আইসিজের নির্দেশনায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইনে ফেরার আশা দেখছেন

0


সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা:মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া চারটি অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। তারা মনে করেন,আইসিজের এই নির্দেশনার মধ্যদিয়ে রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের পথ অনেকটা  সুগম হয়েছে। বাপ-দাদার ভিটে-মাটি রাখাইনে যেতে পারবেন বলে আশায় বুক বেঁধেছেন রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ‘জাতিগত নিধন’ চালায় মিয়ানমার। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে এ সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। এ মামলায় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও সংঘাত যাতে আরও তীব্রতর না হয় এজন্য অবশ্যই পালনীয় চারটি নির্দেশনা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত।

অন্তর্বর্তী চার নির্দেশনা হলো-

এক.মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সব ধরনের হত্যা,হত্যা প্রচেষ্টা নিরসন করতে হবে।
সেই সঙ্গে দূর করতে হবে তাদের যে কোনো রকমের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা। নিশ্চিত করতে হবে তাদের অধিকার।

দুই.দেশটির সেনাবাহিনী,আধা সামরিক বাহিনী বা যে কেউ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ব্যাপারে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র,উস্কানি বা কুকর্মে সহযোগিতার সুযোগ পাবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিন.রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ধরনের প্রমাণ ধ্বংস করা যাবে না। সব প্রমাণ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

চার.এসব নির্দেশ যথাযথভাবে যে পালিত হচ্ছে, ৪ মাস পর মিয়ানমার সে বিষয়টি নিশ্চিত করে আইসিজেকে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
এরপর থেকে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক ৬ মাস অন্তর অন্তর মিয়ানমারকে এ বিষয়ক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। সেসব প্রতিবেদন গাম্বিয়াকে দেওয়া হবে। গাম্বিয়া সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের মতামত জানাবে।

এর গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর তিনদিন হেগে এ মামলার শুনানি হয়। তাতে মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি অংশ নেন।
সে সময় তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়া গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার রাখে না বলেও দাবি করা হয় মিয়ানমারের পক্ষে।

২০১৭ সার লের ২৫ আগস্টেপর থেকে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১১লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here