সাতক্ষীরায় তুলে নিয়ে দুই যুবকের পায়ে পুলিশের ‘গুলি’

0
208

সময় সংবাদ বিডি,সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় তুলে নিয়ে দুই যুবকের পায়ে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের ভাষ্য, মাদক চোরাচালান ধরতে অভিযানে গেলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ বিশ্বজিত সরকার (২০) ও নুরুজ্জামানকে (২৪) পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 বিশ্বজিত সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মধুমোল্লারডাঙ্গির নারায়ণ সরকারের ছেলে। আর নুরুজ্জামান দেবহাটার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আমিনুল মোল্লার ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য, আহতরা দু’জনেই মাদক চোরাকারবারীর সঙ্গে জড়িত। তবে যুবকদের পরিবারের দাবি, দুদিন আগে পুলিশ তাদের তুলে এনে মাদক চোরাকারবারী সাজিয়ে পায়ে গুলি করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই কামাল হোসেন জানান, ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এমদাদ মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে টহল পুলিশ নিয়ে গভীর রাতে সদর উপজেলার ইসলামপুরের বেজেরডাঙ্গায় অভিযানে যায়।

দুর্বৃত্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বোমা নিক্ষেপ করে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে বিশ্বজিত সরকার নামে এক মাদক চোরাকারবারী আহত হন। অন্যরা পালিয়ে গেলেও তার কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ও কয়েক বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

তবে বিশ্বজিতের পরিবারের দাবি, গত রবিবার সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল থেকে বিশ্বজিতকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

এরপর ছেলের বিষয়ে মা সুষমা সরকার অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। থানায় জিডি করতে গেলেও তা ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এরপর সোমবার গভীররাতে তাকে মাদক চোরাকারবারী সাজিয়ে পায়ে গুলি করেছে বলে অভিযোগ করেন সুষমা সরকার।

পুলিশের ভাষ্যে, একই রাতে একই ধরনের খবরে দেবহাটা থানার এসআই নাজমুল আলম ও মাসুদুজ্জামান পুষ্পকাটি গ্রামের ইটভাটার কাছে অভিযানে যায়।

এ সময় তাদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন মাদক চোরাকারবারী নুরুজ্জামান। তার কাছ থেকে ভারতীয় ফেনসিডিল ও মদ জব্দ করা হয়।

নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় দুটি চোরাচালান মামলা রয়েছে বলে জানান এসআই কামাল হোসেন।

তবে নুরুজ্জামানের বাবা আমিনুল মোল্লা জানান, দুদিন আগে এসআই নাজমুল বাড়ি থেকে তার ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়।

ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইমাদুল পুলিশকে জানান- ইউপি নির্বাচনে নুরুজ্জামান ও তার পরিবার আমার পক্ষে কাজ করেনি। পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হকের হয়ে কাজ করেছেন।

আমিনুল মোল্লা বলেন, এরপর আমরা যোগাযোগ করলে সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হক নুরুজ্জামানকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

তিনি অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে চেয়ারম্যান ইমাদুলের উস্কানিতে ছেলেকে মাদক চোরাকারবারী সাজিয়ে পায়ে গুলি করা হল।

ছেলেকে পঙ্গু করার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন আমিনুল মোল্লা।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই কামাল হোসেন বলেন, দু’জনকেই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও মাদক চোরাচালানের পৃথক মামলা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here