টঙ্গীতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সচেতনতামূলক কর্মশালা

0

সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা: মো: জাহাঙ্গীর আকন্দ, টঙ্গী: টঙ্গীতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা গতকাল বুধবার আরমান এ্যাম্পাওয়ারমেন্ট এন্ড রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের উদ্যোগে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বাস্তবায়নে সুইস রেড ক্রসয়ের সহযোগিতায় টঙ্গীর টিডিপি মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টিডিপি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকলেছুর রহমান ভূঁইয়া, গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম তিতাস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন জয়, রেড ক্রিসেন্টের মাঠ কর্মী শারমিন আক্তার, শেখ নাসির উদ্দিন, জীবন দাস, গাজীপুর মুক্তমঞ্চ নির্বাক দল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আল আমিন, সৌরভ চন্দ্র পাল প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক নাটিকা ও ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

আমিনুল বললেন,আমাদের নোংরা পরিবেশ আমাদেরই কর্মফল। বাইরের কেউ এসে আমাদের এখানে ময়লা ফেলে না। এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণার ইচ্ছা কীভাবে জাগল প্রশ্নে আমিনুল বলেন, তিনি ২০১২ সালে দুই মাসের জন্য জাপান গিয়েছেন। সেখানকার পরিবেশ দেখে বুঝতে পারেন, চাইলেই নিজের দেশকেও পরিচ্ছন্ন রাখা যায়। এর জন্য দরকার সচেতনতা। তাই ২০১৩ সাল থেকে তিনি একাই রাস্তায় নেমে পড়েন। নিজের সামাজিক আন্দোলনের নাম দেন পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ।

এ পর্যন্ত দেশের ৮-১০টি শহর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন আমিনুল। নিজের খরচে পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করেছেন। প্রথমে দুটি পোস্টার নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, স্মৃতিসৌধ, সংসদ ভবন এলাকায় দাঁড়াতেন। মানুষের উৎসাহ পেয়ে পোস্টারের সংখ্যা বাড়ান। চাকার বাক্স তৈরি করেন। আমিনুল বলেন, কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দিয়ে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। তাই আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা দরকার।

আর পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে ছাত্রসমাজকে আগে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি সচেতন হন এবং অন্যকে সচেতন করেন, তাহলে পরিচ্ছন্ন দেশ গড়া সময়ের ব্যাপার। তাঁর চাওয়া, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি স্কুলেসহ শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হোক।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৪৯নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিল ফারুক আহাম্মেদ বলেন, একজন বিসিএস ক্যাডার এভাবে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিষয়টি দেখে খুবই ভালো লাগল আমি তার কাজ কে মন থেকে সম্মান করি।

এখন থেকে যেখানে-সেখানে থুতু ফেলার আগে স্যারের কথা মনে পড়বে এবং স্যার এর আনন্দোল এর সাথে একাত্ততা গোশোনা করছি যে আমার ওয়ার্ড এ আমি কোন প্রকার আবর্জনা থাকতে দিবো না ঘর থেকে শুরু করবো শেষ করবো রাষ্ট্র দিয়ে তাহলেই আমাদের সোনার বাংলাকে কে ডার্টি কান্ট্রি (নোংরা দেশ) বলতে পারবেনা।

এইদিকে টঙ্গীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, আটক ১০

মো: জাহাঙ্গীর আকন্দ,টঙ্গী: টঙ্গী বাজার এলাকায় তুরাগ নদের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের মত চলে এ অভিযান। তুরাগ তীরের জমি অবৈধ ভাবে দখল করে গড়ে ওঠা টিনশেড ঘর, আধাপাঁকা স্থাপনা ও বহুতল ভবনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ১০ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, রাশেদ (৫৩), আফজাল হোসেন (৪৫), আলম হোসেন (২৮), আঃ রহিম (৩৮), শাকিল হোসেন (২৮), সোহাগ মিয়া (১৯), মো. রেজাউল (৩৫), নাইম (৪৫), রাজেন (৫৫) ও বশির মিয়া (২৬)। এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান হাকিম।

এ অভিযানটি এক সপ্তাহ ব্যাপী চলমান থাকবে। টঙ্গী বাজার এলাকা শেষ করে টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত সকলস্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার তুরাগ তীরের উচ্ছেদকৃত বিভিন্ন স্থাপনা নিলামে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রয় করে দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এছাড়া একই দিন ৭৫ হাজার টাকা নগদ জরিমানা আদায় ও ৫ জনকে আটক করা হয়। এসময় অবমুক্তকৃত তুরাগের ৩.৫ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে ১ জনকে ২ বছর, ২ জনকে ৬ মাস, ১ জনকে ৪ মাস ও অপর ১ জনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রধান করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এবিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান হাকিম বলেন, কোনো আইন ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই তুরাগ নদের তীরে গড়ে ওঠেছে শত শত বসতবাড়ি, ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান।

দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার টঙ্গী বাজার ব্রীজ পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়াও, যদি পরবর্তীতে একইভাবে তুরাগের দু’পাশে দখলের অভিযোগ আসে, তাহলে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সাথে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে বারবার তুরাগ নদের পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সেগুলো পুনঃরায় দখলে নিয়ে যায় একশ্রেণীর প্রভাবশালীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here