আনন্দ উল্লাসে, ১৪ বছরে পা দিল ইউআইটিএস

0


[dropcap]UITS Picture[/dropcap]

স্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা: আনন্দ আর উল্লাসে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) প্রতিষ্ঠার ১৩তম বছর পার করে ১৪ বছরে পা রাখল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়টি।

আজ ৭ আগস্ট ২০১৬ রবিবার দিনব্যাপী বর্নাঢ্য আয়োজনে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউআইটিএস-এর ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপিত হলো।

এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বারিধারা ক্যাম্পাস মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিকাল ৩টায় “জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে শিক্ষার ভূমিকা” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কোন শিক্ষাঙ্গনে যাতে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী কোন কর্মকান্ড সংগঠিত না হয় এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য আলোচনায় গুরুত¦ আরোপ করা হয়।

13882445_1766114153636265_7528237014477585023_n

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাঙ্গনের সন্ত্রাস আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ইদানিং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা আমাদেরকে বিচলিত করে তুলেছে। যে কোন মূল্যে এই অপতৎপরতার প্রতিরোধ করে সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর ইলেকট্রিক্যাল এ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সম্মানিয় ডিন প্রখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক  ড. এম কায়কোবাদ।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ইউআইটিএস এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও পিএইচপি পরিবারের মাননীয় চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউআইটিএস বিভিন্ন পেশাদারী শিক্ষায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এ পর্যন্ত জাতির উন্নয়নের সৈনিক হিসেবে তৈরী করার বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্যেশে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কতটুকু কাজ করছে, তার ওপর নির্ভর করে তার জীবনের সফলতা। জীবনে সফল হতে হলে একই সঙ্গে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস, নিয়মানুবর্তিতা, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা ও সততা। আর একজন মানুষ যখন এসকল গুণাবলী অর্জন করে তা পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন, তখনই তার জীবনে উন্নতি ঘটে, তার জীবন হয় উন্নত ও মহৎ। তিনি আরও বলেন, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। শিক্ষার সাথে দীক্ষা, বিদ্যার সাথে বিনয়, কর্মের সাথে নিষ্ঠা, জীবনের সাথে মুল্যবোধ, মানব প্রেম এবং দেশ প্রেমের সংমিশ্রন ঘটাতে না পারলে প্রকৃত পক্ষে সে শিক্ষা আসল শিক্ষা নয়। মানুষের মত এত মহীয়ান, এত শক্তিমান আর কোন সৃষ্টি এ বিশ্ব ভ্রমান্ডে নেই। তাই মানব সন্তানদের মধ্যে লুকানো অমৃত শক্তিকে জাগ্রত করে, মানবীয় গুণাবলীতে বলীয়ান মানব সন্তানদেরকে নিজের শক্তিতে দাড়িয়ে অভিষ্ঠ লক্ষে পৌছানোর মানসে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মন্ডলির সহায়তায় আমরা আলোকিত মানুষ তৈরী করে চলেছি।

তিনি আরো বলেন, আমার অন্তরে এ দেশের সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রচন্ড আগ্রহ আছে। এ কারনে আমি দেশের সন্তানদের অল্প খরচে সুদক্ষ ও আলোকিত মানুষ করে গড়ে তোলার লক্ষে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছি। ইউআইটিএস এর অনুষ্ঠানে কষ্ট করে উপস্থিত হওয়ার জন্য তিনি অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ডিন ড. মোঃ মিজানুর রহমান এর সঞ্চালনায় আজ ঢাকার বারিধারাস্থ ইউআইটিএস-এর ক্যাম্পাসে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান-এর সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউআইটিএস বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান এবং পিএইচপি ফ্যামিলির মানব সম্পদ ও প্রশাসনের  নির্বাহী পরিচালক আহমদ সিপারউদ্দীন। এতে স্বাগত ভাষণ দেন ইউআইটিএস-এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এস. আর. হিলালী।
অনুষ্ঠান শেষে ইউআইটিএস-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আ.ন.ম. শরীফ উপস্থিত সকল আমন্ত্রিত অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, স্কুল অব লিবারাল আর্টস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্স এর ডিন ড. আরিফাতুল কিবরিয়া, পরিচালক রিসার্চ সেন্টার অধ্যাপক মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খান, সকল বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীগন।

ছবির ক্যাপশান: ইউআইটিএস-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here