ইভটিজিং মামলায় ছাত্রলীগের ছয়নেতা জেলে কেন? নেপথ্যে কি?

0



ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-

রাজশাহী: রাজশাহীর মোহনপুর থানা এলাকায় ইভটিজিং মামলায় নিরাপরাধ ছাত্রলীগের ছয়নেতা জেলে কেন?? আর এঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানীয়ে মানব্বন্ধন করেছে মোহনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মিরা।

আজ শনিবার বিকালে থানার কামারপারা মোড়ে ঘটনার প্রতিবাদে মানব্বন্ধন করেছে স্থানীয় জনগন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এর আগে থানা পুলিশ ছাত্রলীগের এই মানব্বন্ধনে বাধা দিলেও পরবর্তিতে শান্তিপুর্ন মানব্বন্ধনে অনুমতি দিয়েছেন মোহনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসতাক আহমেদ।

মোহনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মানব্বন্ধনে যে বক্তব্য দেন তা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মোহনপুর থানার ঘাড়তেড়া এসআই তাহেরকে অপসারণ করে ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহনে প্রশাষনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এসময় মানব্বন্ধনে বক্তব্য দেন মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জিত সরকার।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের উপজেলা সহসভাপতি মো: রানা হোসেনসহ ৫ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আসামী করে মামলা দেয়া হয়।

মুলত ইভটিজিং এর ঘটনায় জড়িত ছেলেটি আত্রায় এলাকার হোসাইন (২০) পিতার নাম আনছার আলী। আর সাথে যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা ছিলো ঘটনার শিকার স্কুল ছাত্রীর পক্ষের বিচার প্রার্থী।

তিনি যা জানান, তাতে বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির ব্যার্থতায় শুধু নয়! এই ঘটনায় থানা পুলিশের অবহেলার অন্ত নেয়।

এদিকে ভিকটিম এর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেয়াটির বাবা অনেকটা আতংকিত রয়েছে। তবে মিয়েটির ছোট চাচা সময় সংবাদ বিডিকে বলেছেন, ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে জড়িত একজন। আর আমরাও জানি মামলা করেছি একজন হোসেনের নামে যে ঘটনার মুল হোতা।

তিনি বলেন, এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ যাদের আটক করেছে তারা আমার ভাস্তির প্রতি অনাচারের বিচারের দাবি করে আসছিলো। অথচ পুলিশ কেন আটক করে তাদেরকে আসামী করেছে তা আমাদের জানা নেয়।

অপর দিকে ঘটনার শিকার (ভিকটিম) আজ শনিবার স্কুলে অনুপস্থিত থাকার খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদ কর্মিরা ছুটে যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেনের কাছে।

এসময় সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাতে প্রধান শিক্ষক বলেন, বি-হাটরা গ্রামের দশম শ্রেনীর ছাত্রি (ভিকটিম) কেন স্কুলে অনুপস্থিত তা তাদের কারো জানা নেই। দু:খজনক হলেও সত্য যে তিনি এখনঅবদী ঘটনার কিছুই জানেন না। বা স্কুল ছাত্রীর বিষয়ে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে কোন খবর নেয়ার চেষ্টার করতে দেখা যায়নি।

অথচ স্কুলের ক্লাশ নিউটেন এর ছাত্র মাহফুজুর রহমান (১৯)কে আসামী করেছে পুলিশ। যার বয়সের সিমা সর্বচ্চ ১৬ বছর হবে বলেছেন মাহফুজের দুলাভাই মো: হাসান।

আরেক আসামী নাহিদ ইসলাম(২০) নামের ছেলেটির পকৃত বয়স কত হতে পারে তা অনুমেয় হলেও আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরিক্ষার্থী বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। যা পুলিশের তদন্তে উঠে আসেনি।

এবিষয়ে মানব্বন্ধনে অভিযুক্ত মোহনপুর থানার এসআই আবু তাহের সময় সংবাদ বিডিকে বলেন, এঘটনায় আমার অপসারন দাবির কোনই কারন আমি দেখছিনা। জনগন মামলা করেছে আমার কিছুই বলার নাই।

এঘটনার এক প্রত্যাক্ষদর্শী সময় সংবাদ বিডিকে বলেছেন, ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুল অভিযুক্ত হোসাইন ও ভিকটিম (ছাত্রী) উভয়ে পারিবারীক ভাবে গত এক বছর আগে তাদের বিবাহ বন্ধনের জন্য আলোচনা করেছিলেন। আর সে সময়ে হোসাইন এর সাথে ভিকটিম এর পরিবারের কিছু বিষয় নিয়ে মতান্তরের কারনে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে সময় সংবাদ বিডিকে ওসি মোসতাক আহমেদ বলেন, এই ধরনের স্পর্শ কাতর ঘটনার প্রতিবাদ হোক আমিও চাই।

তবে যে মানব্বন্ধন হবে সেটা শান্তিপুর্ন হতে হবে বলে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সম্মতি দেন ওসি মোসতাক আহমেদ।

এতেকরে বর্তমানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। আর এতে অনেকেই অপরাদ না করেও শাস্তি সয়ে চলেছেন। এক বোনের সহযোগীতা করতে এসে ফেঁসেছেন অন্তত ছয় জন। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যা সময় সংবাদ বিডির সরেজমিন প্রতিবেদনের বাস্তব চিত্রে উঠে এসেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here