সিগারেট এর ধোঁয়া

0
134

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ আমাদের সমাজে সিগারেট একটা খুব ফ্যাশনেবল বস্তু। যা একজন পুরুষকে স্মার্ট করে তুলতে সাহায্য করে (তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি) ।। আর যাদের দৃষ্টি ভঙ্গি স্মার্টনেস বাড়ায় না তারা সিগারেট আসক্ত মানে এডিকশন কাজ করে।।

সিগারেট এর ধোঁয়ার স্বাদ ধনী থেকে গরীব সবার কাছে প্রিয়।। এই সিগারেট এর ধোঁয়া মানব শরীরের জন্য কতটুকু ক্ষতি করে তা আমাদের জানা থাকলেও আমরা জেনে বুঝে তৃপ্তি সহকারে আত্বহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছি।।যে বস্তু সেবন করলে মানব দেহে ক্ষতি হয় তা হারাম হারাম হারাম।।যে সমস্ত হুজুররা সিগারেট খাওয়াকে “মাকরূহ” বলে ফতোয়া দেয় তাদের এই ফতোয়ার অন্যতম কারন ঐ সমস্ত বিদআতি হুজুররা অধিকাংশই পান(জর্দা) খোর। তারা যদি সিগারেটকে হারাম বলে ফতোয়া দেয় তবে সাধারণ মানুষ বুঝে ফেলবে এবং জিজ্ঞাস করবে- আপনি যে জর্দা দিয়ে পান খাচ্ছেন সেটাও তামাক আর আমি যে সিগারেট খাচ্ছি সেটাও তামাক, আপনি হুজুর বিধায় আপনারটা জায়েজ হলে গেল আর আমারটা হারাম হয়ে গেল।তার এই বিপাক থেকে বাঁচার জন্য সিগারেট মাকরূহ ফতোয়া দেয়।।

ধূমপান বর্তমানে প্রচুর সমস্যা ও ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই সাথে ধূমপানের সমস্যাগুলো অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ধূমপান হারাম না হালাল সেটা ব্যাখ্যা করার আগে একটা ব্যাপার বলে নেয়া জরুরি, আল্লাহ পৃথিবীর সকল কিছুকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। ভালো বা হালাল এবং খারাপ বা হারাম। এখানে তৃতীয় কোন প্রকার (মাকরূহ) নেই।
.
আল্লাহ বলেনঃতাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ (সূরা আরাফঃ১৫৭)

আমরা সবাই জানি সিগারেট খারাপ জিনিষ তাই এটা হালাল হওয়ার প্রশ্ন আসে না এটা অবশ্যই হারাম।।
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।। (সুরা বাকারাঃ ১৯৫)

মহান আল্লাহ্‌ আরো বলেনঃ “তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না।” (সুরা নিসাঃ ২৯)
.
আমরা সবাই জানি আত্মহত্যা করা মহাপাপ।
অথচ এটাও আমরা সবাই জানি যে, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে- “ধূমপান মৃত্যু ঘটায়।/ ধূমপানের কারনে স্ট্রোক হয় ইত্যাদি।

সিগারেটের মূল উপাদান হচ্ছে- তামাক। তামাক একটি খুবই ঘাতক বস্তু। এই তামাক মানুষের শরীরে কান্সার হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তামাকের ধোঁয়াতে নিকোটিন ছাড়াও আরো প্রায় চার হাজার রকমের রসায়নিক দ্রব্য থাকে। এইগুলি উৎপন্ন হয় তামাকের পোড়ার জন্য, তাছাড়া সিগারেট তৈরীর সময় তামাক পাতায় নানারকমের কেমিক্যাল বা রসায়নিক দ্রব্য মেশান হয়, সেইসব কেমিক্যালের পোড়ার সময় নানা প্রতিক্রিয়ার জন্য হাজার রকমের রসায়নিক দ্রব্য তৈরী হয়।
যেটা সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করে সেটা হ’ল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিকা যেগুলি বায়বীয় বা গ্যাসের আকারে বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ও টার (অনেকটা আলকাতরার মত) রসায়নিক জিনিষও বেরিয়ে আসে সেটাও মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।

গবেষণায় জানা গেছে ধূমপানের কারনে হয়,
১. ফুসফুসে ক্যান্সার, কিডনীতে ক্যান্সার, ব্ল্যাড ক্যান্সার ইত্যাদি।
২. হাই ব্লাড প্রেশার
৩. অ্যাজমা
৪. ইম্পাইসেমা
৫. ব্রঙ্কাইটিস
৬. ব্রেন ষ্ট্রোক ইত্যাদি এমন আরো মারাত্মক রোগ হয়।
তাই এমন মরন ঘাতী একটা বস্তু কি করে হালাল হতে পারে?

অতএব একথা এখন প্রমানিত যে- তামাক, জর্দা, বিড়ি, সিগারেট, গুল ইত্যাদি খাওয়া হারাম।

“সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল”। (সুরা ইসরাঃ ৮১)

আবু লাইবাহ (শুভ)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here