লবন সংকট গুজবে ক্রেতাদের কান্ড! পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বস্তি!

0
191

ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-
রাজশাহী: হটাৎ করেই গতকাল রোববার বিকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লবন সংকটের গুজবের পোস্ট ভাইরাল হতে থাকে। এতে দেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে ঐদিন মধ্যরাতে বিষয়টি গুজব এবং বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত লবন মজুদ আছে এমনটি প্রচার করতে থাকেন। যা পল্লি বা গ্রামাঞ্চলের অনেকেই অবগত হতে পারেনি। পরদিন সকাল থেকেই ফেসবুক ব্যাবহার কারিদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণ যেন বিভ্রান্তিতে না পড়ে তার সতর্কতা মূলক স্টাটাস পোস্ট দিতে থাকেন। যা জনমনে অনেকটা পেয়াজের মত লবনেও সংকটের আশংকা ছড়াতে থাকে।

সোমবার সকাল থাকে বেলা গড়ানোর সাথে সাথে গ্রামাঞ্চলে লবন সংকটের গুজব ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। এমন গুজবে কান দিয়ে অনেকেই লবনের দোকানে ভিড় জমতে থাকে।

এসময় ক্রেতাদের অনেকে লবন সংকট আতংকে ৫ থেকে ১০ কেজি, আবার অনেকেই ১০ থেকে ১৫ কেজি, কেও আবার ৩০ কেজি পর্যন্ত লবন কিনে মজুত করেন। এর একপর্যায় দোকানে লবন সংকটের সম্ভাবনায় দোকানিরা লবন বিক্রি করা সাময়িক বন্ধ রাখেন।

এদিকে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা লবনের দাম তিনগুন বাড়িয়ে বিক্রি করা শুরু করলে গুজবে কান দেয়া লোকেরা একের পর এক অদ্ভুত কান্ড ঘটাতে থাকে। এসময় ন্যায্য মূল্যে লবন না পেয়ে কোথাও কোথাও দুষ্টু প্রক্রিতির ঐ সব দোকানির সাথে ক্রেতাদের হাতা হাতির ঘটনা ঘটে। এতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় ন্যায্য মুল্যের দোকানিদের।

সময় সংবাদ বিডির অনুসন্ধানে রাজশাহীর মোহনপুর কেশরহাট বাজারে ঠিক এমন কয়েকটি অদ্ভুত পরিস্থিতি ঘটতে দেখা গেছে।

যদিও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৎক্ষণাৎ মোহনপুর থানা পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এলাকার বেশকয়েকটি বাজারের লবনের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে দোকান বন্ধ না করে ন্যায্য মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমান লবন বিক্রিতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি লবন সংকটের গুজবে বিভ্রান্ত না হতে সকলের প্রতি আহবান জানান। তবে এ অভিযানে কাউকে আটক বা জরিমানা করা হয়নি বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে, মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসতাক আহমেদের নির্দেশনায় এস আই মিজানুর রহমান সংগীয় ফোর্স নিয়ে কেশরহাট বাজারের মসলা পট্রি কয়েকটি লবনের দোকানে গুজব বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় পুলিশের উপস্থিতি দেখে লোকজন ভিড় জমায়। এস আই মিজান উপস্থিত সকলকে লবন সংকটের বিষয়টি একটি গুজব বলে জানান। এবং এই গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে ন্যায্য মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমান লবন বিক্রিতে দোকানিদের প্রতি অনুরোধ জানান।

পরবর্তিতে কেশরহাট বাজারে মাইকিং করে গুজবের বিষয়টি সর্বসাধারণকে জানানো হয়।

একপর্যায়ে মোহনপুর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে এলাকার সর্বত্রই লবন সংকটের গুজব আতংক থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়। আর স্বস্তি ফিরে আসে লবনের বাজারে।

হটাৎ লবন সংকটের গুজব বিষয়ে মোহনপুর থানার ওসি মোসতাক আহমেদ বলেন, সকাল থেকেই এলাকায় লবন সংকটের গুজব নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। যার ফলে বাজার পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে আমরা যথাসাধ্য চেস্টা করি। এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা পরিস্থিতি সাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমান লবন মজুত আছে। তাই লবন সংকটের প্রশ্নই আসেনা। আর আগামীতে এ ধরনের গুজব থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here