সবাই এক ইশ্বরে বিশ্বাসী তবে কেনো এতো বিভক্তি!

0
76

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখেছিলাম, ভিডিওটি এমন যে, সিরিয়াল করে ১৫-২০ জন মানুষ এক লাইনে দাঁড়া করিয়ে একটা খেলা খেলতে বলা হলো, খেলাটা এমন যে, পিছনের লোকটা থেকে খেলাটা start করা হলো।। লোকটিকে বলা হলো তার সামনের লোকটাকে হাত দ্বার ইশারা করে ডেকে একটা ইশারা মূলক আচরন করে দেখাতে, সে খেলার নিয়ম অনুসারে Motorcycle start ভঙ্গি ইশারা করে দেখিয়ে তার সামনে থাকা লোকটির সাথে এই game continue করতে বললো… In the end দেখা গেলো motorcycle move টা হয়ে গেলো, মাথানত করে ভক্তি প্রদর্শন। ভিডিওটা খেয়াল করলে বুঝা যায়, যে যার যার সাধ্য মত চেষ্টা করেছে।। তবুও কিন্তু ভুল হতেই পারে (মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়)।। তবে এখানে যদি কোন সুবিধালোভি (শয়ত্বানের প্রচারনায় পরে) নিজের সুবিধার জন্য ভক্তিটা গ্রহন করে প্রচার প্রশার শুরু করে দেয়, তাহলে কি দাঁড়াবে?? অন্ধনুসরণ আমাদের কোথায় নিয়ে যায়(?) আজ আমাদের প্রচলিত ধর্ম গুলার দিকে তাকালে দেখা যায় প্রতিটা ধর্ম দলে দলে বিভক্ত।। তার একটা প্রধান কারন হচ্ছে আমরা সকল ধর্মের মানূষ আজ আন্ধনুসারী।। আমরা আদম সন্তানেরা, আমাদের মূল ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ বাদ দিয়ে, আমাদের ধর্মজাযকেরা (পীর/পন্ডিত/ফাদার/ভিক্ষু) যা বলে তার অন্ধনুসরণ করি।। কিছু সুবিধাবাদী ধর্মজাযকদের সুবিধা অনুযায়ী ধর্ম পরিচালনা করতে গিয়ে আজ আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের এবং ধর্মের মধ্যে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার জন্ম।।

আল্লাহ্‌ বলেনঃ নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। [সুরা আল ইমরানঃ ১৯]

আর আমরা দুনিয়ার পিছে ছুটতে গিয়ে নিজেদের দ্বীন শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে তাদের অন্ধনুসরণ করা শুরু করে দিয়ে হক্ব (সত্য) ধর্ম থেকে আজ বিমুখ হয়ে পরেছি।। নিজেদের ধর্মজাযকদের আমরা প্রভু রূপে গ্রহন করে নেওয়ার কারনে আজ বিভিন্ন ধর্মের জন্ম,বিভিন্ন মতের জন্ম, বিভিন্ন ত্বরিকার জন্ম।।

আল্লাহ বলেনঃ তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের আলেম-ধর্দেমজাযকদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং মারয়্যামের পুত্র মসীহকেও। অথচ তাদেরকে শুধু এই আদেশ করা হয়েছিল যে, তারা শুধুমাত্র একক উপাস্যের উপাসনা করবে, তিনি ব্যতীত (সত্য) উপাস্য আর কেউই নেই, তিনি তাদের অংশী স্থির করা হতে পবিত্র। [সুরা আত্ব তাওবাহঃ৩১]

এর ব্যাখ্যা আদী বিন হাতেম (রাঃ)-এর বর্ণনাকৃত হাদীস হতে পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-এর মুখে এই আয়াত শুনে আরজ করলাম যে, ইয়াহুদী-নাসারারা তো নিজেদের আলেমদের কখনো ইবাদত করেনি, তাহলে এটা কেন বলা হয়েছে যে, তারা তাদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে? তিনি বললেন, এ কথা ঠিক যে, তারা তাদের ইবাদত করেনি। কিন্তু এটা তো সঠিক যে, তাদের আলেমরা যা হালাল করেছে তাকে তারা হালাল এবং যা হারাম করেছে তাকে তারা হারাম বলে মেনে নিয়েছে। আর এটাই হল তাদের ইবাদত করা। (সহীহ তিরমিযী আলবানী ২৪৭১নং) [আহসানুল বয়ান]

যেহেতু প্রত্যেক ধর্মের মূল গ্রন্থগুলাতে বলা আছে এক ইশ্বরবাদের কথা, রাসূলুল্লাহ (সঃ) শেষ নবী।। আর নবী (সঃ) বলেছেন প্রত্যেক শিশু ইসলামের উপর জন্মগ্রহন করে তার মানে স্পষ্ট যে ইসলাম সত্যধর্ম এবং এক ইশ্বরের মননীত ধর্ম।। বাকি ধর্ম সৃষ্টি হয়েছে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে এবং অন্ধনুসরণ করনে।।

আল্লাহ্‌ বলেনঃ “কাজেই দ্বীনের (ইসলাম) প্রতি তোমার মুখমণ্ডল নিবদ্ধ কর একনিষ্ঠভাবে। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতি আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন, আল্লাহর সৃষ্টিকার্যে কোন পরিবর্তন নেই, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” [সূরা আর-রূমঃ৩০]

রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ ‘‘প্রত্যেক শিশু (ইসলামের) প্রকৃতির উপর জন্ম নেয়। কিন্তু তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়।’’ (বুখারীঃ তাফসীর সূরা রূম, মুসলিমঃ কিতাবুল ক্বাদার)।।

আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে বুঝে শুনে দ্বীনের পথে চলার তৌফিক দান করুন।।

লেখক-আবু লাইবাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here