করোনাঃ রাজধানীর কড়াইল বস্তির ৩০ হাজার পরিবার কর্মহীন, দুর্দশা চরমে!

0



ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-
ঢাকাঃ মহামারি করোনা ভাইরাস রোধে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির কর্মহীন মানুষের দুর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে। এতে কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছেননা স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেক্ষেত্রে তাদের ব্যাপক হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান। এজন্য তিনি দ্রুত সময়ে সমাজের বিত্তবান শ্রেণীর মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

জানা গেছে, রাজধানীর সর্ববৃহৎ ঢাকা উত্তরের ১৯ নং ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তিতে বসবাস করে নিম্ন আয়ের,অসহায় ও দরিদ্র প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। আর দেশের সবচেয়ে বড় এই বস্তির মানুষের দু-মুঠো খাবার সরবরাহে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারী ও বেসরকারী অনুদান সবমিলিয়ে এক তৃতীয়াংশ পরিবারের মানুষের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছেছে । অর্থাৎ ৩০ হাজার পরিবারের মধ্যে ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে সর্ববৃহৎ বস্তি ও ঘনবসতি হওয়ায় দুই ভাগ মানুষের মাঝে এখনো কোনই অনুদান পৌঁছেনি।

তবে অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুদান পেলে বাকি দুই ভাগ মানুষের দুর্দশা কিছুটা হলেও কমবে বলে জানান ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান।

স্থানীয় এই কাউন্সিলর বলেন, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী হতে ৪৮০ টি পরিবারকে খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় স্থানীয় ঢাকা ১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এমপির উপস্থিতিতে ২,০০০ পরিবারকে সরকারি অনুদান বিতরণ করা হয়।

এর পরে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা উওর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হতে ৫০০ পরিবার, গুলশান সোসাইটির সভাপতি মো. সাখাওয়াত এর মাধ্যমে ১,০০০ পরিবার, গুলশানের নর্থক্লাবের পক্ষ থেকে ৫০০ পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এরপর মানবিক ঢাকা এর চেয়ারম্যান আদম তামীজী হকের পক্ষ থেকে ৫০০ পরিবারের মাঝে বিস্কুট ও সাবান বিতরণ করা হয়।

পর্যায়ক্রমে এস কিউ গ্রুপের পক্ষ থেকে ২,০০০ পরিবার, গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ১০০ পরিবার ও কাউন্সিলরের নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৩,০০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত কড়াইল বস্তির ১০ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

কিন্তু এর পরেও এই বস্তির প্রায় ২০ হাজার পরিবার ব্যাপক দুর্দশার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন। যা ভাবতেই শরীর শিউরে উঠে। তবুও বিন্দু মাত্র মনোবল হারাননি এই ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, যতদিন আমি বেচেঁ আছি কড়াইল বস্তির কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না।

এই জন্য তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, সমাজে সকলে একসাথে এগিয়ে আসলে এই দুর্দশা কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

পরিশেষে তিনি করোনা মোকাবিলায় সকলকে নিজের বাড়িতে অবস্থানের পাশাপাশি সচেতন হতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এবং দেশবাসীর জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে অনুদান বিতরণে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, স্থানীয় ১৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here