ঘাত-প্রতিঘাতেও মাকে কখনো ভেঙ্গে পড়তে দেখিনি: প্রধানমন্ত্রী

0


Hasinaস্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার মার জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। কিন্তু মাকে কখনো ভেঙ্গে পড়তে দেখিনি।

সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ব্ঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তার বড় মেয়ে, বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কখনো দেখিনি বাবাকে বলেছেন, রাজনীতি ছেড়ে দাও। কখনো না। কোন প্রয়োজনেও আমার বাবাকে বিরক্ত করেননি তিনি। মেয়েদের অনেক আকাঙ্খা থাকে, শাড়ি, গহনা, গাড়ি-বাড়ি। কিন্তু কখন তিনি মুখ ফুটে কিছু বলেননি।
শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে বলেন, আগস্ট মাস, এ মাসেই আমার ছোট ভাই শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেছিল। আবার এই মাসেই আমার পরিবারের সদস্যদের ঘাতকরা গুলি করে হত্যা করে। তার এই স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতার সময় ওসমানী মিলনায়নে পিনপতন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল। অধীর আগ্রহে অতিথিরা শুনছিলেন মহীয়সী নারী ফজিলাতুন্নেছার না জানা অনেক কথা।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বামীকে কম সময় তিনি (বঙ্গমাতা) কাছে পেতেন। আমার বাবার জীবন যদি দেখি, কখন একটানা দুটি বছর আমরা বাবাকে কাছে পাইনি। স্ত্রী হিসেবে আমার মা ঠিক সেইভাবে বঞ্চিত ছিলেন। কিন্তু কখন, কোনদিন তিনি অনুযোগ-অভিযোগ করতেন না।
তিনি বলেন, তিনি (মা) বিশ্বাস করতেন তিনি (বঙ্গবন্ধু) দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছেন। সেই সময় আমার দাদা সব টাকা আমার মাকে দিতেন। মা একটি টাকাও নিজের জন্য জমিয়ে রাখতেন না। তিনি তার অংশটুকু, নিজেকে বঞ্চিত করে, আমার বাবাকে দিতেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ওপর নেমে আসা পাকিস্তানী শাসকদের জুলুম-নির্যাতনের কথাও বর্ণনা করেন শেখ হাসিনা। আগুণ ঝরা সেই দিনগুলোতে দেশের মানুষের জন্য বঙ্গমাতার ত্যাগের কথাও বর্ণনা করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মা অনেক ধৈর্য ধরে পরিবার সামলাতেন। এমনো দিন গেছে যে বাজার করতে পারেননি। আমাদের কিন্তু বলেননি, আমার টাকা নাই। চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে আচার দিয়ে বলতেন, চলো আমরা গরীব খিচুড়ি খাব। অভাব-অনটনের কথা, হা- হুতাশ কখনো তার মুখে শুনিনি।
১৯৩০ সালের এইদিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব কেবল একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিনীই নন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী।
– See more at: http://www.manobkantha.com/2016/08/08/147243.php#sthash.o5VMfyOu.dpuf

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here