Monocular যার বাংলা অর্থ একচক্ষুবিশিষ্ট

0
194

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ Monocular’ যার বাংলা হল একচক্ষুবিশিষ্ট। ক্ষেত্র বিশেষে একপ্রকার একনলা বিশিষ্ঠ দূরবীনকেও মনোকুলার বলে। মনোকুলারের সবচেয়ে খারাপ দিক হল এর সাহায্যে কোন বস্তু দূর হতে দেখা গেলেও তার সঠিক আয়োতন ও অবস্থান বুঝা যায় না। যে কারনে আল্লাহ সুবঃ মানুষকে দুটি চক্ষু দিয়েছেন 3D বা ত্রিমাত্রিক দৃষ্টির জন্য, যেমনটি অন্তরকেও করেছেন অনুধাবন মূলক। তবে সূরা বাকারার ১৮ নং আয়াতের আওতাধীন ব্যক্তি ব্যতিত।
ইদানিং আমাদের সমাজেও এই মনোকুলার প্রকৃতির এক প্রকার মানুষের উপস্থিতি বেশ লক্ষনীয়। অনলাইনে তাদের সরব অবস্থান বার বার সন্দেহের উদ্রেক করে। “আহলে হাদীস” নাম শুনলেই যেন তাদের গায় জ্বালা-যন্ত্রনা শুরু হয়। যেমনটি সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিলে শয়তানের দেহে যন্ত্রনা আরম্ভ হয়।
সিলেটে একটি প্রবাদ আছে, “হখল ডেগর তেইঝফাত্তা।” অর্থাৎ সকল ডেগের তেজপাতা। মূলত তেজপাতার উপযেগ বুঝাতে প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়। লাল চা হতে কোরমা-পোলাও পর্যন্ত তেজপাতার ব্যবহার! কি আজব না! কিন্তু এমন আজব গুন যখন মানুষের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে তখন তাকে “শংকর” বলে। এর মানে মনে মনে বুঝে নেয়াই ভাল। (আকল্ মানকে লিয়ে ইশারা কাফি হেয়।)
কিছু বক্তা, আলোচক, জ্ঞানী রয়েছেন যারা প্রত্যেকটি ফিরকার সাথেই “লিয়াজো” মেনটেইন করে চলেন। ওয়াও!!! আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিঃ’র ভাষায় “গোলা আলু মার্কা”। যার কাছে যাবে তাকেই বলবে “আমিতো তোমার লোক।” আবারো ওয়াও!!!
মনে পড়ে গেল সিলেটের আরেকটি প্রবাদ, “এসকি বুজিয়া আজান।” শুদ্ধ ভাষায় এর ভাব খানিকটা “বাতাস বুঝে পাল তোলার মত।” ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী একরাতে আব্বু শুয়ে ছিলেন ইমাম সাহেবের রুমে, ইমাম সাহেবও আব্বুর বন্ধু মানুষ। হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে আব্বুর ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখলেন ইমাম সাহেব জোরে জোরে আজান দিচ্ছেন। ঘর উড়িয়ে নেয়ার মত ঝড়-তুফান হচ্ছিল। তবে যেটা আব্বুকে সবচেয়ে বেশী বিব্রত করছিল তা ছিল ঐ ইমাম সাহেবের আজান। কেননা ইমাম সাহেব কখনো জোরে আবার কখনো আস্তে আস্তে আজান দিচ্ছিলেন। পরদিন সকালে আব্বু জিজ্ঞেস করলেন আজানের শব্দ উঠা-নামা করানোর কারন। ইমাম সাহেব সিলেটী ভাষায় বললেন— “বুজইন নানি কোন, এসকি বুজিয়া আজান! তুফান বারলে আজানর শব্দও বারে। আর তুফান খমলে আওয়াজও খমে।”
অনেক মানুষ রয়েছেন যারা উপরে বর্ণিত ইমামের মতন। এসকি বুজিয়া আজান দেইন। অর্থাৎ “জীবন যেখানে যেমন।” স্থান, কাল, পাত্র ভেদে যাদের অবস্থান পাল্টাতে থাকে। লোকাল রাজনীতির ভাষায় যাকে বলে “পল্টিবাজ”। ইংরেজীতে বলে হিপোক্রেট আর আরবীতে “মুনাফেক”। এসব পল্টিবাজ, তেজপাতা, গোল আলু হতে সবাই সাবধান।

লেখক- আবু জাসরাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here