রাজশাহী-৫ আসনে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জের মুখে দারা, তৃণমূলে এগিয়ে  নাদিম

0
239

এসএম শাহাজামাল,দুর্গাপুর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষনার পর পরই চ্যালেঞ্জে নিয়ে ভোটের মাঠে নামর প্রস্তুুতি নিয়েছে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগের প্রার্থী। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপর) আসনে ক্ষমতাশীল দলের প্রার্থী সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা ভোটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে। দলের হাইকমান্ড থেকে মনোননের গ্রিন সিগন্যালও পেয়েছেন এমপি দারা। যার ফলে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ নিয়ে নৌকার মাঝি হলেন দারা। অন্যদিকে, বিএনপির একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা রয়েছেন।

১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নাদিম এবং ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দারা। এর মধ্যে সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি জোট ভোট বর্জন করায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী দারা।  তবে ক্ষমতাশীল দলের এই প্রার্থী ছাড়াও  আরো চার প্রার্থী রয়েছে ভোটের মাঠে। এছাড়া জাতীয় পাট্রির প্রার্থী রয়েছেন এ আসনে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হবার পর দলের তৃণমূলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান আবদুল ওয়াদুদ দারা। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনের   বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করার পর দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। এছাড়া বির্তকিত নানান কর্মকান্ডে জড়িয়ে ইমেজ সংকটে পড়েছেন তিনি। এবার দলীয় মনোনয়ন নিয়ে লড়ছে দলের আরো চার নেতা। তবে কে পাবেন এই ক্ষমতাশীল দলের টিকিট তা নিয়ে চলছে তৃণমূলে জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার জরিপে উঠে আসছে এবারও ক্ষমতাশীল দলের মনোনয়নে এগিয়ে আছে এমপি দারা।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন সাবেক এমপি তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক, স্বাচিপ নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান-উল-হক মাসুদ।

তবে, এই দলের আরেক নেতা জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ওবায়দুর রহমান । তৃণমূলে তাকে নিয়ে চলছে গুঞ্জন। কিন্তু দলের হাইকমান্ডের নেতাদের কাছে জানা যায় সে বিএনপি পদ প্রদস্ত নেতা ছিলেন। এমনকি সে নাদিম মোস্তফার নিকটতম ও আস্তাভাজন ব্যাক্তি ছিলেন। সে কারণে ক্ষমতাশীল দল থেকে তাকে মনোনয়ন ক্ষৃণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

নির্বাচনী এলাকায় প্রচারপত্র ছড়িয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এখন সক্রিয় রয়েছে ভোটের মাঠে। তবে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন  বর্তমান এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা। এরই মধ্যে দলের হাইকমান্ড থেকে গ্রিন সিগন্যালও পেয়েছেন তিনি।

তৃণমূল নেতারা বলছেন, আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারার সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন আহসান-উল-হক মাসুদ।  সে কারণে দলের কেন্দ্রে থেকে আহসান-হক মাসুদকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে। অন্য দিকে এমপি দারাকে কারন দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিলেন। অন্য দুজনের মধ্যে এমপি বিরোধী শক্ত বলয় তৈরি করে রেখেছেন পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন।

আবদুল মজিদ সরদার বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ঘুরে আসতে হয়েছে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ছাড়িনি। ফলে বিপুল ভোটে দুবার ইউনিয়ন পরিষদ ও একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দলীয় মনোয়নের ব্যাপারে আশাবাদি তিনিও।

অন্যদিকে, কেন্দ্র চাইলে তিনি দলীয় প্রার্থী হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাধ্যমত সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। গণমানুষের প্রতিনিধি হয়ে নৌকার মাঝি হতে চান তিনি। তিনিও আশাবাদি এবার মনোনয়ন পাবেন।

তবে এবারও তিনিই নৌকার প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা। তিনি বলেন, আমি দুই মেয়াদে এমপি থেকে দুই উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এসব বিবেচনায় আমি আশা করি, দল আমাকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবে এবং মানুষ আমাকে আবার নির্বাচিত করবে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক ও ভিত্তিহীন দাবি করেন এমপি দারা।

এ দিকে, টানা ১০ বছর এই আসনের এমপি ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য নাদিম মোস্তফা। ফলে এলাকার তার সমান জনপ্রিয়তা। আসছে নির্বাচনে তিনিই  বিএনপি জোটের প্রার্থী।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, পুঠিয়া-দুর্গাপুরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নাদিম মোস্তফার। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকা ছাড়া। তার পরে নাদিম মোস্তফার জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই আসন উদ্ধারে নাদিম মোস্তফার বিকল্প নেই।

অন্যদিকে, বিএনপির সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফার দাবি, তিনি পুঠিয়া-দুর্গাপুরবাসীর জন্য যা করেছেন তা আর কোনো এমপি করতে পারেননি, পারবেন না। তিনি বলেন, মানুষ এখনও আমার সঙ্গেই আছেন। এখনও কোথাও গেলে কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়। নির্বাচনে অংশ নিতে যে যে প্রস্তুতি থাকা দরকার তা আমার আছে। দল আমাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন।

এদিকে, এ আসনে জাতীয় পাট্রির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও রাজশাহী জেলা সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন। এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, দীর্ঘসময় থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুুতি রয়েছে আমার। কিন্তু জোটগত কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারিনি। এবার জোটের বাইরে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে এবং মনোনয়ন পেলে তিনিই এই আসনে জয়ী হবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here