করোনাতেও থেমে’ নেই’ নেতাদের-চাল চুরি

0


জসিম ভুঁইয়া, সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:করোনাতেও থেমে নেই তাদের ‘চাল চুরি’অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীদের। বিশ্বজুড়ে সর্বত্র করোনা আতঙ্ক। দেশেও ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে মারা গেছেন ২০জন। দেশজুড়ে কার্যত লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ত্রাণ সহায়তা ও দশটাকা কেজিতে চাল কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

তবে এই মহামারিতেও এক শ্রেণির অসাধু জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী তাতে হাত দিয়েছে। কেউ চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করছেন, কেউ আত্মসাত করতে গিয়ে ধরা খাচ্ছেন।

শুধু তাই নয়,ইতিমধ্যে ত্রাণ আত্মসাত ও দশ টাকা দরের চাল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেক জনপ্রতিনিধি, চালের ডিলার ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এদের বেশিরভাগই সরকারি দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা। এক উপজেলায় একাধিকবার চাল চুরি ও আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে। ইতিমধ্যে মাঠজুড়ে এরকম অভিযোগ করেছেন অনেক স্থানীয় এলাকাবাসী।

যদিও এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা এই সময়ে সহায়তা নিয়ে দুর্নীতি করবে তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাতেও থামছে না এই অপকর্ম। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের চাল চুরি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অপকর্ম দেশে নতুন নয়। নৈতিকতা নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং অতীতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি-না হওয়ায় করোনার সময়ও এরা অপকর্ম করছে। প্রতিনিয়ত এই,গরীব ও অসহায় দুঃখী মানুষকে ঠকাচ্ছে।

মার্চের শেষ দিক থেকে দেশে করোনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। আর তখন থেকেই ধরা পড়তে থাকে এসব অপকর্মকারীরা। এদের কেউ জেলেদের জন্য বরাদ্দ হওয়া চাল অন্যত্র, বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ আবার খোলা বাজারের চাল বস্তা পাল্টে অন্যত্র বিক্রি করার সময় ধরা পড়েছেন।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়,গত সোমবার পটুয়াখালীতে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ-এর চাল চুরির মামলায় সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন গ্রেপ্তার হন। এর আগে একই ঘটনায় চেয়ারম্যানের কাছের লোক মো. জাকির হোসেন ও ব্যবসায়ী সোহাগকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শুধু মনির নয়, জেলেদের জন্য বরাদ্দ হওয়া ৪৪ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন -পাথরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু। এদিকে সোমবার ঝালকাঠির বাসন্ডা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের বাসা থেকে মজুদ করা ত্রাণের আড়াই টন চাল জব্দ করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একেক জায়গায় যখন বিচ্ছিন্নভাবে চাল চুরির ঘটনা ঘটে তখন নাটোরের সিংড়ার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন শাহ্, চাল ব্যবসায়ী গোলাম মওলা ও চালের ডিলার লেবু হোসেনও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।

গত মঙ্গলবার রাতে একই ‍উপজেলায় ত্রাণের ১৩ বস্তা চালসহ ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন শাহ্সহ তিনজনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। তারা ত্রাণের চাল কিনে অন্যত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাইদুর ও তার শ্যালক আনোয়ার হোসেনও সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন চাল চুরির অপরাধে।

অপরদিকে, দক্ষিণবঙ্গ আর উত্তরবঙ্গে যখন এই অবস্থা তখন নোয়াখালী সদরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারের অভিযোগে যুবলীগ নেতা মোছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা।

আর যশোরের শহরতলীর এক গুদামে অভিযান চালিয়ে সরকারি ৮০ বস্তা চাল জব্দ করেছে ডিবি পুলিশ। এসময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি থেকে বরাদ্দ খাতের এই, চাল চুরির বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি থানায় জিডিও করেছেন।

সূত্রে জানা যায়,যখন জনপ্রতিনিধি আর রাজনৈতিক নেতারা চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন তখন শরণখোলায় আত্মসাত করে পাচারের উদ্দেশে রাখা ১৮ বস্তা সরকারি চালসহ এক দোকানি গ্রেপ্তার হন।

সূত্রে আরো জানা যায়,মাদারীপুরের শিবচরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির জন্য মজুতকরা ৬৮ বস্তা চাল জব্দ করে প্রশাসন। এতে জড়িত আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে ছাত্রলীগের বাঁশকান্দি ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।

এছাড়া ময়মনসিংগের ত্রিশালে ডিলার আব্দুল খালেক, সুনামগঞ্জে ব্যবসায়ী শওকত আলী ও ডিলার বিপ্লব সরকার, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তিনজন এবং শফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম, রংপুরে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন একই ধরণের অভিযোগে। নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি রাইস মিল থেকে একশ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার। আর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সরকারি গুদামে অবৈধভাবে চাল মজুদ করার অভিযোগে একজন আটক হয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, শুধু করোনা নয়,অন্য সময়ও আমরা দেখেছি এমন লুটপাট, দুর্নীতি করতে। কিন্তু সেগুলোর সঠিক বিচার হয়নি। হলে পরিস্থিতি এমনটা নাও হতে পারতো।

তাই-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দেশের এই করুন অবস্থায় যারা গরীব দুঃখী মানুষের হক মেরে খাচ্ছেন খুব শীঘ্রই তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন- গরিব দুঃখী অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা ।

জনস্বার্থে:-সময় সংবাদ বিডি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here