টঙ্গীতে শ্রমিকদের বেতন ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ- সড়ক অবরোধ ও গাড়িতে আগুন

0


জাহাঙ্গীর আকন্দ,সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা: টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত শতভাগ বেতন, বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস এবং কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে টঙ্গীর শিল্পাঞ্চল এলাকা। বেশ কয়েকটি নামী-দামী পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক বিক্ষোভসহ কারখানা ভাংচুর, যানবাহনে অগ্নি-সংযোগ, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং টঙ্গী কালীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করছে।

এসময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইঠ-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে একপর্যায়ে বিক্ষুব্দ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

জানা যায়, গাজীপুর শিল্প পুলিশ, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইঠ-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়সনসিংহ মহাসড়কের উভয় দিকে পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহনের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ প্রশাসন জানায়, সকাল ৮টা থেকে টঙ্গী শিল্পনগরীর বিসিক এলাকার রেডিসন গার্মেন্টস লি. ও প্যাট্রিয়ট ইকো এ্যাপারেলসসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা প্রথমে বিসিক এলাকায় আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে আরো কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক একত্র হয়ে তাদের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও পূর্ণ বেতনসহ কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের হাত থেকে শতভাগ সুরক্ষার দাবিতে মেঘনা রোডের আলম টাওয়ারের ব্রাভো এ্যাপারেলস, মা টাওয়ারের এ্যামট্রানেট এ্যাপারেলস, মিলগেইট এলাকার হামিম গ্রুপের দ্যাটস ইট গার্মেন্টস লিঃ কারখানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরসহ উত্তেজিত শ্রমিকরা হামিম গ্রুপের একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নি সংযোগ করে। পরে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। এ সময় তারা মিলগেটে প্রধান সড়কে একটি টায়ারেও আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে বিসিক এলাকার গার্মেন্ট শ্রমিকরা হামীম গ্রুপের গার্মেন্টে গিয়ে হামলা ও ভাংচুরের পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়।

শ্রমিকরা জানান, ঈদ বোনাস ও শতভাগ বেতন পরিশোধ এবং গার্মেন্টসে চাকুরিরত অবস্থায় কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের হাত থেকে শতভাগ সুরক্ষা ও তাদের জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছেন। বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস এবং পূর্ণ বেতন দিতে রাজি হচ্ছে না রেডিসন গার্মেন্টস লি.,প্যাট্রিয়ট ইকো এ্যাপারেলস লিঃ, আলম টাওয়ারের ব্রাভো এ্যাপারেলস, মা টাওয়ারের এ্যামট্রানেট এ্যাপারেলস, মিলগেইট এলাকার হামিম গ্রুপের দ্যাটস ইট গার্মেন্টস লিঃ কারখানাসহ বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং শ্রমিকরা কয়েক দফায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিং করার পরও শ্রমিকদের বেতন ভাতার কোনো সমাধান হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছে। তারপরও আমরা জন নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে টঙ্গী শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রাজ্জাকুল হায়দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শতভাগ বেতন ও সুরক্ষার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন এক পর্যায়ে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। শ্রমিকরা খুবই উশৃঙ্খল আচরণ করেছে। এমনকি সাংবাদিকসহ কেউ ছবি তুলতে চাইলে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নিচ্ছিলো। তবে পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়নের পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বেতন ভাতার দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান করেছিলো। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লক-ডাউন চলাকালে যে সকল কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করতে পারেননি শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের বেতনের ৬০ শতাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শ্রমিকরা শতভাগ বেতন, ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here