈদের দুই একদিন আগেই প্রায় সবাই পৌঁছে যায় তার প্রিয় ভুবন, তার নিজ বাড়িতে।
যেখানে মা-বাবা তার প্রিয় সন্তানকে দেখার অপেক্ষায় থাকেন মলিন মুখা । ঈদের আগের দিন রাত থেকেই পরের দিনের অতিথি আপ্যায়নের সকল ব্যাবস্থা করে রাখার চলে প্রস্তুতি। সারারাত ধরে পোলাও মাংস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুস্বাদু খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকে বড়রাও। তরুণীরা তাদের কাজিনদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায় বাহারি রঙের মেহেদি অথবা রুপসজ্জা মেহেজাবীনের মতো, অথবা কেউ কেউ তার মায়ের সাথে রান্নায় হাত লাগায়। আর তরুণরা বাধভাঙ্গা উচ্ছাসে মেতে ওঠে ঈদের দিনের সকালের বাজার ও আড্ডায়।
স্কুল-কলেজের সকল বন্ধুদের সাথে দেখা করে তাদের সাথে চেনা-সেই পরিচিত মুখখানি, জায়গা গুলোতেই ঘুরতে যেয়ে নষ্টালজিক হতে চায় তারা। সেটা হতেই পারে তার গ্রামের যেখানে গেলেই তার স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে হাজারো স্মৃতি। ডানপিটেপনার শাস্তিস্বরূপ পিঠে লাঠি ভাঙার অনেক ছোট ছোট গল্প। ইটপাথরের শহর ছেড়ে প্রাকৃতিক শ্যামলীমায় প্রাণভরে নি:শ্বাস নেবার উৎসব হচ্ছে এই ঈদ।ঈদের দিন সকালে উঠে গোসল করে নতুন কাপড় পরে সবাই চলে যায় নামাজ পড়তে । সবাই একসাথে সারিবদ্ধ হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করে সবাই সবার জন্য দোয়া করে ঈদগাহের মাঠে। এরপর ধনী-গরিব, শত্রু- মিত্র নির্বিশেষে সবাই সবার সাথে কোলাকুলি করেন।
হয়তো সাব্বিরের সাথে আরফাতের শত বিবাদের নিষ্পত্তি হতে পারে ঈদের এই দিনের কোলাকুলিতেই । অদ্ভূত মহিমায় পরিপূর্ণ এ দিনে হয়তো মৃণালিনীর মায়ের সাথে।আর পাশের বাড়ির বান্ধবীর অপেক্ষায়। এই দিনে ছোটরা কখন বাসায় গিয়ে মজার মজার খাবার খাবে।তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবীর ঈদের নতুন পোশাক,নতুন জুতা দেখবে । সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ ধর্মীয় উৎসব আমাদের মধ্যে থেকে সব হিংসা বিদ্বেষ দূর করে মাতিয়ে দে কচিকাঁচা বিচ্ছুসেনার দল সেলামির অপেক্ষায় থাকে।এ জন্য আগে থেকেই ভাঙিয়ে ছোট ছোট নোটে মানিব্যাগ বোঝাই করে নিয়ে বেড়ায় বড়রা ও প্রিয় জনরা । আর ছোটরা তখন সেলামি পেয়ে মহাখুশিতে আনন্দ মেতে উঠে।
যাহোক এই প্রতিক্ষার অবসানের ঈদের আনন্দময় এই খুশি দিন বেশিসময় মনে স্থান পাচ্ছে না। কারণ আর মাত্র তিন দিন ছুটি।
এই সময় টুকু জেনো আনন্দে উৎসবে ভরে থাকুক সবার মনের মাঝে।
ঈদ মানে আনন্দ,এই প্রত্যাশা ও শুভ কামনা রইলো,ঈদ মানে হাসি,ঈদ মানে সবার সাথে ভালবাসাবাসি।
সম্পাদকীয় কলাম, জসিম ভুঁইয়া

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here