আজ পবিত্র আশুরা:মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল পবিত্র আশুরা  

0


জসিম ভুঁইয়া,সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়’ সারা মুসলিম বিশ্বে। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহিদ হন। এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে, আজ মধ্যরাত থেকেই বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও সংক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রোববার সরকারি ছুটির দিন। তাছাড়া,বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। অন্যদিকে,এ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত কিছু কথা…মুসলমানদের কাছে ১০ মহররম নানা কারণে অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ৬১ হিজরিতে পঞ্চম খলিফা হজরত মুয়াবিয়া (রা.) হজরত মুগির (রা.) এর পরামর্শে পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। ইসলামি শরীয়ায় বংশানুক্রমিক শাসন বা রাজতন্ত্র হারাম। তাই ইয়াজিদের কাছে বাইয়াত নিতে অস্বীকৃতি জানান ইমাম হোসাইন (রা.)। এর প্রতিবাদে তিনি মদিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। মক্কা থেকে তিনি কুফার উদ্দেশে হিজরত করেন। পথে কারবালায় থামে তার কাফেলা। ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার সঙ্গীদের আটক করে মদিনায় ফিরিয়ে নিতে উমর ইবনে সাদ আবি ওক্কাসের নেতৃত্বে চার হাজার সৈন্য কারবালায় প্রবেশ করে। সিমার ইবনে জিলজুশান মুরাদিও কারবালায় সৈন্য সমাবেশ ঘটায়। আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ইয়াজিদ বাহিনী ইমাম হোসাইন (রা.) এর শিবির অবরোধ করে। তারা পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। শিবিরের নারী-শিশুসহ সবাই তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়েন। কিন্তু ইমাম হোসাইন (রা.) আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। অবরোধ অব্যাহত থাকলে ১০ মহররম ইয়াজিদ বাহিনীর অবরোধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইমাম হোসাইন (রা.)। অসম যুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার ৭২ সঙ্গী শাহাদাতবরণ করেন। সিমার ইবনে জিলজুশান ইমাম হোসাইনের (রা.) কণ্ঠদেশে ছুরি চালিয়ে হত্যা করে।

কারবালার বেদনাদায়ক ইতিহাস ছাড়াও দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরো অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, এদিনেই আল্লাহ তায়ালা আকাশ ও মাটি সৃষ্টি করেন। কেয়ামত হবে এদিনেই। ১০ মহররম পৃথিবীতে হজরত আদম (আ.) আগমন করেন। নবী ইব্রাহিম (আ.) এর শত্রু ফেরাউনকে নীল নদে ডুবিয়ে দেয়া হয়। নুহ (আ.) এর নৌকা ঝড় থেকে রক্ষা পায়। দাউদ (আ.) এর তাওবা কবুল হয়। আইয়ুব (আ.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত ও সুস্থতা লাভ করেন। ঈসা (আ.)-কে ঊর্ধ্বাকাশে আল্লাহর নির্দেশে এদিনেই উঠিয়ে নেয়া হয়। কারবালার শোকের দিনের অনেক আগেই মহানবী (সা.) জীবদ্দশায় আশুরার দিন রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) হাদিসে বর্ণনা করেন, ‘আমি রাসূলকে ১০ মহররম রোজা পালন করতে দেখেছি। আর বলতে শুনেছি, রমজানের রোজা ছাড়া অন্য যেকোনো সময়ের রোজার চেয়ে উত্তম মহররমের রোজা। তাই আশুরার দিনে সুন্নি মুসলমানরা রোজা রাখেন। শিয়া সম্প্রদায় মার্সিয়া ও মাতমের মাধ্যমে এই দিন অতিবাহিত করে।

তাই দিবসটি উপলক্ষে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক আজ বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। সর্বশেষ,তথা”আজ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে, কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়-সময় সংবাদ বিডির পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রত্যাশা রইল। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন সকলের এবাদত কবুল করুক আমিন।

Jashim Bhuyan

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here