কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের বাসা থেকে মদ বিয়ার উদ্ধার-দেহরক্ষীও র‌্যাব হেফাজতে

0


সময় সংবাদ বিডি– ঢাকা: নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এই,ইরফান সেলিম নিজেও একজন জনপ্রতিনিধি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি।
 
রোববার দুপুর ১২টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের ২৬ নম্বর দেবিদাসঘাট লেনে হাজী সেলিমের পৈতৃক বাড়িতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব ও ডিবি। এরআগে ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলেসহ দুজনকে আটক করে র‌্যাব।

গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর ধানমণ্ডিতে কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন সোমবার ধানমণ্ডি থানায় একটি মামলা করেন ওয়াসিফ। মামলায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, প্রোটকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই,মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-
৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।
 
ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী ধাক্কা সামলে মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই গাড়ি থেকে জাহিদ, দিপু এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজন ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করতে করতে নেমে আসে এবং ‘মারধর’ শুরু করে। তারা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ ও তার স্ত্রীকে ‘উঠিয়ে নেয়ার এবং হত্যার’ হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
 
পরে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এমপির গাড়ি ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল ধানমণ্ডি থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে এই ঘটনার পর মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। এরই মধ্যে ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তাকে রক্তাক্ত মুখে বলতে শোনা যায়, তিনি পরিচয় দেয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়েছে,তার স্ত্রীর গায়েও,হাত দিয়েছে।
 
 
                                ” রাজধানীর চকবাজারে কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বাসায়
                                    র‍্যাবের অভিযান চলছে-বিপুল মদ,বিয়ার বাসা থেকে উদ্ধার”।
                                   
ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বাসা থেকে বিপুল দেশি-বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এ ছাড়া বাসা থেকে
গুলিভর্তি একটি পিস্তল ও বেশ কিছু ওয়াকি টকি উদ্ধার করা হয়।
                         
 
অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হলেও যেসব অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে- ৩৮টি ওয়াকিটকি ও ৫টি ভিপিএস মেশিন, যা দিয়ে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার নেটওয়ার্কে কথা বলা যায়। এছাড়া পুলিশের ১টি হ্যান্ডক্যাপ, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি বিদেশি পিস্তল। পিস্তলের ম্যাগজিনে গুলি লোড করা ছিল। ১ টি ব্রিফকেস যা ভিআইপি নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিয়ার ক্যান ১২টি ও ১২টা বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here