চীনের দৃষ্টিতে মোদির ঢাকা সফর

0

78776_f5

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: ‘তৃষ্ণার্ত বাংলাদেশ’কে রেখে ঢাকা সফর গুটালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশে দুদিনের সফর গুটিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বিমানবাহিনীর বিশেষ একটি ফ্লাইটে নয়া দিল্লি ফিরে গেলেন। এ সময় তাকে বিদায় জানাতে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীরা ও সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এর আগে বিকালে মোদি সাক্ষাৎ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে।

বিভিন্ন বিষয়ে তারা আলোচনা করেন। দিল্লির তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্তেও দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হয়নি। তবুও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকে অতি ফলপ্রসূ হিসেবে আখ্যয়িত করেছেন। এতে বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হয়েছে। প্রতিবাদ করেছে। এই সফরে সিরিজ চুক্তি ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থলসীমান্ত চুক্তি। সফরের সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক ২২টি চুক্তি ও সহযোগিতামূলক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ঢাকা ও দিল্লি। ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন সংক্রান্ত ও ২০১১ সালের প্রটোকল সংক্রান্ত কাগজপত্র বিনিময় ছিল এক মাইলফলক।

বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি ও এ সংক্রান্ত ২০১১ সালের প্রটোকল বাস্তবায়নের কার্যপদ্ধতির চিঠি বিনিময় স্বাক্ষর করেছে। ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি ও এ সংক্রান্ত ২০১১ সালের প্রটোকল অনুমোদনের প্রমাণপত্র বিনিময়ের মাধ্যমে ভারতের ভিতরে অবস্থিত বাংলাদেশী ৫০টি ছিমহল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভিতরে ভারতের প্রায় ১০০টি ছিটমহল ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। দুই প্রতিবেশী দেশ এছাড়া স্বাক্ষর করেছে একটি সমঝোতা স্বারক। এর অধীনে বাংলাদেশ সরকারকে ভারত সরকার নতুন করে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। এটি ছাড়াও ব্লু-ইকোনমি, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পারসপরিক সহযোগিতা, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির সফরে ঢাকায় বিক্ষোভও হয়েছে। শনিবার বিকালে মোদি পৌঁছানোর পর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশের সড়কে একদল প্রতিবাদকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় হাজারো মুসলমানকে হত্যার পেছনে এখনও দায়ী করা হয় মোদিকে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা সিনহুয়াকে জানান, একজন নারীসহ ৪ বিক্ষোভকারীকে তারা আটক করেছেন। তারা শনিবার বিকালের দিকে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশে মোদিবিরোধী সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করছিল। ওই কর্মকর্তা জানান, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা না হওয়ায়, হতাশ বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করছিলেন।

প্রত্যাশা ছিল, মোদির সফরের সময় বহুদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে। কিন্তু কয়েক দিন আগেই দিল্লি পরিষ্কার ভাষায় বলে দেয়, মোদির বাংলাদেশ সফরে তিস্তা ইস্যু নিয়ে কোন আলোচনা হবে না। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পানির ইস্যুটি সমাধান করতে হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা তা করতে সক্ষম হবো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদির কথায় বাংলাদেশী জনগণ খুব একটা আশ্বস্ত হবে না। তাদের ভাষ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সরকার তিস্তার প্রায় সবটুকু পানি নিজেরা রেখে দিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সামপ্রতিক বছরগুলোতে খুব অল্প পানিই অবশিষ্ট ছিল। এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, মোদি এক পিপাসার্ত বাংলাদেশকে পেছনে রেখে গেলেন। তিস্তা চুক্তি ব্যতীত ওই সফর এখন আমাদের জন্য গভীর হতাশার একটি বিষয়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফর করেন। সেবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক আলোচনাকেও ঢেকে দিয়েছিল তিস্তা চুক্তি থেকে শেষ মুহূর্তে নয়া দিল্লির পিছু হটার নাটকীয় সিদ্ধান্ত। কূটনৈতিক এক চালে, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মনমোহন সিং-এর বাংলাদেশ সফরের একদিন আগে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া বাতিল করে দিল্লি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here