গণপরিবহন সেক্টরে ভিআইপি শীর্ষ নেতারা ফের চাঁদাবাজিতে ব্যাস্ত

0


জাহাঙ্গীর আকন্দ, টঙ্গী(গাজীপুর) প্রতিনিধি : সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা: সম্প্রতি চলমান এই করোনা পরিস্থিতিতেও গণ পরিবহনের সেক্টরের ভিআইপি শীর্ষ নেতারা চাঁদাবাজিতে ফের -ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের মতো ভয়াবহ মহামারির কারনে দেশের সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা ঠিক সেই সময় সরকারের সকল নির্দেশনা অমান্য করে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য যেন বেড়েই চলেছে। আর দেশব্যাপী নামধারী শ্রমিক নেতাদের মধ্যে ভিআইপি পরিবহনের শীর্ষ কিছু নেতার নাম চাঁদাবাজের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে।

গাজীপুরের শিববাড়ী এলাকা থেকে ছেড়ে আসা ভিআইপি পরিবহনের এমডি আঃ রাজ্জাক, চেয়ারম্যান বাবুল শিকদার, ডিরেক্টর জিএস রিপন, শ্রমিক নেতা আমিনুল ওরফে মাথা ফাটা আমিনুল তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা নিয়মিত প্রতি গাড়ী থেকে ৩৫০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করছে। যার ফলে ভিআইপি পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট সাধারণ বাস মালিকদের নিয়মিত চাঁদা দিতে গিয়ে অনেক লোকসান পোহাতে হচ্ছে। শনিবার গাজীপুরের শিববাড়ী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ভিআইপি পরিবহনের বাসগুলো থেকে নেতাদের চাঁদা উত্তোলনের দৃশ্য দেখা গেছে।

এবিষয়ে ভিআইপি পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাসগুলো ঢাকার আজিমপুর থেকে ছেড়ে গাজীপুরের শিববাড়ী এলাকায় প্রবেশ করতে হলে আমরা যারা মালিক আছি তারা ছাড়াও চালক ও হেলপারদের বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। শিববাড়ী এলাকায় আমাদের গাড়ীগুলো থেকে চাঁদা না দিলে ভিআইপি পরিবহনের এমডি রাজ্জাক, চেয়ারম্যান বাবুল শিকদার তাদের পোষা সন্ত্রাসীদের মধ্যে শিববাড়ী এলাকার ইউসুফ, সোহেল, আমিনুল ওরফে মাথা ফাটা আমিনুল, শওকত ও ঢাকার আজিমপুর এলাকার রানা, রাসেল খান, মিজানসহ অন্যান্য আরো সন্ত্রাসী দ্বারা স্টান্ডে বাস রাখতে দিচ্ছে না এবং আমাদের গাড়ীর চালক ও হেলপারদের মারধর করছে। গাজীপুরে ভিআইপি পরিবহনের এমডি রাজ্জাক চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে গড়ে তুলেছে চাঁদাবাজ চক্র। এদের কাছেই যানবাহন চালক ও মালিকসহ সবাই জিম্মি হয়ে পড়েছে। নিয়মিতহারে চাঁদা দিতে গিয়ে আমাদের অনেক লোকসানের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ী কিনেছেন তাঁরা ব্যাংকের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছেনা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর যৌথ সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে মহামরী করোনায় গত ০১লা জুন ২০২০ইং তারিখে গনপরিবহন সচল হওয়ার সময় থেকে পরিবহন খাতে কোন যানবাহন হতে সড়ক-মহাসড়ক ও বাস-ট্রাক টার্মিনাল বা অন্য কোথাও অবৈধভাবে কোন ধরনের চাঁদা উত্তোলন করা যাবেনা। এ বিধানের কোন রূপ ব্যাঘাত ঘটলে নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় ভিআইপির বাস চালক (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৪৯৫) শহিদুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের শিববাড়ী এলাকায় জিপি-৩৫০ টাকা, লাইনম্যানকে ৬০ টাকা ও চেকারসহ মোট ৬৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। আমরা চালকরা গাজীপুরে এমডি রাজ্জাক, চেয়ারম্যান বাবুল, ইউসুফ, আমিনুল ওরফে মাথা ফাটা আমিনুল, শওকত ও সোহেলকে এসব চাঁদা দিয়ে থাকি এছাড়া ঢাকার আজিমপুর এলাকার দিতে হয় ৮০ টাকা এখানকার চাঁদা উত্তোলন করে রানা, রাসেল খান ও মিজান। অনেক সময় চাঁদা না দিলে স্টান্ডে আমাদের বাস রাখতে দেয়া হচ্ছেনা।

এবিষয়ে ভি.আই.পি পরিবহনের এমডি রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গাড়ীর মালিক বা চালকদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার প্রশ্ন উঠে না। আমি বা আমার লোকজন এমন কোন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট না।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা যানবাহন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু বলেন, গাজীপুরের শিববাড়ী এলাকায় ভিআইপি গাড়ির এমডি রাজ্জাক চাঁদা উত্তোলনের ব্যাপারে বিভিন্ন গাড়ীর মালিক ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেছে। আমরা এমডি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here