হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির বন্ধু তালগাছ

0
291

নুরনবী মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি:
ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ। ঐ খানেতে বাস করে কানা বগীর ছা। প্রায়াত কবি খান মুহম্মদ মঈনউদ্দিনের এই কবিতার লাইনগুলো সবার জানা। তালগাছ আর গাঁয়ের এমন দূশ্য দেখলেই কবিতার কথা মনে পড়ে যায়। দূরের গ্রামের এমন অকৃত্রিম দৃশ্য সত্যিই মন ভুলিয়ে দেয়।
তালগাছ আর গ্রামের কুঁড়ে ঘরের দৃশ্য বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম অনুভূতির বহি:প্রকাশ। গ্রামবাংলার সব দৃশ্যই এক অনন্য। এমন মাটি আর গাছপালার ছবি যে কারও হৃদয়কে নাড়া দেবে। এমন একটি সুন্দর ছবির জন্য সৃষ্টিকতাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। কথায় আছে তালগাছ মানেই গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। আকাশ ছুঁই ছুঁই সারি সারি তালগাছ সেই আদিকাল থেকে গ্রামবাংলার শোভা বৃদ্ধিতে অকৃত্রিমভাবে ভূমিকা রেখে চলছে। সারি সারি তালগাছ দেখে মানুষের মন জুড়াতো। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় এবং শোভা সৃষ্টিতে তালগাছের জুড়ি মেলেনা।
সেই তালগাছ প্রকৃতি থেকে হারিযে যাচেছ দিন দিন। নিকট অতীতেও যে তালগাছ গ্রামবাংলায় শোভা ছড়াতো আর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করত এখন আর তেমনটা চোখে পড়েনা বলে মনে করছেন প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহন চোখে পড়ার মত হলেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের বাহক আর নানা উপকারি এই তালগাছ রক্ষায় তেমন কোন পদক্ষেপ না থাকায় ক্রমেই এটি হারিয়ে যাচেছ।
এক সময় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে কানাচে আর বিভিন্ন সড়ক আর মহাসড়কের পাশে সারি সারি তালগাছ শোভা পেতে দেখা গেছে কিন্তু সেই চিরচেনা দূশ্য আর চোখে পড়ে না তেমন। এখন হঠাৎ কোন কোন রূপসী গ্রামবাংলায় দু’চারটি তালগাছ চোখে পড়ে কিন্তু সেসব কারো লাগানো নয় এমনিতেই ঝোপ ঝাড়ে বা জঙ্গলে বেড়ে ওঠা। হয়তোবা কেউ তাল খেয়ে বীজ ফেলে রেখে গেছে সেখান থেকেই জন্ম নেয়া।
অতীতে অপরিচিত মানুষের বাড়ী, জমি, পুকুর, মাঠ, মসজিদ, মন্দিও, মঠ, গিজা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থান চেনানোর জন্য বলা হত উচুঁ ঐ তালগাছটির পাশে। এমন কি সরকারি ও বেসরকারি কাজে নানান দিক নির্দেশনার ক্ষেত্রেও তালগাছের সহায়তা নেওয়া হত। তালের পিঠা, তালের গুড় আর তালের রস সব মানুষের নিকট খুবই মজাদার খাবার। বিশেষ করে তালের পিঠা দিয়েই অতীতে জামাই বাড়ী, শ্বশুর বাড়ী, বেয়াই বাড়ী, মেয়ের শ্বশুর বাড়ী, ছেলের শ্বশুর বাড়ীসহ নানান আতœীয়তার বন্ধন রচিত হত। অতীত সময়গুলোতে তালপিঠা ছাড়া গ্রামবাংলায় আতœীয়তা কল্পনাই করা যেতনা।
এছাড়াও তালগাছের পাতায় তৈরি করা হয় নানা রঙের ডিজাইন করা হাতপাখা। গ্রামবাংলা থেকে ক্রমেই তালগাছ বিলুপ্ত হয়ে যাওযায় গ্রামবাংলার পরিবারগুলোতে নেই সেই তালপিঠার আতœীয়তা। সেই তালগাছ আজ প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত প্রায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here