ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে জয়ী জঙ্গিবাদীরা

0

index_101827

নিউজ ডেস্ক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা:ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে জঙ্গিবাদীরা জয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নভিত্তিক ‘দি এইজ’ পত্রিকায় এক নিবন্ধ তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াস ডিসিশন টু ক্যানসেল বাংলাদেশ টুর হ্যাজ লেট এক্সট্রিমিস্টস উইন’ শীর্ষক শিরোনামে তার এই লেখাটি আজ  প্রকাশিত হয়।

তিনি তার প্রকাশিত নিবন্ধে বলেছেন, ‘উচ্চ বিদ্যালয় পর্যায়ের যেকোনো অ্যাথলেট আপনাকে বলবে, খেলাধুলার মাধ্যমে টিমওয়ার্কের বিকাশ ঘটে, ফেয়ার প্লের উন্নয়ন, শৃঙ্খলা সঞ্চারিত হয় এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক খেলার আয়োজনগুলো বিভিন্ন দেশ ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে, সংলাপ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত কেবল খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য হতাশার নয়, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সৌজন্য শিক্ষারও একটি সুযোগ হারিয়ে গেল।

গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজ শুরুর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ১৫ সদস্যের দল চূড়ান্ত হয়েছিল।

২০০০ সাল থেকে বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক উদ্বেগের কথা জানার পর বাংলাদেশ সরকার অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেয়, স্বাভাবিক নিরাপত্তা বলবৎ থাকার পরও রাষ্ট্রপ্রধানরা সফর করলে যে ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তার সমান। তবু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল করল। এদিন জঙ্গিবাদীদের হুমকির জয় হয়।

একজন ক্রিকেটভক্ত ও উদ্বিগ্ন নাগরিক হিসেবে আমি এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। আমার কথা হলো, তাদের খেলতে দিন! সহিংসতার হুমকির কাছে আমরা মাথা নত করব না; বরং সংস্কৃতি ও মহাদেশের মেলবন্ধনে খেলাধুলার শক্তিকে আমরা আলিঙ্গন করব।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশের জন্যই হতাশাজনক। খেলার বৃহৎ মাঠে এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। বাংলাদেশের দল উত্থানের পথে। এর ওয়ানডে দল (ওডিআই) শক্তিশালী। নিজ দেশে এই দলের তরুণ অস্ট্রেলীয় দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল। এবং প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়, এই খেলা হতো প্রতিযোগিতা ও বিনোদনমূলক। খেলাটি হওয়া উচিত ছিল।

কেবল আমি একাই এ কথা বলছি না। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন স্টিভ স্মিথ এ নিয়ে সরব ছিলেন। তিনি বলেন, তিনি ও সহখেলোয়াড়রা বাংলাদেশে খেলতে আগ্রহী। দলের পূর্ণ নেতৃত্বে এটা স্মিথের প্রথম সিরিজ হতে যাচ্ছিল, সুতরাং তাঁর বেদনা বোধগম্য। একইভাবে উভয় দেশের বহু ভক্তের হৃদয় ভেঙে গেছে, যাঁরা অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরা নতুন ক্যাপ্টেনকে দেখতে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন।

স্মিথের সঙ্গে জোরালো অবস্থান নেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কিংবদন্তি ইয়ান চ্যাপেল। তিনি বলেন, ‘যদি একই রকম ঘটনা ভারত সফরে নিয়ে হতো, কী হতো তাহলে?’ সম্ভবত উত্তরটা হবে, খেলা চলত। সত্যি হলে এটা সোজা অন্যায়। স্থগিতের সিদ্ধান্তে হুল ফোটার এটি আরেকটি কারণ।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহে নেই যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক উপাদান রয়েছে। তবে এটা খুব খারাপ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা গ্রহণের পরও খেলাধুলার বাইরের বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার মানেই হলো জঙ্গিবাদীদের জন্য বিজয়; এটা তারা চেয়েছিল। আর এটা আমার দেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ক্ষতি।

সময় এবং আবারো বলছি, খেলাধুলা উভয়ই মানুষ ও বিভিন্ন জাতিকে একসঙ্গে আনতে এবং রাজনৈতিক লাভ পেতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যাই হোক, যুদ্ধের বিকল্প এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের বাহন ছাড়া অলিম্পিকস আর কী? এ কারণেই দরজা উন্মুক্ত করা এবং শান্তি-নির্মাণের উদ্যোগ হিসেবে স্পোর্টস কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে আসছে জাতিসংঘ।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার খেলা দেখার পর নয় বছর ধরে অপেক্ষা করছে ভক্তরা। বাংলাদেশের ভক্ত ও খেলোয়াড়রা অপেক্ষা করছিল এটা দেখার জন্য যে, তরুণ ও অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডের বিপক্ষে তারা কী পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের সফল বাতিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ভক্তদের দুঃখজনক। এটা খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য দুঃখজনক।

এটা দুঃখজনক যে, স্পোর্টসকে ছাড়িয়ে জয়ী হলো রাজনীতি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, একটি বৃহৎ শান্তির বাহন জঙ্গিবাদের কাছে মাথা নত করল। এ রকম হওয়া উচিত হয়নি এবং আগামীতে হওয়া উচিত হবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here