করোনায় মোহনপুরে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ইউপি চেয়ারম্যানরা, ‘ইউএনও’র সুদৃষ্টি কামনা

0


ফাইল ছবি

ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-
রাজশাহীঃ চলমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্প্রতি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের অবহেলার কমতি নেই। নেই কোন তোয়াক্কা। এমনকি সরকারি বা বেসরকারি কোন ভাবেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার পর্যন্ত দেয়া হয়নি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের। তাইতো আবেগাপ্লুত কন্ঠে দুষছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে। এখান থেকেই নাকি সকল কিছু বিতরণ করা হলেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের জন্য কিছুই জুটছেনা। এমন ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায়।

এ উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা থেকে কোন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা উপকরন না পাওয়ায় এমন অভিযোগ তোলেন।

মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল-আমীন বিশ্বাস সময় সংবাদ বিডিকে বলেন, চলমান করোনা সংকটে আমরা জনগণের সেবা করে যাচ্ছি। অথচ আমাদের জন্য সরকারি বা বেসরকারি কোন স্বাস্থ্য উপকরণ নেই। এজন্য তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

তিনি বলেন, করোনায় আমরা কুপোকাত হয়ে গেছি। আমাদের দিকে লক্ষ রাখছেননা উপজেলা প্রশাসন। আমরা স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে পড়েছি। আমাদের মাধ্যমে মাসে দুইবার চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তাই আমরা সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা স্বাস্থ্য উপকরণ পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

জাহানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমাজ উদ্দিন খান সময় সংবাদ বিডিকে বলেন, আমরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের স্বাস্থ্য উপকরণ পাইনি। তবে স্বাস্থ্য উপকরণ দেয়া হবে বলে উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জানতে পেরেছি।

রায়ঘাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত কিছু পাইনি। তবে বেসরকারি ইএলজি নামক সংস্থা থেকে কিছু স্বাস্থ্য উপকরণ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংস্থা থেকে ইউনিয়নের সকল মেম্বার ও আনসার সদস্যদের জন্য পিপি, মাক্স, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হয়েছে। তবে আমাদের তেমন কিছু দরকার নাই। যতটুকু পেয়েছি তাতেই চলবে।

বাকসিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল মোমিন সাহ গাবরু বলেন, এ ধরনের কোন স্বাস্থ্য উপকরণ আমি পাইনি। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ টি মাক্স পেয়েছি।

তিনি বলেন, সরকার থেকে স্বাস্থ্য উপকরণ আসেনি তাই আমরা পাইনি। তাছাড়া সরকারি কোন সহায়তা থাকলে অবশ্যই আমরা পেতাম।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানওয়ার হোসেন সময় সংবাদ বিডিকে বলেন, উপজেলা পরিষদে স্বাস্থ্য উপকরণ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রায়ঘাটি ইউনিয়নে বেসরকারি সংস্থা ইএলজি থেকে স্বাস্থ্য উপকরণ দেয়া হয়েছে। আর আগামীতে সকল ইউনিয়ন পরিষদে স্বাস্থ্য উপকরণ দেয়া হবে এবং এর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানান তিনি।

এব্যাপারে মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, এখন পর্যন্ত একটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ স্বাস্থ্য উপকরণ পেয়েছে। আর আগামীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ইউনিয়ন পরিষদে স্বাস্থ্য উপকরণ দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, চলমান করোনা সংকটে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সবথেকে বেশি মেলামেশা করতে হয়। এছাড়াও জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের। তাই তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকাংশে বেশি থাকে।

একারণেই শুধু মোহনপুর উপজেলা নয়, দেশের সকল চেয়ারম্যানদের প্রতি সরকারের আন্তরিক দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পুর্ন করে সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দ্রুত স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করা জুরুরি। তবেই করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকানো অনেকাংশে সম্ভব হবে বলে মনে করেন সমাজের বিশিষ্টজনরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here