রাজিবের পরিবারের পাশে দাড়ালেন  আওয়ামীলীগ নেতা রাসেল

0
826

 

জসীম ভুঁইয়া, সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকা: রাজধানীতে বাসের চাপায় নিহত রাজিবের পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগীতার হাত  বাড়িয়ে দিলেন, বাউফলের তরুণ রাজনীতিবিদ ও  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্নেহভাজন  আওয়ামীলীগ নেতা যোবায়দুল হক রাসেল।

বাউফলের তরুণ এই নেতা নিহত রাজিবের সপ্ন পুরনে এগিয়ে এসে তার ছোট দুই ভায়ের পড়ালিখার খরচ বাবদ প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগীতা করবেন বলে সময় সংবাদ.কমকে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার দরিদ্র পরিবারে বড় ছেলে রাজিব রাজধানীতে এসে কলেজে পড়ালিখার পাশাপাশি টিউশনি করে তার ছোট দুই ভাই মেহেদি ও হাসানের পড়ালিখাসহ সবকিছু দেখাশুনা করত। পরিবারের তিন সন্তান রেখেই বাবা মা চিরতরে বিদায় নেয়ার পর থেকেই বড়ছেলে রাজিব ভাইদের নিয়ে বেচে থাকার সপ্ন দেখতেন।

বর্তমানে তার মৃত্যুর পর পরিবারের ছোট দুই ভাই এতিম ও অসহায় হয়ে পড়েছে।

দেশব্যাপী আলোচিত এই বিষয়টি অনেকটায় বেদনাদায়ক হওয়ায় তার ছোট দুইভাইয়ের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে কিছুটা সহযোগীতা করার চেস্টা করবেন বলে তিনি যানান।

সরেজমিনে জানা যায়,  মাত্র ৮ বছর বয়সে মা আর ১৪ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর কষ্ট বুকে  চাপা দিয়ে জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল রাজীব। দুঃখ-দুর্দশার মাঝেও সেই যুদ্ধে হারেনি কখনো। কিন্তু এবার তাকে হারতে হলো!  সবাই তাকে হারালো।

সবাইকে কাঁদিয়ে চলেই গেল রাজীব। তাকে হারিয়ে শুধু স্বজনরাই নয়, কেঁদেছেন সাধারণ মানুষ। চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা কান্না করেছেন বাচ্চাদের মতো।

সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিতুমীর কলেজের মেধাবী এই ছাত্র রাজীব হোসেন।

গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার সংলগ্ন সার্ক ফোয়ারার পাশে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন নামে দুই বাসের হিংস  প্রতিযোগিতায় হাত হারায় রাজীব। যে প্রতিযোগিতা মুহূর্তেই কেড়ে নেয় রাজীবের বেঁচে থাকার অবলম্বন, স্বপ্ন গড়ার হাতিয়ার ডান হাতটি।

এরপর  তার বিচ্ছিন্ন হাতসহ তাকে নেওয়া হয় শমরিতা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু কোথাও বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। গঠন করা হয় চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। ঢামেকের আইসিইউতে ক্রমেই সে সুস্থ হয়ে উঠতে লাগছিল।

হাত হারালেও ওই সময় মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ায় মস্তিষ্কের সামনের অংশে রক্ত ও পানি জমে যায়। টানা পাঁচ দিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৯ এপ্রিল চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন পরের দিন আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করবেন। কিন্তু তার আগেই সবাইকে শঙ্কায় রেখে রাজীবের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ওয়ার্ডের বদলে তাকে দেওয়া হয় লাইফ সাপোর্ট। এরপর এক সপ্তাহ লড়ে হেরে যান মৃত্যুর কাছে।

রাজীব ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। এ জন্য ছোট বেলা থেকেই সহপাঠীরা বলত তাকে ডাক্তার হতে। তারও স্বপ্ন ছিল এটি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মা-বাবাকে হারিয়ে অসহায় রাজীব সেই স্বপ্নকে আর ধরে রাখতে পারেননি। একদিকে অর্থাভাব, অন্যদিকে অসহায় ছোট দুটি ভাই। সব কিছু মিলিয়ে রাজীব নিজের স্বপ্ন ত্যাগ করে ছোট ভাইদের জন্য স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

তিনি পটুয়াখালীর বাউফলের ফজলুল হক কলেজে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিলেন। এখান থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করতে আরও তিন বছর লাগবে। ছোট ভাইদের কথা চিন্তা করে দ্রুত একটি ডিগ্রি নিয়ে সরকারি চাকরির আশায় ভর্তি হয়েছিলেন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে। সেখানেও সে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিলেন। আর এক বছর পর পরীক্ষা শেষে একটা চাকরি নেওয়ার আশায় ছিলেন। তার আগেই সব আশা নিরাশায় পরিণত হলো।

রাজীবের খালা জাহানারা বেগম বলেন, কখনো ভাবতে পারিনি রাজীব মারা যাবে। সর্বশেষ আইসিইউতে যে দিন নেওয়া হয় সেদিনও রাজীব স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলেছে। তাকে নিজ হাতে জুস খাইয়েছি। লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগ পর্যন্ত রাজীব বেঁচে যাবেন বলে ধরে নিয়েছিলাম। বাবা-মা হারানো রাজীব ছোট দুই ভাই মেহেদি ও হাসানকে নিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখত। তিতুমীর কলেজে নিজের পড়াশোনা, টিউশনি ও কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ও টাইপিংসহ বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালাত। তার কষ্টের টাকায় ছোট দুই ভাই পড়াশোনা করত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here