সেই বিবেক সত্যের পথে সহজে জাগ্রত হতে চায় না

0
277

জসিমসময় সংবাদ বিডি-ঢাকা: আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টির পর থেকে সমাজে পাশাপাশি একসঙ্গে বসবাস করে আসছে মানুষ। পৃথিবীর কোলাহলে মানুষ আসছে আবার চলেও যাচ্ছে ইহজগত থেকে পরজগতে। এই আসা-যাওয়ার পথে ক্ষণিকের জীবন প্রবাহ অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে।

কিন্তু মানুষ একসঙ্গে বসবাস করলে কী হবে? মানুষের মন তো আর একসঙ্গে বসবাস করছে না। মন সে এক অদেখা জগৎ, এর গতি টেনে ধরে দেহের ঘরে আটকে রাখা কঠিন। সে ছুটছে তো ছুটছেই আকাশ-পাতাল! কিন্তু সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য দরকার অন্তত কিছুটা স্থিরতা। সে কি আর তা রয়! এই পৃথিবীতে আমরা এসেছি আবার চলে যাচ্ছি, এই আসা-যাওয়াই কি শেষ কথা? তা-ই যদি হবে,তাহলে মানুষ সৃষ্টির কোন প্রয়োজন ছিল না।

নিশ্চয়ই পরম দয়ালু আল্লাহতায়া’লা আমাদের পাঠিয়েছেন শুধু ভোগ-বিলাসের ডামা-ঢোলে মত্ত হয়ে যা ইচ্ছে তাই করে, অনিরাপদ ভ্রান্ত পথে চলার জন্য নয়। কিন্তু এমন শান্তিপূর্ণ সমাজ সৃষ্টি করা সাধারণ মানুষের দ্বারা কখনোই সম্ভব হয় না। কারণ তাদের মন অস্থির,এর উপযুক্ত চিকিৎসা ছাড়া সে কখনো স্থিরতা পায় না। সেই কাক্সিক্ষত মানসিক স্থিরতার জন্য প্রয়োজন আত্মিক চিকিৎসা আর এ চিকিৎসার জন্য যেতে হয় একজন আধ্যাত্মিক গুরু বা ডাক্তারের কাছে, যে ডাক্তার রুহানিভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে রোগমুক্ত হবার উপদেশ দিয়ে থাকেন। সেই বর্তমান সদা জাগ্রত করে তুলতে। তখন ধীরে ধীরে অস্থিরতার নাগপাশ ছিড়ে, সে বুঝতে শিখে সৃষ্টি ও স্রষ্টার সম্পর্কের আসল সত্যকে।

তখন তার অন্তরে ইহকালের করণীয় কর্তব্য এবং পরকালের জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা তৈরি হয়। এখন কথা হলো, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে জনম-জনম পার করা যাবে কিন্তু তাতে মুক্তি মিলবে না। তাই ইহকালে শান্তি আর পরকালে মুক্তির আশায় যারা পথ খোঁজেন তারা খুব সহজেই বুঝবেন এই বক্তব্যের মর্ম। পৃথিবীতে আমরা একে অন্যের কত কাছাকাছি বাস করছি, একসঙ্গে চলছি ফিরছি, উঠছি বসছি, তবু একজন আরেকজনের মনের খবর জানি না। কারণ প্রতিটি মানুষের ঘাড়ে আলাদা করে একটি মাথা, চিন্তাও ভিন্ন। তাই মতের অমিল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আল্লাহতায়া’লা পৃথিবী সৃষ্টি করে মানুষের জন্য প্রায় সব কিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছেন শুধু জানা ও বোঝার জন্য।

এই জানা-বোঝার সূত্র ধরেই সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যে সংযোগ সেতু গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু আমাদের যে বিবেক আছে, সেই বিবেক সত্যের পথে সহজে জাগ্রত হতে চায় না। মন তাতে সায় না দিয়ে বরং বিবেকের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়! প্রতিটি মানুষের দুটি অঙ্গ রয়েছে একটি অন্তরঙ্গ অপরটি বহিরাঙ্গ। অন্তরঙ্গের মধ্যেই বিবেকের বাসস্থান। আর বহিরাঙ্গে মনের দূরন্তপনা, সে শুধু মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ছে। বিবেক তাকে কোন মাধ্যম বা উছিলা ছাড়া আটকাতে পারে না। এর সঠিক পরিচর্চা ছাড়া তাকে আটকানো সবার পক্ষে সম্ভবও হয় না। মহান আল্লাহতায়া’লা এই মন বা নফসে আম্মারাকে বশ মানানোর সঠিক ব্যবস্থাও দিয়েছেন। এখন আমাদের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব হলো খুঁজে বের করে সেই ব্যবস্থাপত্র সানন্দে গ্রহণ করা। মহান আল্লাহতায়া’লা এই ব্যবস্থাপত্র যাঁকে দান করে মানুষকে সঠিক পথের সন্ধানদাতা হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়ে থাকেন। নি:সন্দেহে তিনি মহান আল্লাহতায়া’লার প্রিয়বান্দা ও বন্ধু এবং রাসুল (সঃ)-এর তাঁর আদর্শ চিরসত্য, সুন্দর ও কল্যাণকর, এবং সম্প্রীতির সহজ-সরল পথ। সেই পথের এরপর তিনিই পথহারা পথিকদের আহ্বান করেন চিরসত্য, কল্যাণ ও মঙ্গলের পথে। তাই, এ সত্যাদর্শে প্রত্যেকেরই শামিল হওয়া অবশ্য কর্তব্য। কারণ আমরা সাধারণ মানুষ কম-বেশি সবারই ভুলভ্রান্তি আছে।

লেখক-জসিম ভু্ঁইয়া

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here