শুক্রবার , ১৭ নভেম্বর ২০১৭
ব্রেকিং নিউজ

রুমি সোসাইটির মসনভি পাঠের আসর “বাঁশরি কেন কাঁদে”

News_IMG_3197

স্টাফ রিপোর্টার,সময় সংবাদ.কম–

ঢাকাঃ বিশ্ববিখ্যাত সাধক ও দার্শনিক কবি মৌলানা রুমি (রহ.) রচিত মসনভি পাঠের ২৫তম আসর গত ২৮ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার ঢাকার বারিধারাস্থ ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) এর কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজিত এই আসর ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এস আর হিলালী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউআইটিএস এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান। শুরুতে মসনভি শরিফ থেকে পাঠ করেন মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ভূঞা। পঠিত অংশের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও আলোচনা করেন বিশিষ্ট মসনভি গবেষক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আল্লামা রুমি সোসাইটির গবেষক মুহাম্মদ ওমর ফারুক। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউআইটিএস এর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও স্কুল অব বিজনেস এর ডীন প্রফেসর ড. সিরাজ উদ্দীন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, আমেরিকায় সফরকালে একটি পত্রিকার প্রতিবেদনের শিরোনাম দেখেছিলাম ‘আমেরিকায় রুমির রাজত্ব’। এ থেকে অনুমান করা যায়, পাশ্চাত্য জগতে রুমির চিন্তাধারা কীরূপ কালজয়ী। বিশেষ করে পাশ্চাত্যের তরুণ মানসকে মৌলানা রুমির প্রেমদর্শন জয় করে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৌলানা রুমির দর্শনের সাথে ঘনিষ্ট হতে পারলে আমরা আলোকিত হতে পারব, জ্ঞানে সমৃদ্ধ হব, মনের ঐশ্বর্যে বলিয়ান হব। আমাদের পারিবারিক জীবন শান্তিময় হবে এবং আল্লাহর সাথে আমাদের হৃদয়ের বন্ধন মজবুত হবে। কাজেই আমরা মসনভি পাঠের আসরকে ইউআইটিএস এর স্থায়ী প্রোগ্রাম হিসেবে পরিচালনা করব।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক ড. এস আর হিলালী বলেন, আমি মৌলানা রুমিকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি; কিন্তু নিজস্ব সীমাবদ্ধতার কারণে রুমির প্রেমের জগতে প্রবেশ করতে পারি নি। মৌলানা রুমি রূহের জগত হতে মর্ত্য জগতে মানুষের আগমন, আবার সেই জগতে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার ক্রন্দনকে গল্পের আকারে কাব্যমহিমায় ব্যক্ত করেছেন, যা মানুষকে আল্লাহর প্রেমে আকুল করে তোলে। রুমিকে নিয়ে চর্চার ফলে শুধু মুসলিম সমাজ নয়; বরং বস্তু তাড়িত আজকের গোটা বিশ্বের মানব সমাজ শান্তিময় ও প্রেমময় জীবনের সন্ধান পাবে।
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, মানুষ হিসেবে প্রতিনিয়ত আমরা এক প্রকার শূণ্যতা, অসঙ্গতি, হাহাকারে ভূগছি। মৌলানা রুমি এখানে মানব মনের অনুভূতিকে শানিত করে আল্লাহর প্রেমের আগুন জ্বালিয়েছেন। ২৬ হাজার শ্লোকের মসনভি শরিফ সেই প্রেমের মহাকাব্য। মসনভিতে তিনি কুরআন-হাদিসের শিক্ষাসমূহকে গল্পাকারে তুলে ধরে আল্লাহ প্রাপ্তির পথ দেখিয়েছেন। এ কারণে মসনভিকে ফারসি ভাষার কুরআন মাজিদের ভাষ্য নামে আখ্যায়িত করা হয়। আজকের দিনে আমরা মসনভিকে নিয়ে যত বেশি চর্চা করব, মন ও মননের দিক থেকে আমরা তত বেশি সমৃদ্ধ হব। বিদ্বেষ ও হানাহানিতে পূর্ণ সমাজে ভালোবাসার বাতাবরণ সৃষ্টি হবে।
ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী বলেন, মসনভিতে আল্লামা রুমি মানুষের রুহের খোরাক যুগিয়েছেন। আল্লাহর প্রেমের আগুন জালিয়ে অন্তরকে নিখাদ করেছেন। তিনি সুফি দর্শনের মূল কথার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সুফিদের কাছে নামায ও ইবাদত আদায় হওয়ার চেয়ে কবুল হওয়াই মুখ্য। সৃষ্টি জগতে বিরাজমান আল্লাহর রহমতের সাথে মানব হৃদয়ের সংযোগ এবং যোগসূত্রে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনই সুফি দর্শনের মূলকথা।

Print Friendly