স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি

0
43

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এতোদিন এই ক্যান্সারের ব্যাপারে নারীদের সচেতন করার জোরটা ছিল বেশি, কিন্তু এখন পুরুষদেরকেও সচেতন করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। যদিও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসেবে দেখা যায় যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪১ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, সেই তুলনায় মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। যত দ্রুত স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়, তত দ্রুত তার ভয়াবহতার মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহঃ

একটি স্তনের মধ্যে লাম্প, স্তনের আকৃতিতে পরিবর্তন, ত্বকে ডিম্পল হওয়া, স্তনবৃন্ত থেকে তরল আসা, নতুন উল্টানো স্তনবৃন্ত, ত্বকের লাল স্ক্যালি প্যাচ। আপনার স্তনে যদি কোনো ধরনের অস্বস্তি বোধ করেন কিংবা অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

সতর্ক হবেন যখনঃ

স্তনের ভেতর কোন কিছু জমাট বেঁধে আছে বলে মনে হচ্ছে, কোনো মাংসপিণ্ডের মতো যা আগে ছিল না। এটা ছোট কিংবা বড় হতে পারে, অনেক সময় বাইরে থেকে দেখা যায় না কিন্তু ভেতরে অনুভূত হয়। বিশেষ করে একটি স্তনে এমন হলে। স্তনের চামড়ায় কোনো ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে, যেমন, কুঁচকে যাওয়া, গর্ত হয়ে যাওয়া, কালশিটে পড়া/ ঘা হওয়া, স্তনের রঙ বদলে যাওয়া, লালচে র্যাশ হওয়া, স্তনের চামড়া ওঠা ইত্যাদি। স্তনবৃন্তে পরিবর্তন আসা, যেমন, বৃন্ত ভেতরে ঢুকে যাওয়া, শক্ত হয়ে যাওয়া, ঘাঁ হওয়া কিংবা অস্বাভাবিক লালচে রঙ দেখা দেওয়া। স্তনবৃন্ত থেকে কোনো ধরনের তরল নিঃসৃত হওয়া স্তনে ক্রমাগত ব্যাথা, টনটনে ব্যাথা।

কীভাবে নিজে পরীক্ষা করবেনঃ

স্তন পরীক্ষা করার অনেকগুলো উপায় আছে। নিয়মিত পরীক্ষা করাটাকে রুটিন বানিয়ে ফেলুন, তাহলে আর ভুল হবে না। প্রত্যেক মাসে অন্তত এক বার, কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করে পরীক্ষা করুন নিজের স্তন ঠিক আছে কী না।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরীক্ষাঃ

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাত দুটো পাশে রাখুন, ভাল করে লক্ষ্য করুন স্তনের চামড়ায় কোন পরিবর্তন কিংবা আকারে কোনো বদল এসেছে কী না। এবার দুই হাত কোমরে রেখে বুক সামনের দিকে চিতিয়ে দেখুন স্তনে কোনো ধরনের দাগ, ঘাঁ কিংবা গর্ত আছে কী না। এবার হাত দুটো উঁচু করে আরো একবার পরীক্ষা করুন।

গোসলের সময় পরীক্ষাঃ

একটি হাত মাথায় রাখুন। আরেকটি হাতের আঙুল দিয়ে কলার বোনের কয়েক ইঞ্চি নিচ থেকে একদম বগল পর্যন্ত চেপে দেখুন, পুরো স্তনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চক্রাকারে পরীক্ষা করতে থাকুন, প্রথমে হালকাভাবে, পরে একটু চাপ দিয়ে স্তনের টিস্যুগুলো পরীক্ষা করুন। এভাবে একদম স্তনবৃন্ত পর্যন্ত পরীক্ষা করতে হবে। দুই স্তনেই পরীক্ষা করুন।

শুয়ে শুয়ে পরীক্ষাঃ

বিছানায় শুয়ে ডান দিকের কাঁধের ওপর একটি বালিশ রাখুন। ডান হাত মাথার পেছনে দিন। এবার বাম হাতের আঙুল দিয়ে চক্রাকারে ডান পাশের স্তন পুরোটা পরীক্ষা করুন। স্তনবৃন্ত চেপে ধরে নিশ্চিত হয়ে নিন কোনো তরল নিঃসৃত হচ্ছে কী না কিংবা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ব্যাপারে আছে কী না। একইভাবে এবার বাম পাশের স্তন পরীক্ষা করুন।

ডাক্তারি পরীক্ষা কতদিন অন্তর প্রয়োজনঃ

যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের হাসপাতালে স্তন পরীক্ষা অর্থাৎ ম্যামোগ্রাম করিয়ে নেয়া উচিৎ। ৪৫ বছর বয়স হতেই প্রতি ২—৫ বছর পর পর পরীক্ষা করানো জরুরী। ৫৫ বছর পর প্রতি ২ বছর অন্তর অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে। এছাড়া যারা স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন, তাদেরও নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করানো জরুরী। সর্বোপরি নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলুন।

আবু জাসরাহ -নিউইয়ার্ক ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here