খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা

0


নুরনবী মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি: শীতের আগমনে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার  গাছিরা। মৌসুমের শুরু থেকেই খেজুর গাছের রস সংগ্রহের প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছেন তারা। বেড়ে উঠেছে গ্রামগঞ্জে অবহেলায়-অযত্নে পড়ে থাকা প্রত্যেক খেজুর গাছের কদর। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা হাতে দা, বাটাল ও কোমরে রশি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে ছাছা-ছেলা করে নল বসান। গাছিরা প্রতিদিন বিকেলে খেজুর গাছের সাদা অংশ পরিষ্কার করে কলস বা মাটির পাত্র বেঁধে দেন পরের দিন  সকালে রস সংগ্রহ করেন। সংগ্রহীত রস জাল দিয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু গুড়।

শীত মৌসুমের শেষে গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় নবান্ন উৎসব। আর উৎসবেই খেজুর রস ও গুড় দিয়ে ঘরে ঘরে তৈরী হয় নানান রকম পিঠা। ভাপা, পুলি, মোয়া, ম্যারা, পাঠিসাপটা, রসপিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায় ঘরে ঘরে। নতুন মেহমানদের নিমন্ত্রণ করে খেজুর গুড় ও রসের তৈরি বিভিন্ন পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অত্যান্ত সুস্বাধু ও মানবদেহের উপকারিতার কারনে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে খেজুর রস। তাই শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে গ্রামে ছুটে আসে খেজুর রস খেতে। শীতের সকালে গ্রামীন পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠে। এছাড়াও শীতের সকালে খেজুর রসের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপাপিঠা খেতে গ্রামাঞ্চলের বাজারের দোকানগুলোতে বেশ ভিড় জমে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের গাছি গুনজোর আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শীত মৌসুমের শুরুতেই আমি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করা শুরু করি। প্রায় ৩৫-৩৬ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত আছি এবং এই কাজ করেই আমি স্বাবলম্বী। আমি খেজুরের রস বিত্রুি করিনা। রস আগুনে জ্বাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পাটালি এবং নালীগুড় তৈরি করি যার ফলে  কাজের চাপে বিশ্রাম নেয়ারও সময় পাই না। তিনি গুড় বিত্রুি করেন পাইকারি। নাগেশ্বরী, ভৃঙ্গামারী, বালারহাট, ফুলবাড়ী, খড়িবাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গার পাইকাররা এসে তার বানানো গুড় কিনে নিয়ে যায়। প্রতি কেজি গুড় তিনি ১০০ টাকায় বিত্রুি করেন।

হোসেন আলী(৪৯) গাছি জানান, একটি খেজুর গাছ থেকে ৮-১০ বছর পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। প্রতি বছরে ৩-৪ মাস মিষ্টি রস সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। যত বেশী শীত পড়বে তত মিষ্টি রস পাওয়া যাবে। তার বাড়িতেই খুচরাভাবে প্রতি কেজি গুড় ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। খেজুর রস আর গুড় বিত্রুি করে তারা পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন। তিনি আরও জানান, এই গুড় নিজ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপায়ে জেলার বাইরেও চলে যাচ্ছে। শীতের পিঠা এবং পায়েসের জন্য খেজুরের রস ও গুড়ের বাড়তি চাহিদা রয়েছে।

ফুলবাড়ী আবেদীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো:  মিজানুর রহমান জানান, শীতের সকাল ও খেজুর রস দুটিই আমার খুব প্রিয়। ছোটবেলায় খেজুরের রস খাওয়া আমার অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল। খেজুর রস বিত্রুেতার অপেক্ষায় প্রায় সকালে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। কনকনে ঠান্ডায় ২ টাকা দিয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা খেজুর রস খেতে কি যে একটা অনুভৃতি যারা খাননি তাদের বুঝানো কঠিন। রসের পাশাপাশি খেজুর গুড়ও আমার কাছে খুব প্রিয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here