সেদিন কি ঘটেছিলো অধ্যক্ষের কক্ষে

0
68

 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট-

ঢাকা: পরীক্ষায় অদুপায় অলম্বনের দায়ে দফায় দফায় অরিত্রীর বাবা ও মাকে লাঞ্চিত করা হয়েছিলো অধ্যক্ষের কক্ষে। একবার নয় কয়েকবার ভুল স্বীকার করেও সেদিন নিস্তার পাইনি অরিত্রীর বাবা-মা। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তারা শত লাঞ্চনা মেনেও নিয়েছিলো। কিন্তু বাবা-মায়ের লাঞ্চনা মেনে নিতে পারেনি অরিত্রী। ফলে অভিমান করে না ফেরার দেশেই পাড়ি দিয়েছে অরিত্রী।

এদিকে অরিত্রীর অকাল প্রয়াণে ক্লাস বর্জনসহ আন্দোলন করছে তার সহপাঠিরা। আর এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের তিন শিক্ষককে বরখাস্তসহ তাদের এমপিও বাতিল করেছে। একই সাথে জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত করে বিভাগীয় মামলা দায়েরের কথা বলেছে।

আর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর মৃত্যুর ঘটনায়  ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে স্কুল কর্তিপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার দুপুরে ভিকারুননিসার গভর্নিং বডির  শিক্ষক প্রতিনিধি মুশতারী সুলতানা জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্কুলটির সব শাখায় পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ থাকবে। অরিত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার সহপাঠীরা শোকাহত। তাদের বান্ধবী মারা গেছে, পড়াশোনা করতে পারছে না তাই এ কারণে পরীক্ষা বাতিল করেছি। তাদের প্রতি আমরাও সমব্যথী। এজন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিভাবকদের মেসেজ দিয়ে জানানো হবে। অধ্যক্ষ অসুস্থ থাকায় গভর্নিং বডির সদস্যরা মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে থাকায় নকল থাকার অভিযোগ তুলে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীকে পরীক্ষা থেকে বহিস্কার করা হয়। পরে তার বাবা-মাকে স্কুল আসতে বলে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল ১১টার পরে অরিত্রীর বাবা-মা স্কুলে যান এবং মেয়ের জন্য দফায় দফায় ক্ষমা চান।

প্রথমে উপাধ্যক্ষের কক্ষ থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনিও তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রিকে ছাড়পত্র দেওয়ার হুমকি দেন। নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওই দিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে ভিকারুননিসা ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বিক্ষোভের মধ্যেই অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি কমিটি করে। পাশাপাশি হাইকোর্টও এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অরিত্রির মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করেছেন। ৩০৫ ধারার এই মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিন্নাত আরা এবং অরিত্রির শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here