DNA কথন

0
57

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ আজকের পৃথিবীতে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে পিতৃ পরিচয় বড় একটি ফেক্টর। যেহেতু নারীরা বহু পুরুষের সাথে নিয়তই মিলিত হয়। সেক্ষেত্রে DNA টেস্টই তাদের একমাত্র ভরসা। এছাড়াও পোড়া বা গলে যাওয়া লাশের পরিচয় নিরুপনেও DNA পরীক্ষার বিকল্প নেই।

আমাদের মুসলিম সমাজে DNA খানিকটা ভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। আমরা প্রায় অনেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে এক এক স্থানে এসেছি বা আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এসেছেন। যেমন আমার পূর্ব পুরুষ প্রায় ৫শত পছর পূর্বে তৎকালীন হেজায হতে সিলেটে এসেছিলেন। পরে ভারতে চলে যান। এর পর আমার পিতা আসেন বাংলাদেশে এর পর আমি আসি আমেরিকায়! যাই হোক— বরাবরই আমার শখ আরবে ফেলে আসা আমার বংশের সেই লোকদের সাথে মিলিত হওয়ার।

ভাবছেন কি পাগলের প্রলাপ বকছি? জী শুনুন— ফেইসবুকে যেভাবে আমরা Mutual Friend দেখতে পাই ঠিক সেভাবেই DNA’র রিপোর্ট অনুযায়ী আপনার বংশের সকলের সন্ধান পাবেন। এমনকি কে আপনার চাচা কে আপনার কাজিন বা কে আপনার দাদি-নানি তাও জানতে পারবেন।

যেভাবে হবেঃ আজকে যেভাবে মানুষ ফেইসবুকে একাউন্ট খুলে ঠিক সেভাবেই একাউন্ট খুলবে একটি ওয়েবসাইটে। আমি নাম বলব না। সেখানে DNA রিপোর্টের তথ্য আপলোড করবে। সাথে সাথেই পৃথিবী জুড়ো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিবার ও বংশের মানুষকে পেয়ে যাবেন সম্পর্কে কে কি লাগে সে তথ্য সহ! ২০০৬ সালের পূর্বে যেভাবে কেউ কল্পনাও করেনি সেই ১৯৮০ সালে ক্লাস টু তে পড়ার সময়ের বন্ধু লিটনের সাথে পুনরায় যোগাযোগ হবে, যা ফেবুর কল্যানে আজ সম্ভবপর হল। সেভাবেই ঐ DNA বহুল প্রচলিত হওয়ার সাথে সাথেই আমরা সেই সুবিধাও পাব ইন শা আল্লাহ। ২০১৩/১৪ সালের দিকে যেভাবে মানুষ হুমড়ি খেয়ে ফেবুতে একাউন্ট খুলছিল নিকট ভবিষ্যতে সেই DNA সম্পর্কিত ওয়েবসাইটেও সবাই নিজ নিজ একাউন্ট রাখবে। DNA টেস্ট সাধারনত দু’ধরনের হয়। MT DNA এবং Y DNA. Y DNA শুধুমাত্র পুরুষের জন্য। এর দ্বারা বাবা, দাদা বা উপরের সকল বংশের সিলসিলা পাওয়া যায় এবং MT DNA পুরুষ-মহিলা সবাই করতে পারে। এর দ্বারা মাতৃ সম্পর্কিত সবার তথ্য পাওয়া যায়। এমনকি DNA পরীক্ষার মাধ্যমে ১০/২০ হাজার পূর্বে আমাদের পূর্ব পুরুষ কোথায় ছিলেন তাও বের করা যাচ্ছে। এ সম্পর্কিত সুবিশাল তথ্য ভান্ডার ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এখন যত বেশী মানুষ সম্পৃক্ত হবে তথা একাউন্ট খুলে নিজের DNA রিপোর্ট আপলোড করবে ততো বেশী সমৃদ্ধ হতে থাকবে তথ্য ভান্ডার।

অদূর ভবিষ্যতে খুবই সহজলভ্য হয়ে যাবে DNA পরীক্ষা করানোটা। যেভাবে আজকের দিনে আমরা ব্লাড প্রেসার বা ডায়বেটিস পরীক্ষা করে থাকি। আশা করা যায় ২০২৫-৩০ সাল নাগাদ পুরোদমে মানুষ ব্যবহার করা শুরু করবে এই পদ্ধতি। সম্প্রতি ডেনমার্ক হতে একজন অনাথ মহিলা সেই DNA’র মাধ্যমে পরিবারের হদিস পেয়েছেন। যিনি কয়েক দশক পূর্বে হারিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকার রাস্তায়। লিঙ্ক কমেন্ট বক্সে।

আরেকটু বলে নেই— আমি জানি আপনারা হাতে গোনা কয়েকজন বাদে অনেকের কাছেই পোষ্টটি পরিষ্কার নয়। যারা বুঝতে সক্ষম হোননি তাঁদেরকে কয়েক বছর ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ করব। যখন সবাই ব্যবহার শুরু করবে তখন আপনিও শিখে যাবেন ইন শা অল্লাহ।

আবু জাসরাহ
নিউইয়র্ক, আমেরিকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here