খাদ্যত্রাণ সহায়তা প্রার্থীদের তালিকা নির্ভুল ও সঠিকভাবে প্রণয়ন করতে জাসদের আহবান

0


সময় সংবাদ বিডি -ঢাকা:জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার আজ শনিবার এক বিবৃতিতে করোনাজনিত লকডাউন পরিস্থিতিতে দিন আনে দিন খায় মানুষসহ যারা কর্মহীন হয়ে খাদ্য সংকটে আছেন এমন ৭৫ লক্ষ পরিবার অর্থাৎ ৩ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে স্বাগতঃ জানিয়েছেন।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার বার হুশিয়ারি সত্ত্বেও খাদ্যত্রাণ সহায়তা প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নে বহুক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতা-দূর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলবাজী-দলীয়করণ করা হচ্ছে।
যাদের খাদ্যত্রাণ দরকার নাই তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের নাম তালিকায় আছে তারা খাদ্যত্রাণ পায়নি। আবার কেউ কেউ একাধিকবার খাদ্যত্রাণ নিয়েছে। কেউ কেউ একবারও খাদ্যত্রাণ পায়নি। স্বজনপ্রীতি ও দলবাজী এমন জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য কর্মী নিরুপায় অসহায় প্রকৃত খাদ্যত্রাণপ্রার্থীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের লোকদের নাম তালিকা অন্তর্ভুক্ত করছে যাদের খাদ্যত্রাণ দরকারই নাই।

জাসদ নেতৃবৃন্দ বলেন,সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭৫ লক্ষ পরিবারকে তালিকাভূক্ত করার কথা সেখানে এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এখনও ৪৫ লাখ ২৫ হাজার পরিবারের তালিকা তৈরিই হয়নি।

জাসদের নেতৃদ্বয়,খাদ্যত্রান সহায়তা প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণে যে সমন্বয়হীনতা-দূর্নীতি-দলীয়করণ-স্বজনপ্রীতি-দলবাজী হয়েছে তা অবিলম্বে দূর করে প্রকৃত খাদ্যত্রাণ সহায়তাপ্রার্থীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা জন্য সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার আহবান জানান। তারা একইসাথে লকডাউন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ঘোষিত ৭৫ লাখ পরিবার অর্থাৎ ৩কোটি মানুষকে খাদ্যসহায়তা প্রদানের কর্মসূচি সম্পসারিত করে আরও ৭৫ লাখ পরিবার অর্থাৎ আরও ৩ কোটি সর্বমোট ১কোটি ৫০ লক্ষ পরিবার অর্থাৎ ৬ কোটি মানুষকে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

জাসদ নেতৃদ্বয় বলেন, সুষ্ঠু ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের জন্য গ্রাম বা শহরে একটি ওয়ার্ডকে একটি ইউনিট ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাথে, ইউএনও বা ডিসির একজন প্রতিনিধি হিসাবে ১জন সরকারি কর্মকর্তা , ১জন মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক, ১জন কলেজ শিক্ষক, ঐ ওয়ার্ডে ববসবাসকারী ১ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী বা কর্মকর্তা, ১জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য, সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১ জন কর্মচারী, রেজিস্টার্ড পল্লী চিকিৎসক ১জন, ১জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকাকে সদস্য করে ত্রাণ কমিটি গঠণ করতে হবে। এই কমিটির তত্ত্বাবধানে গ্রামপুলিশ, চৌকিদার, স্বেচ্ছাসেবী যুবক নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনও করতে হবে। কারণ লকডাউন ও সামাজিক দুরত্ব রাখা কার্যকর রেখে জনসমাগম ও সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি এড়িয়ে খাদ্যত্রাণ বিতরণ করতে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে খাদ্যত্রাণ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার পদ্ধতি চালু করতে হবে।

জাসদ নেতৃদ্বয় বলেন,খাদ্যত্রাণ সহায়তাপ্রার্থীদের নাম, মোবাইল নাম্বার, বিকাশ/নগদ/রকেট নাম্বারসহ নির্ভুল ও সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। যেন প্রয়োজনে খাদ্য দেয়ার বদলে সমপরিমান টাকা তালিকভুক্ত মানুষদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেয়ার পদ্ধতি নিয়েও সরকার এগুতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here