করোনা ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বস্তিবাসী

0


সময় সংবাদ বিডি ঢাকা:বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি বস্তিবাসী লোক জন। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের বস্তিগুলোর নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। ছোট আয়তনের টিন ও বাঁশের তৈরি ঘরে তিন থেকে পাঁচজন বাস করেন এই বস্তিবাসীরা। করোনা ঠেকাতে হোম কোয়ারেন্টাইন সহ  নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর অনেক কিছুই তাদের মেনে চলা সম্ভব নয়।

পরিবহন,বাসাবাড়ি বা দিনমজুরের কাজ করা সীমিত আয়ের এসব মানুষকে জীবন-জীবিকার কারণেই বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংস্পর্শে আসতে হচ্ছে। এ কারণে করোনার সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন তারাই,বিশেষজ্ঞদের মতে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোক গণনা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বস্তির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৫। বস্তিবাসী ও ভাসমান খানা রয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৬টি। পৌরসভা এলাকায় আছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৪৫টি। ৩২ হাজার ৯৬০টি রয়েছে অন্যান্য শহর এলাকায়।

বিবিএসের পরিসংখ্যানে বলা হয়,বস্তিবাসী ও ভাসমান খানাগুলোর গড় সদস্যসংখ্যা ৩ দশমিক ৭৫ জন করে। এসব বস্তির বাসিন্দা ও ভাসমান মানুষগুলোর অনেকেরই ভাইরাস (কভিড-১৯) সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।

তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক রয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে তারা সেটাও জানেন না। এছাড়া উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে হাতুড়ে ও প্রতারকদের ধোঁকায় পড়ার ঝুঁকিও তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

যেখানে ছোট আয়তনের ঘিঞ্জি ঘরগুলোয় গাদাগাদি করে বসবাস করছে কয়েকজন মানুষ, সেখানে হোম কোয়ারেন্টাইনের কথা অর্থহীন। ফলে এসব বস্তি এলাকায় কেউ আক্রান্ত হলে নিঃসন্দেহেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়বে করোনা ভাইরাস। আর করোনার প্রভাবে অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়লে এর প্রথম শিকারও হবে বস্তিবাসীর ।

এইদিকে,স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, হোম  কোয়ারেন্টাইন ছাড়াও হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে এ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এসেছেন ২০৩ জন। তাদের মধ্যে ১৪৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে আছেন ১৬২ জন।

অন্যদিকে হোম কোয়ারেন্টাইনের সূত্রে জানা যায়,গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এসেছেন ২৩ জন। একই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১২ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনের জন্য ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ১৮ হাজার ৯২৩ জনকে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান করা যাবে।

এসব প্রতিষ্ঠানের সেবাদান করার জন্য ১ হাজার ১২৩ জন চিকিৎসক, ১ হাজার ৫৭৫ জন নার্স এবং অন্যান্য ১ হাজার ২৮৪ জনসহ মোট ৩ হাজার ৯৮২ জন সেবাদানকারী প্রস্তুত রয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here