সুন্দরবনে মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর আত্মসমর্পণ

0
323

সময় সংবাদ বিডি,মংলা:-সুন্দরবনের আতংক বনদস্যু মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর প্রধানসহ এ দুই বাহিনীর ১১ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে।

শুক্রবার সকালে মংলা বন্দরের বিএফডিসি জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করে।

আত্মসমর্পণ করা ১১ জন হলেন- মজনু বাহিনীর প্রধান মজনু গাজী (৪৩), রবিউল ইসলাম (২৮), ইসমাইল গাজী (৫০), এনামুল সরদার (২৭), ইদ্রিস আলী (২৮), আবুল কালাম আজাদ (২০), মঞ্জু শেখ (৪৩), জাহাঙ্গীর মোড়ল (২২) এবং বাবুল হাসান (২৪)।
ইলিয়াস বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস গাজী (২৭) ও নাসির উদ্দিন (৩৩)।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে হেলিকপ্টারে মোংলায় আসেন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে অস্ত্র জমা দিয়ে বনদস্যু মজনু বাহিনী প্রধানসহ ৯ সদস্য এবং ইলিয়াস বাহিনীর প্রধানসহ ২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

দুই বনদস্যু বাহিনী ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ২০ রাউন্ড গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়। আগ্নেয়াস্ত্রর মধ্যে রয়েছে-১১টি বিদেশি একনলা বন্দুক, তিনটি বিদেশি দুনলা বন্দুক, দুটি পয়েন্ট ২২ বোর বিদেশি এয়ার রাইফেল, তিনটি ওয়ান শুটারগান, পাঁচটি শাটারগান ও একটি রিভলবার।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বনদস্যুরা যে সমাজের জন্য ক্ষতিকারক, তারা সেটি বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণ করেছে। অন্য দস্যুরা এখনও ভুল পথে পরিচালিত হয়ে ভয়ংকর জীবন-যাপন করছে। তারা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসলে তাদের বিরুদ্ধেও র‌্যাব, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও নৌবাহিনী আরও কঠোর ও ব্যাপক অভিযান চালাবে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সুন্দরবনের অভিযানকে আরো শক্তিশালী করার জন্য ইতালি থেকে কোস্টগার্ডের জন্য চারটি জাহাজ আনা হচ্ছে। র‌্যাবের আরো দুটি ব্যাটালিয়ন বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে, যা শিগগির বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া নৌ-পুলিশের জনবলও বৃদ্ধি করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মৎস্যজীবীদের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে এনে তাদের নির্বিঘ্নে ব্যবসার পরিবেশ তৈরি এবং দস্যুদের সামাজিক অপতৎপরতা দমন করা। দস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলে সরকার তাদের জন্য সব ধরনের সহায়তা করবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, সুন্দরবনের দস্যুদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স দেখাতে বলেছেন। এ জন্য সুন্দরবনের সম্পদ, জেলেদের জীবন এবং পর্যকটদের জন্য বনকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি এস.এম মনির-উজ-জামান, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা, র‌্যাব হেড কোয়াটারের পরিচালক (অপারেশন্স) লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) মুফতি মাহমুদ, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here