রাজশাহী-৫: আ.লীগের কোন্দল সমাধানের সম্ভাবনা নেই!

0
47

এস এম শাহাজামাল,দুর্গাপুর :

রাজশাহী-৫(পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দল সমাধানের কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।এমনকি কোন্দল সমাধানের কোন উদ্যোগও নেই আওয়ামীলীগ নেতাদের। একাশদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ক্ষণ হচ্ছে। ততই দলীয় কোন্দলের তিক্ততা বাড়ছে। এখনো দলীয় কোন্দলের ইতি টানতে ব্যাথ আওয়ামীলীগের নেতারা। এমন অভিযোগ উপজেলা তৃণমূলের আওয়ামীলীগ নেতাদের।

দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি সূত্রে জানা যায়,২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ দারা আসনটিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দি¦তায় এমপি নির্বাচিত হন। নিবার্চনের পরে এমপি নিজের খেয়াল খুশি মত কাজ করে চলেছে। এমনকি তৃণমূলের নেতাদের কোন মূলায়নও করেনি। সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলের নেতাদের সাথে দূরুত্ব।

এদিকে, ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনের আগে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদার দলের তৃণমূলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান। এছাড়া বির্তকিত নানান কর্মকান্ডে জড়িয়ে ইমেজ সংকটে পড়েছেন তিনি। এর পর ২০১৪ সালের ১৫ মার্চ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। এ নির্বাচনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরকারকে বাদ দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়। উপজেলা নির্বাচনের পর সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদারকে স্থানীয় নেতাদের সাথে আরো দূরত্ব বেড়ে যায়। নির্বাচনের পর থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাথে টানাপড়া শুরু হয়। এর পর  গত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়।এ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা শক্ত বোলয়ের পরিচয় দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বরের জেলা পরিষদের নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন্দলের প্রকাশ ঘটে । আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনর মনোনিত প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান ভুলুর বিদ্রোহীতা করায় দলীয় কোন্দলের তিক্ততা বেড়ে যায়।  জেলা পরিষদের এ নির্বাচনে শক্ত বিদ্রোহি প্রার্থীর সমর্তন নিয়ে মাঠে নামে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার। নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটের প্রস্তাব নিয়ে প্রথম আসে দুর্গাপুর পৌরসভায়। উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে ছিটকে পড়ার পর সুকৌশলে দুর্গাপুর তার প্রথম প্রবেশ। সেখান থেকে জেলা পরিষদের বিদ্রেীহি প্রার্থীর নির্বাচনের অবস্থান নেয়। নিজ দলীয় নেতাকর্মীর মধ্যে ভুল ভাল বুঝিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ নিজের হাতে নিয়ে নেয়। তার পর থেকে এ আসনে আওয়ামীলীগের কোন্দলের বহিপ্রকাশ ঘটে। এর পর গত এক বছরে আওয়ামীলীগ এ আসনে নিজেদের মধ্যে বেশ কয়েক বার সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। শুধু তাই নয় দলীয় কোন্দল শীষে ছিল আসনটির নেতাকর্মীরা।  ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর এ আসনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের মধ্যে দলীয় কোন সমনয় দেখা যায়নি। শুধু তাই নয় এ উপজেলায় সরকারি কিংবা দলীয় কোন অনুষ্টানে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে এক মঞ্চে দেখা যায়নি। নিজেদের কোন্দলে ফলে একই অনুষ্টানের দুটি মঞ্চও দেখা গেছে এ উপজেলাতে।

সূত্রটি আরো জানায়,জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার উপজেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন্দলের জন্মই শুধু দেননি। তিনি দিনে দিনে আসনটিতে এমপি নির্বাচনের প্রার্থীতার বহিপ্রকাশ দেন। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীর মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করেছে। তেমন ভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও করেছে বিভ্রান্ত। এতে এ আসনে ইমেজ সংকটও পড়েছে আওয়ামীলীগ।

দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন,গত শনিবার সংকট নিরসনের উপজেলার আওয়ামীলীগের সকল ওয়ার্ডের নেতাকর্মীকে আহব্বান করে। সেখানে বর্তমান আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। উভয়ের মধ্যে বিভেদ ভুলে এক সাথে কাজ করার অঙ্গিকার করেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন তার পর থেকে মনোনিত প্রার্থীকে  আমাদের কাছে আসতে দেননি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন। সে নিজের ইচ্ছে মত প্রার্থীকে নিয়ে যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। তার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আগামী ১০ তারিখ থেকে নিজের ইচ্ছায় নৌকার জয়ের জন্য মাঠে থাকবো।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সংকট বা কোন্দল  নিরসনে আমরা উদ্যোগতা রয়েছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তা সমাধান করা হবে। তবে ইতি মধ্যে আমরা সভাপতির সাথে ফোন আলাপ করেছি। সে আগামী ৮ অর্থাৎ আজ জানাতে চেয়েছে। তবে কেউ আওয়ামীলীগ নির্বাচনের বাহিরে থাকবে না।

জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, আওয়ামীলীগ কারও বাপের নয়। যার জনসমর্থন বেশি আছে নেত্রী তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন আমরা সবাই মিলে নৌকার বিজয়ের লক্ষে কাজ করবো। নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে কাজ করা উচিত বলে জানান মজিদ। মজিদ কোন্দল নিরসনে বাধা দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ মিথ্যা। যারা এমন কথা বলছেন তারা ঘরে বসে থেকে। আমরা সবার সাথে কথা বলছি যোগাযোগ অব্বাহত রেখেছি।

রাজশাহী-৫(পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন,“ আমি নির্বাচনের মাঠে আছি নৌকার বিজয়ের লক্ষে। সকল নেতাকর্মীকে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোন বিভেদ নেই। নৌকার জয় হবেই ইনশাল্লা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here