র‌্যাব খুঁজে বের করেছে যুবলীগ নেতা খালেদের টর্চার সেল

0
198

জসিম ভুঁইয়া,সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা:রাজধানীর অভিজাত সব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চলছে রমরমা ক্যাসিনো বাণিজ্য। এসব ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরে উড়তো অবৈধ টাকা। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের মালিকানায় পরিচালিত এসব ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পাঠানো হতো পুলিশ কর্মকর্তা সহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের। যার ফলে দিনকে দিন ঢাকায় বিস্তার লাভ করে অবৈধ এই ব্যবসা। তবে এতদিন নজরে না এলেও এখন নড়েচরেই বসেছেন প্রশাসন।

এইদিকে যুবলীগ গ্রেফতার হওয়ার পর নেতা খালেদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার গুলশানের বাসায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের সময় তার বাসা থেকে একটি অবৈধ ও দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ অস্ত্র এবং ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা,গুলশান, বনানী,বারিধারা,মতিঝিল,ফকিরাপুল, ক্লাবপাড়া, বাংলামোটর, ইস্কাটন, ধানমন্ডি, গ্রিনরোড এলাকা মিলিয়ে অন্তত ৬০টি ক্যাসিনোর তথ্য ইতোমধ্যেই পেয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একইসঙ্গে র‌্যাব খুঁজে বের করেছে যুবলীগ নেতা খালেদের টর্চার সেল।

রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনের উল্টো দিকে ইস্টার্ন কমলাপুর টাওয়ারে এই টর্চার সেলের সন্ধান পায় র‌্যাব-৩। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এই টর্চার সেলে নিয়েই নির্মম নির্যাতন চালানো হতো বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এছাড়াও,রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন এ যুবলীগ নেতা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়াং ম্যানস নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ টাকা নেন তিনি। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসিনো বসে।

খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের একটি হাট বসান এ নেতা। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে এক কোটি টাকা আদায় করেন তিনি।

একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজারের সভাপতির পদটিও দীর্ঘদিন তিনি ধরে রেখেছেন। শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণ করেছেন।

৭ সংস্থার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ :জানা যায়, মতিঝিল, শাহজাহানপুর,রামপুরা,সবুজবাগ,খিলগাঁও, মুগদা এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ এ নেতার হাতে। এসব এলাকায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাক্রমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ,পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন,ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ বেশিরভাগ সংস্থার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন এ নেতা। ‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here