রাজ টেক্সটাইল মিলস-এর শ্রমিকরা নায্য বেতন-এর দাবিতে বিক্ষোভ

0
307

DSCN7325

মো: সেলিম হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি

যশোর : নওয়াপাড়ায় রাজ টেক্সটাইল মিলস্-এর শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির নামে বার বার মিথ্যা আশ্বাস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার রূঢ় ব্যাবহারের কারনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এতে প্রায় ৪ ঘন্টা মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকে। শনিবার সকাল ১০ টার সময় মিলের ফ্যাক্টরী ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ রত শ্রমিক ও কতৃপক্ষের সাথে আলা কালে জানা যায়, বিগত ৩ বছর যাবৎ শ্রমিকরা তাদের নায্য বেতন-এর দাবিতে আবেদন ও বিক্ষোভ করে আসছেন। মালিকের আস্থাভাজন প্রশসনিক কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার লিলি শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে আসছে। উৎপাদনে লক্ষমাত্রা প্রতিদিন ৫ টন নির্ধারিত করে দিলে সকল শ্রমিক মাথা পেতে নেন এবং লক্ষমাত্রা প্রতিদিন ৬ টন থেকে সাড়ে ৬ টনে উন্নীত করে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জন হলেও বেতন বাড়েনি অসহায় শ্রমিকদের।

পূর্বের ন্যায় গত ১৩ মে বুধবার সকালে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা মিল কর্তৃপক্ষের নিকট মৌখিক আবেদন জানালে প্রশসনিক কর্মকর্তা সবাইকে লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেন। শনিবার প্রত্যেক শ্রমিক লিখিত আবেদন জমাদেন। শনিবার সকাল ৯ টার দিকে শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির কথা কর্মকর্তাদের নিকট জানতে চাইলে তাদের কে প্রশসনিক কর্মকর্তার পাপিয়া আক্তারের সাথে কথা বলতে বলা হয়। কয়েক জন মহিলা শ্রমিক প্রশসনিক কর্মকর্তার নিকট তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির কথা জানতে চাইতে সঠিক উত্তর না দিয়ে তাল বাহানা করতে থাকেন এবং তাদের সাথে রূঢ় ভাষা ব্যবহার করেন। এ সময় শ্রমিকরা তার ব্যবহারে হতাশা গ্রস্থ হয়ে কারন জিজ্ঞাসা করলে, উল্টো ক্রোধ ভরা দৃষ্টিতে বলেন বেতনে না পোষালে কাজ ছেড়ে দাও, নতুন শ্রমিক নেয়া হবে।

এ ঘটনা শ্রমিকদের মাঝে প্রচার হলে সকল শ্রমিক তাদের কাজ বন্ধ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তাদের দাবি আদায়ে মুহুর্মুহ স্লোগান দিতে দিতে প্রশসনিক কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার লিলি কে অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সাথে সাথে কতৃপক্ষ থানা প্রশাসন কে খবর দিলে প্রশাসনের একটি টিম মিল অভ্যন্তরে পৌছান এবং তাদের মধ্যস্ততায় প্রশসনিক কর্মকর্তা কে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করে শ্রমিকদের বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসার তাগিদ দেন। এক পর্যায়ে মিল কতৃপক্ষ ও শ্রমিক একত্রে আলোচনায় বসেন ও উভয় পক্ষ দীর্ঘ আলোচনার পর আগামি শনিবার মালিকের উপস্থিতে সমস্যার সমাধান করা হবে জানালে মালিক পক্ষের এই জোরালো আশ্বাসে ৪ ঘন্টা পর শ্রমিকরা পুনরায় মিলের কার্যক্রম শুরু করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here