সিসি ক্যামেরার আওতায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার

0
124

সময় সংবাদ বিডি-
ঢাকাঃ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপরাধীদের সহজে সনাক্ত এবং অপরাধ প্রবণতা কমাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অত্যাধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা পুলিশ।

গত শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সিসিটিভি’র কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন।

শহরের সমুদ্র সৈকত এলাকা, হোটেল-মোটেল জোন, প্রধান সড়ক, বার্মিজ মার্কেট, বাসটার্মিনালসহ ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশে কন্ট্রোল রুম থেকে পুলিশের চারজন সদস্য সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। এমন উদ্যোগকে সময় উপযোগী হিসেবে দেখছেন শহরবাসী। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে পুরো শহর নিরাপত্তার আওতায় আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারন প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে ১৫ লাখের অধিক পর্যটক। পাশাপাশি পুরো শহরে রয়েছে চার লাখের অধিক বাসিন্দা। এখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন করে কক্সবাজার শহরে অবস্থান করছে দুই হাজারের অধিক বিদেশি। তাই এসব মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহরের বাসিন্দা, পর্যটক ও বিদেশিদের নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে আনা হয়েছে সিসিটিভির আওতায়। ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এতে শহরের নিরাপত্তা বাড়বে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে: কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ।

তিনি বলেন, এ ক্যামেরার কারণে অপরাধীরা অপরাধ করার আগে চিন্তা করবে। পুলিশের পাশাপাশি নানা সংস্থা এখান থেকে সুযোগ নিতে পারবে। কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা ফরিদুল আলম সুমন আর নাছির উদ্দিন বলেন, এ ক্যামেরার কারণে আমাদের নিরাপত্তা বাড়বে।
শনিবার সিসিটিভি’র কার্যক্রমের উদ্বোধনী শেষে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, ইউএনএইসসিআর কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(সদর) সাইফুল ইসলাম জানান, অপরাধ দমনে সিসি ক্যামেরার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো শহরকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হলো। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের ৪০টি পয়েন্টে লাগানো হয়েছে ৫২টি সিসিটিভি ক্যামেরা। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আরও লাগানো হবে একশটিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন কয়েক হাজার বিদেশী নাগরিক। এছাড়াও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের কারণে কক্সবাজারে লাখ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। তাদের নিরাপত্তাসহ পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্থাপিত সিসিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here