হিজাবের নামে শয়ত্বানি❗

0
194

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ প্রথমে বলে রাখি, হিজাব কোন পরিধানের বস্ত্রের নাম নয়, ইহা নারী-পুরুষের উভয়ের জন্য একটা জীবন ব্যবস্থার নাম।।

.
আল্লাহ্‌ তায়ালা নারী পুরুষ সৃষ্টি করেছেন একে অপরে উপর আকর্ষিক ভাবপূর্ণ করে।। নারী দেখলে একটা পুরুষের মনে একটা অনুভূতি জাগবে এটা অস্বাভাবিক নয়।। এর জন্য মমিন পুরুষদের (বখাটে পুরুষদের নয়) বলেছে আল্লাহ্‌ দৃষ্টি এবং গুপ্তাঙ্গের হেফাজত (হিজাব) করতে।।
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ“মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের গুপ্তাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য মঙ্গল আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত আছেন।” [সূরা আন-নূরঃ ৩০]
.
বর্তমান সমাজে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাথায় একটা স্কার্ফ পেঁচিয়ে হিজাব দিবস পালিত হয়।। বিভিন্ন কালারের শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে স্কার্ফ পরিধান করাও এখন হিজাব নামকরণ করা হয়েছে।।এখন মাথায় আকর্ষণীয় ত্যানা পেঁচিয়ে রাস্তায় বেড় হলেই সে হিজাবি মেয়ে [আউজুবিল্লাহ]।।
.
আরেকটু কতিত মোডেষ্ট দেখানোর জন্য এখন আবার প্লাতযো বেড় হয়েছে,মাথায় এই নিজেদেরে উপাধি দেওয়া কালারিং হিজাব আর পরনে মাছের মতো পাঙ্খা ওয়ালা বোরকা (দেখতে ঢোলা কিন্তু বডি ফিট সুইং) আবার শর্ট, কালারিং টাইট নিচে প্লাতযো, কালারিং টাইট-ফিট বোরখা ম্যাচিং ভাড়ি মেক-আপ,লিপষ্টিক অনেকে আবার বাহারি পারফিউম ইউজার, ছেলে বন্ধুদের সাথে হাশি-তামাশা ওয়ালি হিজাবি।।
.
আচ্ছা পুরুষরা দৃষ্টিনত করে রাখবে তাই বলে কি হিজাবের নামে যা ইচ্ছা তাই চলবে?? আর বখাটে ছেলেরা কি চোখে আঙ্গুল দিয়ে রাখবে??
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ “হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু”। [সূরা আল-আহজাবঃ ৫৯]
.
রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক চক্ষুই ব্যাভিচারী। আর মহিলা যদি (কোন প্রকার) সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে ব্যভিচারিণী (খারাপ মেয়ে)।” [আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমাহ, হাকেম, সহীহুল জামে, ৪৫৪০ নং]
.
আর এখন তো হিজাবের নামে বাহারি কালেকশন যাহা কি না মমিন নারীদেরকেও উদ্ভুধ্য করে এমন আকর্ষণীয় সাজ্বে নিজেকে সজ্জিত করে বাহিরে বেড় হওয়ার জন্য। [আউজুবিল্লাহ]। যাহা অবশ্যই শয়ত্বানের গুপ্ত কৌশল।

ফেসবুকে বিভিন্ন নামে কিছু #বিজনেস_পেজ (যার অধিকাংশ এডমিন মহিলা) আছে যারা মেয়েদের দিয়ে ভিডিওর মাধ্যমে নেচে নেচে হেলে দূলে ঘুড়পাক খেয়ে ভঙ্গিমা দেখিয়ে এডভেটাইজ করে ঐ সকল কথিত হিজাব এর দিকে আকৃষ্ট করাচ্ছে।। যাহা ইসলামী হিজাবকে সম্পূর্ণরূপে অবমাননা করে শয়ত্বানি শিখাচ্ছে।। তাতে সাধারন বেপর্দা মেয়েরা বুঝে নিচ্ছে এমন আকর্ষণীয় লুক নিয়েও তারা নিজেকে রাস্তা ঘাটে এমন ভাবে উপস্থাপন করতে পারবে।। তারা কি হিজাবের নামে মুসলিম মেয়েদের মিস গাইড করছে নাহ?? আর এদের অধিকাংশ ক্লাইন্ট #World_Hijab_Day পালন করে আবার #Vanentin_Day হিজাব পরে পালন করে।। আর রাস্তা ঘাটে এমন হিজাবী দেখলে একটা বে-পর্দা মেয়ের চেয়ে বেশী আকর্ষণীয় লাগে।। এতে করে শয়ত্বান একজন মমিন পুরুষকে বেপর্দা নারীর দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হলেও শয়ত্বান কিন্তু এই কথিত হিজাবীদের দিয়ে পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটা কৌশল হিসাবে ব্যবহার করে।। তাহলে এই দৃষ্টির ব্যাভিচারের জন্য কারা দ্বায়ী হচ্ছে ভেবে দেখুন ?? ব্যবসায়ি আপুরা একটু চিন্তা করে দেখবেন।।
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। [সূরা আন-নূরঃ ১৯]
.
শুধু মুসলিমা আপুদের কাছে জানতে চাই, যারা হিজাব নিয়ে এমন শয়ত্বানি করছে তারা কি ইসলামী হিজাব ভুল ভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা করছে না ? তাদের উদ্দেশ্যে নছিহত করুন তাদের সেমিনারে গিয়ে…
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ ‘‘তোমরা সর্ব উত্তম জাতি, তোমদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করবে।” [সূরা আলে ইমরানঃ ১১০]
.
আপুরা, তাদেরকে আপনারা গিয়ে কিছু বোঝান।। বাসায় পরার মোডেস্ট ড্রেস কোনটি আর বাহিরে বেড় হওয়ার মডেস্ট ড্রেস কোনটি তাদের অবগত করুন।জাতীকে ভুল পর্দার ইন্সট্রাকশন দিচ্ছে তারা।।হিজাবের নামে ইসলামকে পূজি করে ব্যাবসা বন্ধ করতে বলুন।। তারা হিজাবের নামে জেনে নাজেনে শয়ত্বানি করছে।।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ঐ সকল মহিলা যারা ‘কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ’ থাকবে। তারা সাজ-সজ্জা করে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরুণ) উটের কুঁজের মত এদিক ওদিক হেলানো থাকবে।। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না।। অথচ, জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকেও অনুভব করা যাবে।। [সহীহ মুসলিমঃ ২১২৮।]

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ ‘কাপড় পরেও উলঙ্গ হচ্ছে সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরিধান করে যে,কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়,অথবা এমন টাইট পোশাক পরে যে,যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বোঝা যায়।’ [মাজমু’ ফাতাওয়াঃ ১৪৬/২২।]

লেখক-আবু লাইবাহ (শুভ)

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here