স্টিফেন হকিং আর নেই

0
93

Image result for স্টিফেন হকিং আর নেইআন্তর্জাতিক ডেস্ক, সময় সংবাদ বিডি :-বিশ্ববিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আর নেই। তার পরিবার মৃত্যুর খবর দিয়েছে। পরিবার বলেছে, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিজ বাড়িতে ৭৬ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। যেখানে কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে যুগান্তকারী কাজগুলো করেছেন হকিং। তিনি শান্তিতে ও স্বভাবিকভাবেই মারা গেছেন।

হকিংয়ের সন্তান লুসি, রবার্ট ও টিম বলেছেন, “আমরা গভীরভাবে শোকগ্রস্ত যে আমাদের প্রিয় বাবা আজ চলে গেছেন।” বিবিসি।

“তিনি ছিলেন একজন মহান বিজ্ঞানী এবং অনন্য সাধারণ ব্যক্তি, যার কাজ ও সম্পদ অনেক বছর টিকে থাকবে।” বলেন সন্তানেরা।

এই পদার্থবিদ কৃষ্ণগহ্বর ও আপেক্ষিকতাবাদ নিয়ে যুগান্তকারী কাজের জন্য দুনিয়া জুড়ে পরিচিত। তিনি সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতহাসসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের রচয়িতা।

এই বিজ্ঞানী ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক ছিলেন, আইজ্যাক নিউটন একসময় যে পদে ছিলেন। ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর তিনি ওই পদ থেকে অবসর নেন।

এছাড়াও তিনি কেমব্রিজের গনভিলি এবং কেয়াসস কলেজের ফেলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল এবং এএলএসের (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ- যা একপ্রকার মোটর নিউরন রোগ) জন্য ক্রমাগতভাবে সম্পূর্ণ অথর্বতার দিকে ধাবিত হওয়া সত্ত্বেও বহু বছর ধরে তিনি তার গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে গেছেন।

পদার্থবিজ্ঞানে হকিংয়ের দুটি অবদানের কথা সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত। প্রথম জীবনে সতীর্থ রজার পেনরাজের সঙ্গে মিলে সাধারণ আপেক্ষিকতায় সিংগুলারিটি সংক্রান্ত তত্ত্ব। হকিং প্রথম অনিশ্চয়তার তত্ত্ব ব্ল্যাক হোল-এর ঘটনা দিগন্তে প্রয়োগ করে দেখান যে ব্ল্যাক হোল থেকে বিকিরিত হচ্ছে কণা প্রবাহ। এই বিকরণ এখন হকিং বিকিরণ নামে (অথবা কখনো কখনো বেকেনস্টাইন-হকিং বিকিরণ) অভিহিত।

প্রায় ৪০ বছর ধরে হকিং তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা করেছেন। লিখিত পুস্তক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির থেকে হকিং একাডেমিক জগতে যথেষ্ট খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন। তিনি রয়েল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে তাঁকে নিয়ে একটি মুভি তৈরি হয়, নাম থিওরি অব এভরিথিং।

গ্যালিলিও গ্যালিলাই-এর মৃত্যুর ঠিক তিনশ বছর পরে, ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি য় স্টিভেন হকিংয়ের জন্ম। তার বাবা ড. ফ্রাঙ্ক হকিং একজন জীববিজ্ঞান গবেষক ও মা ইসোবেল হকিং একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। হকিংয়ের বাবা-মা উত্তর লন্ডনে থাকতেন। লন্ডনে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে তখন হকিং গর্ভে আসার পর নিরাপত্তার খাতিরে তারা অক্সফোর্ডে চলে যান। হকিংয়ের জন্মের পর তারা আবার লল্ডনে ফিরে আসেন। ফিলিপ্পা ও মেরি নামে হকিংয়ের দুই বোন রয়েছে। এছাড়া হকিং পরিবারে এডওয়ার্ড নামে এক পালকপুত্রও ছিল।

বিজ্ঞানে হকিংয়ের সহজাত আগ্রহ ছিল। হকিংয়ের বাবার ইচ্ছে ছিল হকিং যেন তাঁর মতো ডাক্তার হয়। কিন্তু হকিং গণিত পড়ার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু যেহেতু সেখানে গণিতের কোর্স পড়ানো হতো না, সেজন্য হকিং পদার্থবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়া শুরু করেন। সে সময়ে তার আগ্রহের বিষয় ছিল তাপগতিবিদ্যা, আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here