সরকারি বরাদ্দের ল্যাম্পপোস্ট জালিয়ে আওয়ামীলীগ নেতার মাছ চাষ! 

0
1161

ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-

রাজশাহী: রাজশাহী জেলার কেশরহাট পৌরসভার মরগা বিলের মধ্যে খননকৃত একাধিক পুকুরে (মৎস ঘেরে) সরকারি বরাদ্দকৃত সোলার প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট জালিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক আওয়ামীলীগ নেতা রুস্তম আলীর বিরুদ্ধে।

যদিও তিনি কেশরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।এছাড়াও তিনি পৌরসভার ১ নং প্যানেল মেয়র।

সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে টি আর কর্মসূচির ২য় পর্যায়ে  কেশরহাট পৌরসভায় মোট ২৭ টি সোলার প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট বরাদ্দ দেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। যার ১ টি পৌরসভার নিজস্ব ও ২৬টি পৌর এলাকার জনসাধারণের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের সার্বিক দায়িত্বে আছেন মোহনপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকর। আর বরাদ্দকৃত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের এই নেতা দলীয় পভাব ও ক্ষমতার দাপটে বিভিন্ন স্থানে সাধারণত জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে বিভিন্ন নামে সরকারি বরাদ্ধকৃত চারটি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করেছেন নিজের মালিকানাধীন মরগা বিলের অবৈধ খননকৃত চার পুকুরের পাড়ে। এর ফলে জনগন কোন সুফোল পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

এমন অভিযোগ অনুসন্ধানে, সরকারি বরাদ্দকৃত সোলার প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনে ব্যপক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।

 

সরেজমিনে, কেশরহাট পৌরসভার মরগা বিলের রাস্তা থেকে প্রায় আধাকিলো দুরুত্বে পানি ভর্তি বিলের মাঝ বরাবর একটি পুকুরে সোলার প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট সারারাত জলতে দেখা যায়। আশপাশের খোজ করে এমন ভাবে আরোও তিন পুকুরে ল্যাম্পপোস্ট জলতে দেখা যায়। যার মালিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুস্তম আলী।

 

খোজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে ল্যাম্পপোস্টটি স্থাপন করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা রুস্তম আলীর একক ব্যাক্তিসার্থে রাতে পুকুরে মাছ দেখাশোনার কাজে। যা একটি গুরুতর অনিয়মের বাস্তব চিত্র।

অথচ এই ল্যাম্পপোস্টটি জনগণের চলাচলের সুবিধার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এটি রাস্তার ধারে বা মোড়ে স্থাপন করার কথা ছিলো। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে স্থাপন করেছেন নিজের পুকুরে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপার সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হলে নাম প্রকাশ না করার সার্থে এলাকার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু এটা জনগণের সম্পদ সেহেতু এটা পুন প্রতিস্থাপন করে জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এর জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এব্যাপারে কেশরহাট পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। একজন কাউন্সিলরের এ ধরনের কাজ করাটা খুবই দু:খজনক। এর সুফোল ভোগ করবে সাধারণ জনগন। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি।

ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর রুস্তম আলী বলেন, ইতিপূর্বে তার পুকুরে মাছ চুরির ঘটনা ঘটায় মোহনপুর থানার সাবেক ওসি মাসুদ পারভেজকে বলে তিনি পুকুরে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করেছেন। তার মতে পুকুরের মাছ চুরি রোধে তিনি সরকারি ল্যাম্পপোস্ট ব্যাবহার বৈধ করে নিয়েছেন। যা হাস্যকর বটে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকর বলেন, বরাদ্দ অনুমোদন তালিকা অনুযায়ী বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তিনি(রুস্তম আলী) যেভাবে বরাদ্দ নিয়েছেন আমরা সে ভাবেই বাস্তবায়ন করেছি। এখানে কোন অনিয়ম হয়নি বলে তিনি জানান।

আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি কো-অর্ডিনেটর মো: মোবারক হোসেন বলেন, তার প্রতিষ্ঠান ১৯ টি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। তবে এমন অনিয়মের অভিযোগ অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মোহনপুর উপজেলা ম্যানেজার আব্দুর রহিম অনিয়মের বিষয়টি শিকার করে বলেছেন, প্রভাব খাটিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজের পুকুরে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করেছেন। সেক্ষেত্রে আমার কিছুই করার ছিলোনা।  তবে এতে জনগনের কোন লাভ নেই। যা লাভ সব পুকুর মালিকের। আমরা ওর্ডার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করেছি। এতে আমাদের কোন দোষ নেই।

এদিকে পৌর কাউন্সিলরের এমন কান্ডে অবাক হলেন স্থানীয় সাংসদ সহ অনেকেই।

এসময় সরকারি বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার করে পুকুরে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করার বিষয় পর্যবেক্ষণ করে পুনপতিস্থাপনের ব্যাবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন।

যদিও সাংসদের নির্দেশনার দুইদিন অতিবাহিত হলেও এর পরিবর্তন চোখে পরেনি।

উল্লেখ্য, একসময়ের পান বিক্রেতা রুস্তম আলী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে বনেছেন কোটিপতি। এর আগে মাদক বিক্রি সহ ভাড়ের মাছ চুরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর রুস্তম আলীর ক্ষমতার দাপটে এখন অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই হতে হয় হয়রানির শিকার।

দেখতে থাকুন.! কাউন্সিলর কোটিপতি রুস্তমের আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়ার আরোও কিছু কাহিনী!.

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here