রাজশাহী-৩ঃ নিহত মেরাজুলের সমর্থন দাবি দুপক্ষের, ৫ লক্ষ টাকা অনুদান আয়েনের

0
249

ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-

মোহনপুরঃ রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মোঃ মেরাজুল নামে এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত মেরাজুল (২৪) আওয়ামীলীগের কর্মী বলে দাবি করেছেন এই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এমপি।

আজ সোমবার বাদ আছর নিহত মেরাজুলের জানাজায় উপস্থিত থেকে লাশ দাফন শেষে তিনি এই দাবি করেছেন। এসময় নিহত মেরাজুলের ৫ বছর বয়সি ছেলের নামে ব্যাংক একাউন্টে ৫ লক্ষ্য টাকা এফডিআর অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন আয়েন উদ্দিন।

এর আগে নিহত মেরাজুলের মৃত দেহের কফিন কাধে নিয়ে কবরস্থানে যান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এমপি। দাফন শেষে নিহতের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এদিকে, গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল হক মিলন সময় সংবাদ বিডির কাছে দাবি করে বলেন, মেরাজুল ধানের শীষের কর্মী। তাকে গুলি করেছে নৌকার প্রার্থী আয়েনের তৈরি করা ডিজে বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, ২৪ বছর বয়সী নিহত মেরাজুল মোহনপুর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে।পরিবারে তার মা-বাবা কেউ বেচে নেই। সিফাত নামে তার ৫ বছর বয়সের ছেলে সন্তান আছে। পেশায় সে একজন কৃষক।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সংঘর্ষে নিহত মেরাজুল বিএনপির কর্মী হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে ধানের শীষের প্রচারণা চালায়। গতকাল ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন সকাল ৮ টার দিকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেই প্রথম দফায় নৌকা ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ধানের শীষের সমর্থকদের হামলায় কুটিবাড়ি এলাকার নৌকার সমর্থক শাহীন সহ কয়েকজন আহত হয়। এসময় নিহত মেরাজুল ধানের শীষের পক্ষে হামলায় অংশ নেয়।

পরবর্তীতে প্রায় ঘন্টা খানেক পর সকাল ১০ টার দিকে নৌকা ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বেধে যায়। দ্বিতীয় দফায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় নৌকার সমর্থকদের  লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে শামিম নামের এক বিএনপির কর্মী। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মেরাজুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বিএনপির কর্মীরাই তাকে হাসুয়া দিয়ে কুপাতে থাকে। এসময় মেরাজুলের গলায় নৌকার সমর্থন কার্ড ছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আরও জানা যায়, প্রথম দফার হামলায় অংশ নিলেও পরবর্তীতে সে নৌকায় ভোট দিবে বলে আওয়ামীলীগের সমর্থন কার্ড সংগ্রহ করে গলায় ঝুলায়। এর কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে মেরাজুল নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে নৌকা পক্ষের নির্বাচন পর্যবেক্ষনের কাজে ব্যবহৃত ৩/৪ টি মটোরসাইকে ভাংচুর করে ধানের শীষের সমর্থকরা।

এঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে এলাকার অনেকের সাথে কথা বলে পাওয়া যায় ভিন্ন কিছু তথ্য। তারা বলেন, নিহত মেরাজুল ছিলো মাদকাসক্ত। সে কিছুদিন আগে জেল থেকে বেরিয়ে এলাকায় এসেছে। অর্থের লোভে সে কখন বিএনপির আবার অনেক সময় সে আওয়ামীলীগের সমর্থক বলে দাবি করে থাকে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর এই আসনে নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপি সমর্থীত ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল হক মিলন। পরবর্তীতে ঐ দিন সন্ধ্যায় সময় সংবাদ বিডির কাছে নিহত মেরাজুল ধানের শীষের সমর্থক বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে এই একই দাবি করেছে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামিমুল ইসলাম মুন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here