নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের লাশ উদার

0
363

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর রাজধানী ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের লাশ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় গজারিয়া থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। গতকাল রোববার ভোররাত থেকে ওই ছাত্র নিখোঁজ ছিলেন।

নিখোঁজ ছাত্রের নাম মো. সাইদুর রহমান ওরফে পায়েল (২১)। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার আই ব্লকে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাইদুর গত শনিবার রাত ১০টার দিকে হালিশহরের বাসা থেকে বের হন। এক ঘণ্টা পর নগরের এ কে খান গেট এলাকায় হানিফ পরিবহনের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর টিকিট নম্বর এ-৩। তাঁর এক সহপাঠীও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। গতকাল ভোররাত সাড়ে চারটায় বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মদনপুর ক্যাসেল হোটেলের সামনে যানজটে পড়ে। তখন টয়লেটের প্রয়োজনে সাইদুর বাস থেকে নামেন। তবে যানজট কেটে গেলে হানিফ পরিবহনের বাসের চালক সাইদুরকে না উঠিয়েই দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যান। ওই সময় সাইদুরের সহপাঠী ঘুমিয়ে ছিলেন।

সাইদুরের মামা কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভোরে গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাইদুরের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই দিন সকাল ছয়টায় আমার বোন কোহিনুর বেগম সাইদুরের মোবাইলে কল দেন। ফোন ধরেন বাসে থাকা তাঁর বন্ধু। এরপর আমার ভাই মো. গোলাম সরওয়ার্দী নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বাসচালকের ভুলে আমার ভাগনে গাড়িতে উঠতে ব্যর্থ হন। মুন্সিগঞ্জের এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার ভাগনের মরদেহ পাওয়ার সংবাদটি জানান।

গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো: আসাদুজ্জামান তালুকদার বলেন, আজ সকাল সাড়ে আটটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাপের চর সেতুর নিচে ফুলদী নদীতে ভাসমান অবস্থায় এক তরুণের মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃত যুবকের পকেটে একটি মানিব্যাগ ছিল। এতে লন্ড্রির রসিদ এবং জন্ম নিবন্ধন নম্বর ছিল। এগুলোর ভিত্তিতে নিহত যুবকের আত্মীয়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

আসাদুজ্জামান বলেন, মৃত ব্যক্তির নাক ও মুখে রক্ত ছিল। আর গলার ডান পাশ ও পেটের দুই পাশে কালো দাগ ও ক্ষত রয়েছে। সুরতহাল করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সাইদুরের বাবা গোলাম মাওলা ও একমাত্র ভাই গোলাম মোস্তফা কাতারপ্রবাসী। চট্টগ্রাম সাইদুরের মা কোহিনুর বেগম থাকেন। একমাত্র বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here