❒ বিদ‘আত

0
135

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ ❒ বিদ‘আতের শাব্দিক অর্থঃ√
বিদ‘আতের অর্থ হ’ল, আরম্ভ করা, সৃষ্টি করা, আবিষ্কার করা ইত্যাদি। যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত ছিল না।
✍ আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে তাঁর নিজের সম্পর্কে এরশাদ করেছেন,
‘আসমান ও যমীনের নতুন উদ্ভাবনকারী (যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত ছিল না)’ [বাক্বারাহ ২/১১৭]।
অন্যত্র তিনি রাসূল (ছাঃ) সম্পর্কে বলেন,
‘আপনি বলুন, আমি এমন কোন রাসূল নই, যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই’ [আহকাফ ৪৬/৯]।
✍ ইমাম নববী (রহঃ) বিদ‘আত শব্দের অর্থ লিখেছেন, অর্থাৎ এমন সব কাজ করা বিদ‘আত, যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই।
❒ বিদ‘আতের পারিভাষিক অর্থ :
———————————————-
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় বিদ‘আত হ’ল, কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়, এমন কোন কাজকে ইবাদত হিসাবে নেকী পাওয়ার আশায় পালন করা। বিদ‘আত হ’ল সুন্নাতের বিপরীত। কেননা যেহেতু রাসূল (ছাঃ)-এর কথা, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে সুন্নাত বলা হয়, সেহেতু সুন্নাতের পূর্ব দৃষ্টান্ত রয়েছে। পক্ষান্তরে বিদ‘আত ইসলামী শরী‘আতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
নিম্নে বিদ‘আতের কিছু পারিভাষিক অর্থ বর্ণিত হ’ল :
✍ ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ‘শরী‘আতের মধ্যে বিদ‘আত হ’ল, নব আবিষ্কার, যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানায় ছিল না’। [ইমাম নববী (রহঃ), তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ৩/২২ পৃঃ]
✍ শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘যে সকল কাজ দ্বীনের মধ্যে মিশ্রিত হয়েছে অথচ আল্লাহ তা‘আলা তা বৈধ করেননি, সেটাই বিদ‘আত, যদিও তা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ হয়’। [শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া, আল-ইসতিক্বামাহ ১/৪২ পৃঃ]
তিনি অন্যত্র বলেন, ‘বিদ‘আত হ’ল, ইবাদত এবং বিশ্বাসের মধ্যে যা কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ অথবা বিগত উম্মতের ইজমার বিপরীত’। [শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া, মাজমু ফাতাওয়া ৮/৩৪৬ পৃঃ]
✍ আল্লামা জুরজানী (রহঃ) বলেন,
‘বিদ‘আত হ’ল সুন্নাতের বিপরীত কাজ। একে বিদ‘আত নামকরণ করা হয়েছে। কেননা বক্তা ইমামের (রাসূল) কথার বিপরীত কথা সৃষ্টি করেছে। আর এটাই নব আবিষ্কৃত কাজ যার উপর ছাহাবী ও তাবেঈগণ ছিলেন না এবং যা শারঈ দলীল দ্বারা সাব্যস্ত নয়’। [জুরজানী, আত-তা‘রীফাত ১/৬২ পৃঃ]
✍ ইমাম সুয়ূতী (রহঃ) বলেন, ‘বিদ‘আত এমন কাজকে বলা হয় যা বিরোধিতার দ্বারা শরী‘আতকে আঘাত করা হয়। অথবা শরী‘আতের মধ্যে কম-বেশী করার অভ্যাসকে ওয়াজিব করে নেওয়া হয়’। [ইমাম সুয়ূতী, আল-আমরু বিল ইত্তেবা ওয়ান নাহী আনিল ইবতিদা, ৮৮ পৃঃ]
✍ ইমাম শাতেবী (রহঃ) বলেন, ‘বিদ‘আত বলা হয় দ্বীন-ইসলামের এমন কর্মনীতি বা কর্মপন্থা চালু করাকে, যা শরী‘আতের বিপরীত এবং যা করে আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারে আতিশয্য ও বাড়াবাড়ি করাই লক্ষ্য হয়’। [ইমাম শাতেবী, আল-ই‘তিছাম ১/৩৭]
তিনি অন্যত্র বলেন, ‘ঘৃণিত বিদ‘আত হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যে সকল কাজ করার ও বর্জন করার বিধান দান করেছেন, তার ব্যতিক্রম করা’। [ইমাম শাতেবী, আল-মুয়াফাকাত ২/৩৪২ পৃঃ]
❒ বিদ‘আতের উৎপত্তিঃ
———————————-
✍ শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, ‘ইলম ও ইবাদত বিষয়ক সর্বপ্রকার বিদ‘আত খুলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফতকালের শেষের দিকেই প্রকাশ পায়। [ইবনু তাইমিয়াহ মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১০/৩৫৪ পৃঃ]
✍ এ বিষয়ে সতর্ক করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার পরে জীবিত থাকবে সে বহু ধরনের মতানৈক্য দেখতে পাবে। অতএব সে সময় তোমাদের অবশ্য কর্তব্য হবে আমার সুন্নাত ও আমার সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে চোয়ালের দাঁত দ্বারা মযবুতভাবে অাঁকড়ে ধরা। আর সাবধান! তোমরা (দ্বীনের ব্যাপারে) নতুন কাজ হতে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নতুন কাজই বিদ‘আত’। [আবুদাউদ হা/৪৬০৭; তিরমিযী হা/২৬৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৪২; মিশকাত হা/১৬৫, ‘সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ, বঙ্গানুবাদ (এমদাদিয়া) ১/১২২ পৃঃ; আলবানী, সনদ ছহীহ]
ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদত বরণের পরে যখন মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হ’ল, ঠিক তখনই সর্বপ্রথম ‘হারূরিয়্যাহ’ বিদ‘আত প্রকাশ লাভ করল। অতঃপর ছাহাবায়ে কেরামের শেষ যামানায় ‘কদর’ অর্থাৎ তাক্বদীর বলে কিছু নেই এই বিশ্বাসের বিদ‘আত প্রকাশ লাভ করে। তার পরপরই ‘ইরজা’ অর্থাৎ আমল ঈমানের অংশ নয় এই বিশ্বাসের বিদ‘আত, ‘তাশায়্যু’ অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পরে আলী (রাঃ) প্রথম খলীফা হওয়ার যোগ্য অধিকারী এই বিশ্বাসের উপর গঠিত বিদ‘আত এবং ‘খাওয়ারেজ’ অর্থাৎ কাবীরা গুনাহগার কাফের ও চিরস্থায়ী জাহান্নামী বিশ্বাসের বিদ‘আত প্রকাশ লাভ করে।
অতঃপর তাবেঈনদের শেষ যামানায় ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ)-এর মৃত্যুর পরে খোরাসানে হিশাম ইবনে আব্দুল মালেক (রহঃ)-এর খেলাফতকালে জাহমিয়াহদের উৎপত্তি হয়। আর উল্লিখিত বিদ‘আতগুলি দ্বিতীয় শতাব্দী হিজরীতে সৃষ্টি হয়। সে সময় ছাহাবায়ে কেরামের অনেকেই জীবিত ছিলেন এবং তাঁরা এ সকল বিদ‘আতকে সাধ্যমত দমন করেছিলেন। অতঃপর ইসলামের সোনালী যুগের পরে এসে ‘মু‘তাযিলা’ (যারা নিজেদের জ্ঞান বা বিবেকের মানদন্ডে শরী‘আতকে মানে) বিদ‘আতের সৃষ্টি হয়। তারপর ‘তাছাউফ’ বা ‘ছূফীবাদ’ তথা কবরপূজারীদের জন্ম হয়। এভাবে যুগের আবর্তনে বিশ্বব্যাপী রকমারী বিদ‘আতের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

লেখক- সংকলনঃ আখতার বিন আমীর।
ছালালাহ√ওমান। 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here