উলিপুরে কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের নামে রমরমা শিক্ষা ব্যবসা

0

kurigram
রোকনুজ্জামান মানু, সময় সংবাদ বিডি-

কুড়িগ্রামঃ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত, কথা দু’টি চিরন্তর সত্য। তাই প্রত্যেক সচেতন মানুষ তার সন্তানকে যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান। তাই প্রত্যেক অভিভাবকেরা তাদের সন্তানকে নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান এবং স্বনামধন্য শিক্ষকদের তত্তাবধানে পড়াতে চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কোচিং বাণিজ্য রূপলাভ হয়েছে। বিত্তবানদের সন্তানেরা ক্লাশ কিংবা কোচিং এর মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন করতে পারলে গরীব বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে অর্থাভাবে কোচিং-এ ভর্তি করতে পারছেনা।

এমনি অবস্থায় ২০১২ সালে কয়েকজন অভিভাবক হাইকোর্টে  কোচিং বাণিজ্য বন্ধে রিট পিটিশন দাখিল করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, দেশে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিম্নমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর মাদ্রাসা দাখিল থেকে কামিল ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক শ্রেণির শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিকে কোচিং পরিচালনা করে আসছেন। এটি বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌচ্ছেছে যেখানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। যা পরিবারের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং ব্যয় নির্বাহে অভিভাবকেরা হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া অনেক শিক্ষক ক্লাশে পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে কোচিং-এ বেশি সময় ব্যয় করছেন। এতে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাকেরা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

তেমনি ভাবে উলিপুরে কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের নামে চলচে রমরমা শিক্ষা ব্যবসা। এ ধরণের অসাধু শিক্ষকদের সহযোগিতা করে আসছে সমাজের একটি কু-চক্রী মহল। উপজেলা ভরে গেছে কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেন নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষকগণ যেন শিক্ষার পসড়া নিয়ে বসেছেন। গড়ে উঠেছে পথেঘাটে কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেন। বিস্তৃত ঘটেছে শহর থেকে লোকালয় পর্যন্ত। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকগণ।

উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ১৫০টিরও বেশি কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেন শিশু নিকেতন নামে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলা সদরে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেন থাকলেও বেশিরভাগ দেখা যায় অত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। সেখানে নেই কোন ভালো ক্লাশরুম, আসবাবপত্র, টয়লেট, জোড়াতালি চেয়ার-টেবিল দিয়েই চলছে তাদের কার্যক্রম। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যানার, পোষ্টার, ফেষ্টুন ও আকর্ষণীয় গানের মাধ্যমে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আহবান করা হচ্ছে। ভর্তির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে শিক্ষার নামে প্রহসন, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মেধাবী গরিব শিক্ষার্থীরা।

কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের হিড়িক পড়ায় প্রতিনিয়ত কমছে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ছাত্র/ছাত্রীর উপস্থিতি। তাই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার মান। একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে যে, প্রতিষ্ঠান গুলোতে এসএসসি, এইচএসসি ও স্কুল কলেজের শিক্ষকেরাই বেশি।

যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় উল্লেখ আছে, কোন শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং পড়াতে পারবেন না। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠানের ১০জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে দৈনিক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের তালিকা, শ্রেণি ও রোল নম্বরসহ প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিত আকারে জানাতে হবে।

কোন শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিকে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারে যুক্ত হতে পারবেন না এবং নিজে কোন কোচিং সেন্টার গড়ে তুলতে পারবেন না। শিক্ষক কোন শিক্ষার্থীকে কোচিং-এ উৎসাহিত বা বাধ্য করতে পারবেন না। এই সব নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে তাদের কার্যক্রম। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। ফলে সচেতন অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার বিরাজ করতে দেখা যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here