৬০টি ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রক ২৫ জনের নাম কেউ কেউ ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে

0
1320
সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা: শীর্ষ সাত যুবলীগ নেতাসহ ঢাকায় ৬০টি ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রক ২৫ জনের নাম বলেছেন রিমান্ডে থাকা,ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সাংগঠনিক সম্পাদকখালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। এদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
 
জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদ যাদের নাম বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন,যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান,যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট,যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমান,সহসভাপতি সোহরাব হোসেন স্বপন,সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন মনা,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ,নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন,থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম,ইমরান,বাড্ডা ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল, সহ ২৫ জন।
 
এই ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল, অভিযান শুরুর পর পালিয়েছেন সিঙ্গাপুর । ক্যাসিনোর টাকায় বাড়ি গাড়ি ফ্ল্যাট,গোপালগঞ্জের ডুপ্লেক্স বাড়ি ও এস এম রবিউল ইসলাম সোহেলের।
 
মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ক্যাসিনো থেকে দৈনিক চাঁদাবাজি করে একাধিক ফ্ল্যাট ও ১৪টি গাড়ির মালিক হয়েছেন এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল। (৪৫)। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। নিজের গ্রামের বাড়িতে ৫ কোটি টাকায় নির্মাণ করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। ২ কোটি টাকার ২টি হ্যারিয়ার গাড়িসহ ১৪টি গাড়ির মালিক। এর মধ্যে ১০টি গাড়ি দিয়েছেন পরিবহন সার্ভিসে ব্যবসার জন্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজ নামে তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৩ কোটি টাকা করে।
 
এছাড়া ক্যাসিনোর চাঁদাবাজির টাকায় তিনি একটি হাউজিং কোম্পানি খুলে সেখানে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা। একে একে বিয়ে করেছেন চারটি। কিন্তু প্রথম বিয়ে টিকেছে শুধু ৫/৬ বছর। পরের তিনটি বিয়ে গড়ে ৩/৪ মাস করে টিকেছে। সব মিলিয়ে এখন শত কোটি টাকার মালিক এই এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল।
 
তিনি ২০১০ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (উত্তর) সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর কমিটির আগামী সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী তিনি । গত বুধবার মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যাব। এর পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে সোহেল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর পালিয়ে যান। সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলের তিনি প্রিমিয়াম গ্রাহক। সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
 
সোহেলের সহযোগীরা জানান,মতিঝিল ক্লাব পাড়াসহ ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান এলাকার ক্যাসিনো থেকে প্রতিদিন চাঁদা তোলেন আরমান ও সোহেল। প্রতিটি ক্লাব থেকে দিনে ন্যূনতম ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি হয়। এই চাঁদার অংশ প্রথমে সম্রাট ও খালিদের কাছে হিসাব জমা হয়। সেখান থেকে সোহেল ক্লাব প্রতি গড়ে ১০ ভাগ কমিশন পান।
 
এই দিকে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চললেও গডফাদার হিসেবে পরিচিত সম্রাটকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না- এ প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্ট প্রায় সবার। মানুষের মাঝে ও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন খালেদের পর সম্রাটের গ্রেফতারের গুঞ্জন ছিল।
 
কিন্তু এখনও না হওয়ায় একেকজন একেক ধরনের কথা বলছেন। কেউ বলছেন,গ্রেফতার আতঙ্কে নেতাকর্মীবেষ্টিত হয়ে কাকরাইলে যুবলীগ কার্যালয়েই তিনি রাতযাপন করছেন। এর পরদিন থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এখনও ওই অফিস ঘিরে সার্বক্ষণিক যুবলীগ নেতাকর্মীদের ভিড় চোখে পড়ে।
 
আবার কেউ বলছেন নিরাপদ কোনো স্থানে আত্মগোপনে আছেন। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। পাশাপাশি তার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে অসমর্থিত একটি সূত্র জানায়,তিনি অফিসেই আছেন। মারা গেলেও তিনি পালাবেন না বলে তার সমর্থকদের জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকতে পারেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট
 
সূত্র জানায়, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের একটি প্রতিবেদন এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তার কারণেই ঢাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুয়া, মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই অবৈধ এ বাণিজ্যের আদি-অন্ত বের করা যাবে। বন্ধও করা সম্ভব অবৈধ এ ব্যবসা। এছাড়া তার কিছু লোকজনের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জন্য অনুরোধ জানানো হয় প্রতিবেদনে।
 
অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগে বুধবার যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর থেকেই সম্রাট গ্রেফতার হচ্ছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন সারা রাত সম্রাটকে তার অফিসে এক ধরনের পাহারা দিয়ে রাখেন তার কয়েকশ’ সমর্থক।
 
সম্রাটকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না,সে বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, অ্যাকশনটা শুরুর এক সপ্তাহও হল না। এক সপ্তাহের মধ্যে সব ব্যবস্থা হবে? যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব বিমান ও স্থলবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
 
ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায়। তিনি প্রয়াত ফয়েজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। সম্রাট যুবলীগে খুবই প্রভাবশালী এক নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here