অন্ধকারের প্রতিফলন

0

75344_f5

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: এক-একজন করে ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। আর রাজনীতিবিদরা তা উপেক্ষা করে চলেছেন। বৃটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইকোনমিস্টে ‘ফ্রিডম অব স্পিচ ইন বাংলাদেশ, দ্য থার্ড ক্যাজুয়ালিটি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে গতকাল এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে এ বছর কুপিয়ে হত্যার শিকার হওয়া তৃতীয় অনলাইন লেখক অনন্ত বিজয় দাশ (৩২)। তার আগে হত্যার শিকার দুজনের মতো তিনিও ছিলেন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ব্লগার। এ অর্থে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ যে, তার লেখায় তিনি এটা স্পষ্ট করেছেন তিনি রাজনীতি প্রভাবিত ধর্মের পক্ষে ছিলেন না। কয়েক মাসে রাজপথে আরও অনেক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। এদের কেউ কেউ রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার। কিন্তু এ তিন ব্লগারের মৃত্যুতে উদ্বেগজনক এক রীতি সামনে এসেছে যা রাজনৈতিক দিগন্তে আরও বড় ধরনের অন্ধকারের প্রতিফলন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

নিহত তিন ব্লগারই ছিলেন বিজ্ঞান উৎসাহী, বইয়ের পোকা আর শিক্ষিত। তারা বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিকে চ্যালেঞ্জ করে মতামত দেয়ার সাহস দেখিয়েছেন। এতে তারা অনেকের বিরাগভাজন হয়েছেন। প্রথম হত্যার শিকার হন অভিজিৎ রায়। রাজধানীর গ্রন্থমেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাজপথে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। আমেরিকায় স্থানান্তর হয়ে সেখানেই থিতু হয়েছিলেন তিনি। ‘ভাইরাস অভ ফেইথ’ শিরোনামে তার লেখা একটি বইয়ের প্রচারণা করতে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। নিহত ২য় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান (২৭)।

ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসগুলোতে তিনি ইসলামের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা নিয়ে উপহাসমূলক ঠাট্টা করেন। তাকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া যুবকদের কট্টর ইসলামপন্থি হিসেবে শনাক্ত করা হয় দ্রুতই। অনন্ত বিজয় দাশ সম্ভবত এ দুজনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম উসকানিদায়ক ছিলেন। ‘যুক্তি’ নামের একটি ত্রৈমাসিক সম্পাদনা করতেন তিনি। আর অভিজিৎ রায়ের মুক্তমনা ব্লগে লিখতেন। ব্লগটিতে বিজ্ঞান আর সামাজিক সমালোচনামূলক বিষয়বস্তু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লিখেছেন তিনি। তার শেষ ব্লগপোস্টটি অনলাইনে আসে ১২ই মে। তখন তিনি সিলেটে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কয়েক মিনিট বাদেই মুখোশধারী চার হামলাকারী খোলা চাপাতি নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। ঘটনাস্থল ছিল তার বাসা থেকে ২০০ মিটারেরও কম দূরত্বে। সর্বশেষ লেখায় তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোকে রক্ষণশীল সিলেটে প্রচলিত বিচ্ছিন্নবাদীমূলক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন।

 

নিহত হবার আগে এ সপ্তাহে সুইডিশ দূতাবাস তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তিনি সুইডেনে স্বল্প সময়েরর সফরের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দূতাবাস কর্মকর্তারা সন্দেহ পোষণ করেন, সেখানে পৌঁছালে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করার জন্য পর্যাপ্ত কারণ পাবেন তিনি।

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here